

প্রায় আশি থেকে নব্বই লক্ষ টাকার দামের সরকারি একটি গাড়ি চুরি হয়ে গেছে। দশ চাকা বিশিষ্ট এই গাড়িটি ছিলো একটি ডাম্প ট্রাক। যেটি ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের অধিনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত ছিলো। গত শুক্রবার রাত আট টার দিকে চুরি হয় ১০ চাকার এই ডাম্প ট্রাক। চুরি হবার আগে এটি ঢাকার মাতুয়াইল এলাকায় দক্ষিন সিটির কেন্দ্রীয় ময়লার ভাগাড়ে অবস্থান করছিলো। এরপর শনিবার সন্ধ্যার দিকে নিশ্চিত হওয়া গেছে চুরির তথ্য। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।গনমাধ্যমের কাছে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুরি হওয়া গাড়িটি হলুদ রঙের। এটির পরিচিতি নাম্বার 'পরী ১০১'। ট্রাকটি একসাথে প্রায় ১৫ টন বর্জ্য পরিবহন করতে সক্ষম। এদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন গাড়ি চুরির খবরে নড়েচড়ে বসেছে দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন। এরই মধ্যে চালকের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন- মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। চুরি হওয়া গাড়িটির সঠিক মূল্য জানা যায় নি। তবে সিটি কর্পোরেশন এর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী এটির মূল্য হতে পারে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা।মাতুয়াইল কেন্দ্রীয় ময়লার ভাগাড়ে দায়িত্বরত দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সহকারী প্রকৌশলী নুরুজ্জামান গনমাধ্যমে ঘটনার বিবরন দিয়ে জানান, গত শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে বর্জ্য নিয়ে মাতুয়াইলে আসে গাড়িটি। এ সময় এটি চালাচ্ছিলেন নিয়মিত চালক। এরপর গাড়ি থেকে বর্জ্য নামিয়ে বাসায় চলে যান তিনি। পরবর্তীতে একই দিন, রাত আটটার দিকে গাড়ির চালক এসে দেখেন, গাড়িটি সেখানে নেই।পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেন পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, রাত পৌনে আটটার দিকে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল থেকে বের হয়ে যাচ্ছে গাড়িটি। এ সময় চালকের আসনে কে ছিলেন তা ক্যামেরায় স্পষ্ট বোঝা যায়নি।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৭৫ টি ওয়ার্ডের বর্জ্য রাখা হয় মাতুয়াইল ময়লা ভাগাড়ে।যেটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব সময় আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন সেখানে। এ ছাড়া সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় পুরো এলাকা। এতো কিছুর পরেও কিভাবে গাড়িটি চুরি হলো, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সাধারণত সিটি করপোরেশনের গাড়ি যেখানে সেখানে পড়ে থাকলেও কেউ ক্ষতি করে না সেগুলোর।অথচ সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় ঘেরা জায়গা থেকে চুরি হয়ে গেছে প্রায় কোটি টাকা দামের একটি গাড়ি, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। সেখানে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে ছিলেন আনসার সদস্যরা। তাদের সামনে থেকে অপরিচিত কেউ কিভাবে গাড়ি নিয়ে চলে যেতে পারে, তা খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করছেন দায়িত্বশীলরা।এদিকে পর্যাপ্ত চালক না থাকার কারণে অন্য বিভাগের কর্মী এবং বহিরাগতদের দিয়ে এসব ভারী যানবাহন চালানোর অভিযোগ রয়েছে সিটি কর্পোরেশনে। শুক্রবার চুরি হওয়া গাড়িটি এমন কেউ চালাচ্ছিলেন কিনা, তা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেন, গাড়িটি সিটি করপোরেশনের একজন ভারী চালকের নামে বরাদ্দ ছিলো। তবে ওই চালকের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তারা।


