শত কাজ থাকা সত্তেও নামাজটাই আগে পড়তে যান মুশফিকুর রহীম।সমালোচনা রয়েছে তার পারফর্মেন্স নিয়ে , ফুরিয়ে গেছেন মুশি, চাপ নিতে পারেন না, দলের গ্রুরুত্বপুর্ন মুহুর্তে করেন বোকার মতো সব ভুল।
সবকিছু ছাপিয়ে প্রাকটিসে মনোযোগি বাংলাদেশের এই উইকেট কিপার। ২২ গজের এই খেলার প্রতি তীব্র , ডেডিকেশন আর কঠোর পরিশ্রম তাকে নিয়ে যায়, সাফল্যের দ্বাড়প্রান্তে । তথাকথিত ফুরিয়ে যাওয়া ছেলেটাই, আজ বাংলাদেশ ক্রিকেটে জ্বলজ্বল করছে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো।
তার করা সেঞ্চুরি বাংলাদেশের সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি তো বটেই, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম শতক হাকানোর সংক্ষিপ্ত লিস্টেও, তার নামটি চলে এসেছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের ২য় ওয়ানডেতে, ৩৩ তম ওভারে শান্ত যখন তার নিজের দায়িত্ব টূকূ পালন করে প্যাভিলিয়নের পথে, তখন বাংলাদেশের রান ১৯।
সেই সময় দরকার ,ঝরো ব্যাটিংয়ে রানের গতিটাকে আরো সচল করা, ৬ নাম্বারে নেমে তখন মুশফিক সেকাজটাই করলেন।
রান রেটটাকে বাড়িয়ে দিলেন তার দারুন ব্যাটিং শৈলি দিয়ে। মাঠে নামার সাথে সাথে, মারকুটে ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখালেন এই ডানহাতি ব্যাটিসম্যান।
হ্রদয়কে সংগী করে, দুর্দান্ত ইনিংসের পসরা সাজিয়েছেন মুশফিকুর রহীম। ১ম ওয়ানডেতেও দেখা গিয়েছিল তার বিধ্বংসী ইনিংস ঝলক।
প্রায় দুই বছর পর মি.ডিপেন্ডেবলের ব্যাটে সেঞ্চুরির দেখা।শেষ ওয়ানডে সেঞ্চুরিটা এসেছিল ২০২১ সালে। এরপর যেন বহুদিন কেটে গেলো তার ব্যাট হাসছিলনা।
ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরিটা যে এমন দারুনভাবে রাংগাবেন সেটা কেই বা জানতো?সেঞ্চুরির সাথে সাত হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ ।
টী২০ থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে গত বিশ্বকাপ থেকেই। সেই ক্ষভেই কিনা ঝড়ো ব্যাটিংয়ের নমুনা দেখালেন আইরিশ দের বিপক্ষে। নবম এই সেঞ্চুরির দিনে আরেকটি বিরল রেকর্ড তিনি ছুঁয়েছেন আইরিশদের বিপক্ষে।
তার অবিস্মরণীয় ৬০ বলে ১০০ রানের অপরাজিত শতক, পৌছে গেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির কাতারে।যে রেকর্ড এতোদিন ছিল সাকিব আল হাসানের দখলে।
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় , দ্রুততম সেঞ্চুরির দিক দিয়ে সবার উপরে রয়েছেন এভিডি ভিলিয়ার্স। ৩১ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন দক্ষিন আফ্রিকান এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান।
এরপরেই রয়েছে, কোরে এন্ডারসনের নাম। ৩৭ বলে শহিদ আফ্রিদির রেকর্ডটি ছিল বহুদিন ধরে। দ্রুততম এই সেঞ্চুরির লিস্টে মুশফিকের নাম চলে এসেছে ৩৩ নাম্বারে।
তবে সাম্প্রতিক হিসেবে মুশফিকের fastest সেঞ্চুরিটি তালিকার একটু উপরের দিকেই রয়েছে। ২০২০ সালের পর থেকে যারা দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছে ,সেই লিস্টে মুশফিকের নাম এসেছে ৬ নাম্বারে।
ওয়ানডে ক্রিকেটে দেশের হয়ে তামিমের সবচেয়ে বেশি শতরান। ক্যারিয়ারে ১৪ টি সেঞ্চুরি নিয়ে, তিনি শতকের লিস্টে সবার উপরে । এরপরেই যৌথভাবে রয়েছেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহীম। দুজনেরই রয়েছে ৯ টি সেঞ্চুরি।
গুঞ্জন ছিল,মাহমুদ উল্লাহর মতো মি.ডিপেন্ডেবলকেও, বিশ্রাম কিংবা দল থেকে বাদ দেওয়ার। অবশ্য বাদ দেওয়ার কারনগুলোও খুব বেশি অযৌক্তিক ছিলনা।
গত একটা বছর ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। তার ব্যাটে ছন্দহীনতা। ২০২২ সালের পুরো বছরেই, তার রান উঠেছে মাত্র ২৩০ রান। দল থেকে বাদ দিয়ে দিলেও অবাকা হওয়ার কিছু থাকতোনা।
কিন্তু তাকে দলে রাখার যৌক্তিকতা, তিনি বুঝিয়ে দিলেন হাড়েহাড়ে। কামব্যাক করেছেন, রুদ্রমর্তি ধারন করে। নিজের ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন করেছেন, ছয় নাম্বারে নেমেই খেলছেন ঝড়ো গতির সব ইনিংস।সামনে বিশ্বকাপ, ফুরিয়ে যাওয়া মি.ডিপেনডেবল রসদ পেয়ে গেছেন, দলে থিতু হওয়ার।