

প্রেমের টানে বাংলাদেশে ছুটে আসছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুনী। তাদের আসার খবরে হইচই পড়ছে গনমাধ্যমে। কিন্তু তারপর কী হয় সেই খবর তেমন একটা রাখা হয় না। প্রেমের টানে ছুটে বিদেশিদের অনেকেই উধাও হয়ে গেছেন অল্প কিছুদিনের মধ্যে। অনেকে নিজ দেশে সঙ্গী সন্তান রেখে এসে করেছেন প্রতারণা। তবে সবাই এমন নয়। প্রেমের টানে ছুটে আসা কেউ কেউ আপন করে নিয়েছেন এদেশের মাটি। এমনই একজন তরুনী সানজু কুমারী খাত্রী। দুইবছর আগে প্রেমের টানে টাঙ্গাইল ছুটে আসা এই নেপালি তরুনী এখন মনেপ্রাণে বাংলাদেশি। তার চলাফেরা, পোশাক আষাক সবকিছুই এখন বাঙালিদের মতো। এমনকি কথাও বলেন সাবলীল বাংলা ভাষায়। নেপালের কাঠমান্ডু শহরের তরুনী সানজু এখন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের এক সাধারন গৃহবধূ। প্রেমের টানে ছেড়ে এসেছেন পরিবার পরিজন, মাতৃভূমি। বিয়ের সময় ধর্ম ও পরিবর্তন করেছেন তিনি। ইসলাম গ্রহনের পর তার বর্তমান নাম খাদিজা আক্তার।২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে দুর্গাপুর গ্রামের নাজমুলের প্রেমের টানে ছুটে আসেন নেপালি মেয়ে সানজু। এর আগে মালয়েশিয়ায় একই কোম্পানি তে চাকরি করতেন তারা। সেই সুবাদেই পরিচয় এবং তিনবছরের প্রেম। এরপর ২০২০ সালে বাংলাদেশে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী নাজমুল চাকরিসুত্রে আবারো ফিরে গেছেন মালয়েশিয়া। আর নেপালি মেয়ে সানজু সংসার করছেন টাঙ্গাইলের গ্রামে। শশুর শাশুড়ির পাশাপাশি একটি ফুটফটে কন্যা সন্তান রয়েছে সানজুর সংসারে।প্রেমের টানে ছুটে এসে বাংলাদেশকে আপন করে নেয়া আরেক বিদেশি পেট্রিয়াকা। ১১ বছর আগে ফিলিপাইন থেকে ময়মনসিংহে ছুটে আসা এই নারী এখন বসবাস করছেন অজপাড়াগাঁয়ে। বিদেশি হয়েও তিনি আপন করে নিয়েছেন গ্রামের মাটি এবং মানুষদের। এর মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন তিনি। ২০২১ সালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মহিলা আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন পেট্রিয়াকা। এরপর বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এই বিদেশিনী। শুধু নারীরাই নয়। প্রেমের টানে যুক্তরাস্ট্রের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে এসে যশোরের কেশবপুরে বসবাস করছেন ইঞ্জিনিয়ার ক্রিস হোগল। যার বর্তমান নাম আইয়ুব আলী। যশোরের মেয়ে রহিমা খাতুনকে এক যুগ আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তিনি। সেই থেকে একসাথে বসবাস করছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ক্রিস হোগল এখন পুরোপুরি গ্রামের কৃষক। একজন চাষির মতোই কাজ করেন মাঠে। শাকসবজি চাষ ও কৃষিকাজ সবকিছুই করেন নিজহাতে। এমনকি লালন পালন করেন গরু-ছাগল ও।উন্নত দেশের উচ্চশিক্ষিত নাগরিক হয়েও কোন অহংকার নেই তার মধ্যে। গ্রামের স্বাভাবিক সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন পুরোপুরি। আপন করে নিয়েছেন স্থানীয় মানুষদের। প্রেমের টানে আসা এই ইঞ্জিনিয়ার এখন অজপাড়াগায়ে নির্মান করছেন একটি হাসপাতাল। প্রথমদিকে নিজেদের বসবাসের জন্যই শুরু করেছিলেন বিশ তলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন। চারতলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় মানুষের দুর্দশা দেখে ভবনটিতে হাসপাতাল নির্মানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। যেটির নাম হবে রহিমা-হোগল উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন হসপিটাল। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য আবেদন করেছেন এই দম্পতী।


