ক্লাব বিরতির মাঝেই ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার খেলা। সোনালী ট্রফিটি পাওয়ার পর এই প্রথম মাঠে নামবে মেসিরা। থ্রি স্টার পরিহিত জার্সি পড়ে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা।
আগামী শুক্রবার ২৪ শে মার্চ রাত ৩ টায় মেসিরা খেলবে পানামার বিপক্ষে।অন্যদিকে ব্রাজিলেরও প্রীতি ম্যাচ রয়েছে কাতার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর বিপক্ষে। আগামী ২৬ শে মার্চ রবিবার রাত চারটায়, মরক্কোর মাঠেই খেলবে ৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা। আর্জেন্টিনার খেলা হবে নিজেদের মাঠ ইস্তাদিও মাস মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামেই।
মুলত বিশ্বকাপ উদযাপনটাকে ঘরোয়াভাবে আয়োজন করার জন্যই এমন উদ্যোগ। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের লাখো দর্শকেরা, সামনা সামনি দেখবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মেসিদের খেলা।
ইতিমধ্যে শোনা গেছে অনলাইনে টিকেট কেনার দুম পড়ে গেছে এই ম্যাচকে ঘিরে।প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ একসাথে টিকেট কিনতে চেয়েছে অনলাইনে।
অথচ এই স্টেডিয়ামের দর্শক ধারন ক্ষমতা মাত্র ৮৩ হাজার।অবশ্য মেসিদের এই ম্যাচটি ঘিরে আর্জেন্টিনা ভক্তদের এমন আগ্রহ থাকবেইবা না কেন?
সোনালি ট্রফির জন্য অপেক্ষা প্রায় তিন যুগেরও বেশি।
সেই ১৯৮৬ সালে শেষবার ম্যারাডোনা একক নৈপুণ্যে বিশ্বকাপ শিরোপা জিতিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুইয়েস এইরেসে বুনো উল্লাসে মেতে ছিল কোটি কোটি দর্শকেরা।
এরপর অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হতে থাকে। অবশেষে মেসি আসার পর থেকেই, আশার পালে পাখা জন্মেছে। ২০১৪ সালে একটুর জন্য সেটা হলোনা, এবার ২০২২ সালে ঠিক সফল হয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।এবার সেই উদযাপনটাকে স্মরনীয় করে রাখার জন্যই, এমন ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা টিম ম্যানেজমেন্টের।
এরই মাঝে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা,যে যার মতো করে নিজ দেশে চলে গেছে। বহুদিন পর চ্যাম্পিয়নরা আবার একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।আর্জেন্টিনার যেমন সোনালী ট্রফিতে সোনালি দিন কাটছে,ঠিক বিপরীতে ব্রাজিলের কপাল পুড়ছে বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর থেকে।
হেক্সা মিশনটা যে এতো দীর্ঘ হবে কেইবা জানতো?বিশ্বকাপ পাওয়াটা যাদের কাছে অভ্যাসে পরিনত হচ্ছিল, তাদেরকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে আরো ৪ বছর।
ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নিয়েছে নেইমাররা। সেই শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারছেনা তারা।বিশেষ করে নেইমার তো শোকের সাথে নিজের ফর্ম টাও যে হারাতে বসেছে। ক্লাব ফুটবলেও ব্যর্থতার ধারা অব্যাহত। আবার বড় ধরনের ইঞ্জুরির কারনে তাকে মাঠে পাচ্ছেনা । মরক্কোর বিপক্ষে এই ইঞ্জুরির কারনে অনেক প্লেয়ারকেই পাচ্ছেনা সেলেসাওরা।
নেইমারের ইঞ্জুরি তো এই মৌসুমের পুরটা সময়। অভিজ্ঞ প্লেয়ার মার্কোইনোসকেও পাচ্ছেনা মরক্কোর বিপক্ষে। এরই মাঝে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে দেখা গেছে রিচার্লিসনকে।
বেশ কিছুদিন আগে ,মরক্কোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য, স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। সেই স্কোয়াডে রাখা হয়নি বিশ্বকাপের অন্তত ১৫ জনকে। কাতার বিশ্বকাপ ব্যর্থতার দায়ে কোচ তিতে পদত্যাগ করার পর, ব্রাজিল দলের অন্তবর্তীকালিন কোচ হয়েছেন র্যামন ম্যানেজেস।
মুলত তিনিই বিশ্বকাপে বাজে পারফর্মেন্সের কারনে বাদ দিয়ে দিয়েছেন ১৫ জন খেলোয়াড়কে।তার মাঝে রুঢ় হলেও সত্য, যে বিশ্বসেরা গোলকিপার এলিসন বেকারকে রাখা হয়নি দলে। বার্সেলোনায় দুর্দান্ত খেলতে থাকা রাফিনহাকে, ডাকা হয়নি মরক্কোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে।
তবে আশার খবর হচ্ছে, বেশ কিছু দিন আগে অনুর্ধ-২০, কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দলের যুবাদের অনেক জনকে এই দলে ডাকা হয়েছে।তাদের মাঝে ভিটর রকি আশা জাগাচ্ছে দারুনভাবে।
অনুর্ধ-২০ কোপা আমেরিকা কাপে , উরুগুয়েকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিলের যুবারা। সেখানে নতুন রোনালদো ভাবা ভিটর রকি, পুরো টুর্নামেন্টে ৬ টি গোল করে,হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।