দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের দেখা নেই প্রায় দেড় দশক। এই সময়ে পাক ভারত মহারণ দেখার একমাত্র উপায় আইসিসি’র টুর্ণামেন্ট। সেই টুর্ণামেন্টে আবার এমন এক রীতি, ভারতকে দেখলেই যেন গুটিয়ে যায় পাক শিবির। উপমহাদেশের এই লড়াইয়ে এক সময় কর্তৃত্ব ছিল পাকিস্তানীদের।
তবে দেশটির ক্রিকেট ভক্তদের জন্য সুখের দিন ফিরতে শুরু করেছে। পাকিস্তান আইসিসি কর্তৃক আয়োজিত টুর্ণামেন্টে ভারতকে হারাতে শুরু করেছে।সেই ধারা অব্যাহত রেখে তরুণদের টুর্ণামেন্ট ইমার্জিং এশিয়া কাপে ভারতকে ধরাশয়ী করে এশিয়ার সেরা খেতাব অর্জন করে নিয়েছে পাকিস্তানী তরুণেরা।
এই দলটাই মাত্র কয়েকদিন আগে গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে পরাজিত হয়েছে ৮ উইকেটের ব্যবধানে। এ কারণেই হয়তো তাদের বলা হয় আনপ্রেডিক্টেবল। ৫০ ওভারের খেলায় ভারত প্রথম ভুলটা করে পাকিস্তানকে টস জিতে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে। এদিন পিচ ছিলো একেবারেই ব্যাটিং সহায়ক। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান স্কোরবোর্ডে জড়ো করে ৩৫৩ রান। এদিন পাকিস্তানকে মূলত পথ দেখান চার নম্বরে নামা ব্যাটার তাইয়েব তাহির।
পাকিস্তানের ওপেনারেরা ১২১ রানের পার্টনারশিপ দিয়ে শুরু করলেও দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে ভারত। এরপর নিয়মিত বিরতিতে পাকিস্তান উইকেট হারিয়েছে। তবে এক পাশ আগলে রেখেছেন তাইয়েব তাহির। তিনি ৭১ বলে ১০৮ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। ঐ ইনিংসে ছিল বারোটি চার এবং চারটি দারুণ ছক্কা। শেষদিকে মেহরান মুমতাজ ও মোহাম্মদ ওয়াসিমের ক্যামিওতে সাড়ে তিনশোর কোটা পেরোয় পাকিস্তান। বড় সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে ভাল শুরু করে ভারত।
তবে ৮ ওভারে ৬২ রানের ওপেনিং জুটির পতন ঘটলে, শেষ হয় ভারতের স্বপ্ন যাত্রা। এরপর থেকে তারা পুরো ম্যাচেই উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত বিরতিতে। ফলে ১০ ওভার বাকি থাকতে মাত্র ২৪০ রানেই গুটিয়ে যায় ভারত। এদিন ভারতীয়রা রান-রেট ঠিক রাখতে গিয়েই মূলত উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন। ভারতের বিপক্ষে বড় মঞ্চে দীর্ঘদিন পর কোন জয় পেল পাকিস্তান। এখন পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড কাপে মোট ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ।
যার মধ্যে ১৩ বারই জিতেছে ভারত। তাই ইমার্জিং কাপে ভারতকে হারানোর আনন্দ কিছুটা বেশিই ছিল পাকিস্তানের জন্যে। সেটা ফুটে উঠেছে তাদের উল্লাসে। মাঠে থাকা ১১ জনের সেজদায় শুরু হয় এই আনন্দ উচ্ছাস। এরপর প্রায় কয়েক ঘন্টা ব্যাপী দর্শকদের সাথে মিলে চলে তাদের এই উল্লাস। এর আগে সবশেষ ২০১৭ সালের চ্যম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতকে হারাতে সক্ষম হয়েছিল পাকিস্তান। সেবারে তারা ভারতকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতে।
তাই অনেক ক্রীড়া বোদ্ধারা মজা করে বলেন, পাকিস্তানের আরো একবার বিশ্বকাপ জিততে হলে আগে ভারতকে হারানোর মত মানসিকতা অর্জন করতে হবে। পাকিস্তানী খেলোয়াড়েরা ভারতের মুখোমুখি হলেই মানসিক চাপে পড়ে যান। যদি কখনো ভারত খেলায় এগিয়ে যায়, সেই খেলা আর কখনোই নিয়ন্ত্রনে নিতে পারে না পাকিস্তান। তাই ভারতকে যদি হারাতে হয়, তাহলে শুরু থেকেই চেপে ধরতে হবে। যেমনটা তারা করেছে গতকাল এবং এর আগে করেছিলো আইসিসির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে।
এটাই হতে পারে আসন্ন বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপে ভারতের মূল দলকে হারানোর জন্যে পাকিস্তানের টোটকা। এখন তারা এটা কতটুকু কাজে লাগাতে পারবে , তা সময়ই বলে দিবে।তবে এটুকু নিশ্চিত আসন্ন দুই আসরে বড় কিছু করতে হলে পাকিস্তানের ভারতকে হারিয়েই তা করতে হবে। যা বাবর এবং রিজওয়ানেরা ভাল করেই জানেন।