বাংলাদেশ


ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চ ও বিমান ভাড়া প্রায় সমান!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২০ আগস্ট ২০২২, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার

ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চ ও বিমান ভাড়া প্রায় সমান!

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ঢাকা বরিশাল রুটের লঞ্চ ও বিমান ভাড়া প্রায় সমান হয়ে গেছে। চারজনের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নৌ ও আকাশপথে
খরচের ব্যবধান এখন মাত্র তিন হাজার টাকা।

এই রুটে চলাচল করা জাহাজ গুলোতে চার জনের একটি ভি. আই. পি কেবিনের বর্তমান ভাড়া ১১ হাজার টাকা। অপরদিকে একই গন্তব্যে যেতে চারজনের জন্য বিমান ভাড়া ১৪ হাজার টাকা।

যদিও যাত্রী সংকটের কারনে সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করছে না লঞ্চ মালিকরা। অবশ্য বাড়তি ভাড়া না নিলেও অধিকাংশ বিলাসবহুল কেবিন ফাকা যাচ্ছে।

সেতু হওয়ার পর পদ্মার ওই পাড়ের বেশিরভাগ মানুষই এখন সড়ক পথে যাতায়াত করছেন। আর এতেই বিপাকে পড়েছে এই রুটে চলাচল করা নৌযান গুলো। 

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারনে গত ১৬ই আগস্ট সরকারি-বেসরকারি লঞ্চ ভাড়া ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে সমন্বয় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন ভাড়া কার্যকর করেছে লঞ্চ মালিকরা।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে জনপ্রতি যাত্রী ভাড়া ২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৭০ পয়সা বাড়িয়ে ৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে প্রতি কিলোমিটারে জনপ্রতি যাত্রী ভাড়া ৬০ পয়সা বৃদ্ধি করে দুই টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌযানে সর্বনিম্ন ভাড়া ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী কেবিনের ভাড়া ডেকের ভাড়ার চেয়ে চারগুণ বেশি হয়। বরিশাল থেকে ঢাকা পর্যন্ত বর্তমান নৌ-রুটের দূরত্ব ১৬১ কিলোমিটার।

সে হিসেবে এই রুটে বর্তমানে ডেকের ভাড়া ৪৫৯ টাকা। অপরদিকে সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১ হাজর ৮৩৬  এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া ৩ হাজার ৬৭২ টাকা।

তবে যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিচ্ছনে না লঞ্চ মালিকরা। ডেকের ভাড়া আগের চেয়ে ৫০ টাকা ভাড়লেও অপরিবর্তিত আছে সব ধরনের কেবিনের ভাড়া।

সেতু হওয়ার পর লঞ্চে যাতায়াতকারী মানুষের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। লঞ্চ পরিচালনাকারীদের মতে, সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় শুরু করলে কেবিনের যাত্রী আরো কমে যাবে। 

আর দক্ষিণাঞ্চলের কেবিন নির্ভর এ লঞ্চগুলোতে যাত্রী কমলে লোকসান গুনতে হবে তাদেরকে। তাই সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাড়া রাখার চেষ্টা করছেন তারা।

সেক্ষেত্রে অধিকাংশ লঞ্চেই নন এসি সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১ হাজার টাকা ও এসি সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১১শ’ টাকা রাখা হচ্ছে।  

অপরদিকে ডাবল কেবিনের ভাড়া রাখা হচ্ছে নন এসি ২ হাজার এবং এসি ২২শ’ টাকা। সেইসাথে সোফার ভাড়াও পূর্বের নিয়মানুযায়ী নেওয়া হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে।

তবে এত বিপুল পরিমান ছাড়ের পরেও মিলছে না কাঙ্খিত যাত্রী। তাই সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করাকে অসম্ভব বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

অবশ্য তারা জানিয়েছেন ইদ ও লম্বা ছুটির সময় যাত্রী চাহিদা বেড়ে যাবে। তখন সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করে লোকসান পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবেন।

এর আগে গত নভেম্বরেও ৩৫ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছিল লঞ্চের ভাড়া। তখন প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৩০ পয়সা করা হয়েছিল।

পরবর্তী যে কোন দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ টাকা। 



জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

রাত পোহালেই শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে সরঞ্জাম

রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের সকল সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি।

অসহায় সামিয়ার পাশে দাঁড়ালো স্বপ্ন

লালমাই উপজেলার ২ নং বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার ১২ বছর বয়সী অসহায় মেয়ে সামিয়া আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সামিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নগদের ক্যাম্পেইনে হেলিকপ্টার ভ্রমণের স্বপ্ন সত্যি হলো ইমন ও আফজালের

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নগদ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়, যেখানে কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা হেলিকপ্টার ভ্রমণের আকর্ষণীয় পুরস্কার জিততে পারতেন। এই ক্যাম্পেইনের মূল বিজয়ী হয়েছেন ঢাকার দুই গ্রাহক কাজী ইমন ও আফজাল হোসেন।

হাওরে ডুবে যাচ্ছে বোরো ধান, গবাদিপশুর খাদ্যে পরিণত কৃষকের স্বপ্ন

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় অপরিপক্ক বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা বাধ্য হয়ে কোমর পর্যন্ত পানিতে নেমে কাঁচা ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।