টেনিস


ভাসমান সৌন্দর্যের ঐতিহাসিক নগর দমন ও দিউ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৯ আগস্ট ২০২২, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার

ভাসমান সৌন্দর্যের ঐতিহাসিক নগর দমন ও দিউ
আরব সাগরের উপকূলে অবস্থিত ভারতের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দমন ও দিউ। ছোট্ট দুটি উপদ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত পশ্চিম ভারতের এই স্থানটি বিখ্যাত নির্মল এবং পরিচ্ছন্ন সমুদ্র সৈকতের জন্য।

তাছাড়া অঞ্চলটির বিশেষত্ব হল, এখানে সমুদ্রের পানির ভেতরে গির্জা, মন্দির, দুর্গসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা রয়েছে। ১১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনবিশিষ্ট দমন এবং দিউ নামের দ্বীপ দুটি একে অপরের থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।        


এর মধ্যে দমন এলাকাটি আয়তনে ৭২ বর্গকিলোমিটার এবং দিউ এর আয়তন ৪০ বর্গকিলোমিটার। 


এখানে গুজরাতি এবং মারাঠি সংস্কৃতির সাথে পর্তুগিজ সংস্কৃতির প্রভাবও লক্ষণীয়। কারণ উপমহাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে প্রায় সাড়ে চারশো বছর পর্তুগিজরা এই স্থানে রাজত্ব করেছিল।   


অঞ্চলটির আবহাওয়া বেশ বৈচিত্র্যপূর্ণ। গ্রীষ্মে যেমন প্রচণ্ড গরম পড়ে, বর্ষায় তেমনি মুষলধারে বৃষ্টি হয়। কিন্তু শীতকালটি তুলনামূলক আরামদায়ক এবং বেড়ানোর জন্য আদর্শ সময়। 


দমন দ্বীপটিকে দেখলে পরিপাটি করে সাজানো গোছানো একটি শহর মনে হয়। এখানকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান সমুদ্র সৈকতগুলো। এক একটি সৈকত এক এক বৈশিষ্ট্যের জন্য বিখ্যাত। 


নরম বালি দিয়ে গঠিত জামপুর বিচ অত্যন্ত মনোরম ও পরিচ্ছন্ন। আবার সৌন্দর্যের দিক দিয়ে সেরা সৈকত হল শিলা পাথরে পরিবেষ্টিত দেবকা বিচ।  


অপূর্ব এই সৈকতে রয়েছে একটি বিনোদন পার্ক। তবে নিরিবিলি সৈকতে ঘুরে বেড়াতে চাইলে এখানকার মোতি দমন বিচ আদর্শ।   


মাঝি আর মৎস্যজীবীদের কোলাহলে ভরা আরেকটি সৈকতও আছে, যার নাম ভনকবরা বিচ। সমুদ্র দর্শনের সাথে সাথে এখানে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে টাটকা সামুদ্রিক মাছ।


ফটোগ্রাফির জন্য সেরা একটি স্থান দমন লাইট হাউস। দর্শনীয় স্থান হিসেবে আরও রয়েছে ডোমিনিকান মনাস্ট্রি এবং মোটি দমন দুর্গ, যা সপ্তদশ শতকে পর্তুগিজরা নির্মাণ করেছিল।


এখানকার আরেকটি পর্তুগীজ দুর্গ ননী দমন ফোর্ট, যা পুরোপুরি পাথরের তৈরি। সমুদ্রের উপকূলেই গড়ে তোলা হয়েছে এসব বিস্ময়কর স্থাপনা।    


এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য মন্দির এবং চার্চ, যার বেশিরভাগই সমুদ্রের মাঝখানে অবস্থিত। ফলে সমুদ্র দর্শনের সাথে সাথে স্থাপত্য শিল্পের সাথেও পরিচয় হয়ে যায়, আবার ইতিহাসকেও জানা হয়।     


দিউ শহরেও যেমন রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্য তেমনি নিরিবিলি সমুদ্র সৈকত। ঘোগলা বিচ, নাগোয়া বিচ, জলন্ধর বিচ, চক্রতীর্থ বিচ, গোমতীমাতা বিচ, সিম্বর বিচ তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।


তবে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ঘোগলা বিচ। নাগোয়া বিচটি গঠিত সাদা রঙের বালি দিয়ে; একারণেই পর্যটকদের কাছে বেশী আকর্ষণীয় এটি।   


শান্তু ও নির্মল চক্রতীর্থ বিচের পাশেই রয়েছে অপূর্ব একটি ফুলের বাগান। গোমতীমাতা বিচ ঘোড়ার ক্ষুরের মতো আকৃতি বিশিষ্ট।  


প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দেখা মেলে প্রচুর ঐতিহাসিক স্থানের। ম্যাজিসটিক দিউ ফোর্ট অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। এখানে সমুদ্র উপকূলে পর্তুগীজ আমলের তৈরি একটি বৃহৎ দুর্গ আছে, যার ছাদে সাজানো রয়েছে কয়েকশত বছর আগের কামান।    


সমুদ্রের মাঝখানে রয়েছে জাহাজের মতো দেখতে পানিকোটা দুর্গ, যেখানে ফেরিতে করে যেতে হয়। দুর্গের উপরিভাগের মাটিতেও রয়েছে সবুজ গাছপালা।


দিউ এর নাইদা গুহা ব্যতিক্রমী শিল্পকলার জন্য বিখ্যাত। এখানকার দর্শনীয় স্থানের তালিকায় আরও রয়েছে একটি ঝিনুকের মিউজিয়াম।      


দিউ এর রাস্তার ধারের রেস্তরাঁগুলোতে দারুণ সুস্বাদু সব সামুদ্রিক খাবার পাওয়া যায়। সামুদ্রিক পরিবেশের মধ্যে ব্যতিক্রমী খাবারের স্বাদ নিমেষেই মন ভালো করে দেয়।    


সেই সাথে নিরামিশ এবং ভারতীয়, চীনা, ইটালিয়ান, পর্তুগিজ ও মোগলাইসহ নানা ধরনের খাবারও মেলে। সবমিলিয়ে স্থানটি অত্যন্ত পর্যটক বান্ধব।  


দ্বীপ অঞ্চল হলেও এখানে মানুষের বসতি রয়েছে; ২০২০ সালের হিসেব অনুযায়ী অঞ্চলটিতে ৩ লক্ষ ২৫ হাজার মানুষ বসবাস করে।        


সৈকত আর ঐতিহাসিক স্থাপত্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা দমন-দিউ ঘুরতে চাইলে পর্যটকদের বিমান পথে গুজরাটের সুরত বা আহমেদাবাদ বিমানবন্দর অবধি যেতে হবে। 


সেখান থেকে রেল বা সড়কপথে পৌঁছাতে হবে গন্তব্যে। এখানকার রাস্তাঘাট খুবই উন্নত। তাছাড়া পশ্চিম ভারতের বড় বড় শহরগুলোর সাথেও স্থানটির যোগাযোগ রয়েছে।  


জনপ্রিয়


টেনিস থেকে আরও পড়ুন

কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি