গত কয়েকবছর ধরে টেস্ট দলের নিয়মিত মুখ এবাদত হোসেন চৌধুরী।
কিন্তু বছরখানেক আগেও তাকে নিয়ে ছিল ভক্তদের চরম বিরক্তি। দলে এবাদতের জায়গা নিয়েই প্রশ্ন তুলতেন সবাই।
তবে এবাদত নিন্দুকের সেই নিন্দার জবাব দিয়েছিলেন ২০২২ সালের জানুয়ারিতে। করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক পারফর্ম।
এবাদতের দুর্দান্ত বোলিং তোপে ,প্রথমবারের মতো কিউইদের বিপক্ষে, অধরা জয় পায় বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়, সেটিও আবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই।
এবাদতের সেই বোলিং স্পেলই এবার পেয়েছে ,উইজডেনের বর্ষসেরা টেস্ট বোলিং স্পেলের মর্যাদা।
২০২২ সালে সেরা পাঁচ বোলিং স্পেলের তালিকা প্রকাশ করেছে উইজডেন।
যেখানে এবাদত পেছনে ফেলেছেন কামিন্স-রবিনসনদের মতো বোলারদের।
২০২২ সালের পহেলা জানুয়ারি, মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশ।
মাউন্ট মঙ্গানুইতে হয়েছিল টেস্ট ম্যাচটি। আগে ব্যাট করেছিল নিউজিল্যান্ড।
প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকরা করেছিল ৩২৮ রান। সেখানে এবাদত পেয়েছিলেন কেবল একটি উইকেট।
নিউজিল্যান্ডের উইকেটরক্ষক “টম ব্লান্ডেলকে” বোল্ড করেছিলেন এই ডানহাতি পেসার।
প্রথম ইনিংসে মাত্র এক উইকেট নেওয়া এবাদতই, যে দ্বিতীয় ইনিংসে কিউইদের ধসিয়ে দিবেন- তা নিউজিল্যান্ড তো বটেই, বাংলাদেশের কেউও ভাবতে পারেননি।
কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেই অসাধ্যই সাধন করেন এবাদত।
নিউজিল্যান্ডের ৩৬৮ রানের জবাবে লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। টাইগাররা প্রথম ইনিংসে করেছিল ৪৫৮ রান।
ব্যাট হাতে ভালো রান পেয়েছিলেন লিটন দাস, মুমিনুল হক, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
তবে সব ব্যাটারদেরকে পেছনে ফেলে জয়ের নায়ক হন বোলার এবাদত।
দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় উইকেটটি শিকার করেন এবাদত। তারপর সবাইকে অবাক করে দেন তিনি।
এবাদতের বোলিং দেখে তখন মনে হচ্ছিল, নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের উইকেট পাওয়া যেন খুব সহজ।
এবাদতের একেকটি উইকেট আর একেকটি স্যালুটে ,সেদিন মাউন্ট মঙ্গানুই হয়ে উঠেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ।
কিউই ব্যাটিং অর্ডারের দ্বিতীয় থেকে সপ্তম, টানা ছয়টি উইকেট শিকার করেন এই ডানহাতি পেসার।
এবাদতের স্যালুট নিয়ে মাঠ ছাড়েন ডেভন কনওয়ে,
উইল ইয়ং, হেনরি নিকোলস, টম ব্লান্ডেন, রস টেইলর ও কাইল জেমিসন। মাত্র ১৬৯ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।
এবাদতের বোলিং তোপের কল্যাণে, বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৪০ রান। দুইটি উইকেট হারিয়েই জয় পায় বাংলাদেশ।
ছয় উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন এবাদত। এই জয় দিয়েই সবার মন জয় করে ফেলেন তিনি।
২১ ওভারে ৪৬ রান খরচায় এবাদত নেন ছয়টি উইকেট। মেডেন ওভারও করেন ছয়টি।
নিউজিল্যান্ডকে হারানো এবাদতের এই বোলিং স্পেল জয় করে নিলো এবার উইজডেনও।
ক্রিকেটের বাইবেল উইজডেনের বর্ষসেরা টেস্ট বোলিং স্পেলের, প্রথমস্থান দখল করেছে এবাদতের এই ম্যাচজয়ী স্পেল।
এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে ,অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের ৫৬ রানের বিনিময়ে পাঁচ উইকেট।
পাকিস্তানের মাটিতে স্বাগতিকদের হারানো ম্যাচে এই ফাইফার পেয়েছিলেন কামিন্স।
পরের স্থানে অর্থাৎ তৃতীয় স্থানে আছে নিউজিল্যান্ডের ম্যাট হেনরির স্পেল। তিনি মাত্র ২৩ রানের বিনিময়ে সাত উইকেট পেয়েছিলেন।
হেনরির এই বিধ্বংসী বোলিং স্পেল ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তবে সাতটি উইকেট শিকার করেও উইজডেনের চোখে এবাদতের ছয় উইকেটকে পেছনে ফেলতে পারেননি হেনরি।
উইজডেনের এই তালিকার চতুর্থস্থানে আছে, ওলি রবিনসনের ৫০ রানে পাঁচ উইকেট। এটিও পাকিস্তানের বিপক্ষে পাকিস্তানের মাটিতেই।
তালিকার শেষ অর্থাৎ পঞ্চম স্থানে আছে শ্রীলঙ্কার প্রভাত জয়সুরিয়ার ৫৯ রানে ছয়টি উইকেট। অভিষেকেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ,এই দারুণ পারফরম্যান্স করেছিলেন লঙ্কান স্পিনার।