দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় রাশিয়ার তেল আমদানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
তবে সম্ভাব্য বাণিজ্যিক ঝুঁকি এড়াতে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এই তেল আমদানি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চায় সরকার।
রাশিয়ার তেল আমদানির জন্য আপাতত পছন্দের তৃতীয় পক্ষ হিসেবে প্রতিবেশী ভারতের নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সূত্র ধরে আমেরিকা এবং পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার উপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী সৃষ্টি হয়েছে জ্বালানি সংকট।
বিশেষ করে মধ্যম এবং নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ তেলের চাহিদা পূরণ করতেই ভারত এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার তেল আমদানি করা শুরু করেছে।
অন্যদিকে আসাম রাজ্যের নুমালিগড়ের শোধনাগার থেকে পরিশোধিত তেল আমদানি করার জন্য ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে।
তাই ভারতকে ব্যবহার করে রাশিয়ার সস্তার তেল কেনাটা সম্ভাব্য বাণিজ্যিক ঝুঁকি এড়ানোর উপায় হতে পারে বলে মনে করে বাংলাদেশের জ্বালানি বিভাগ।
সম্প্রতি রাশিয়ান তেল কোম্পানি রুস্নেফট বাংলাদেশের কাছে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম; বিশেষ করে ডিজেল তুলনামূলক কম মূল্যে বিক্রি করার প্রস্তাব দিয়েছে।
চল্লিশ শতাংশের বেশি ছাড়ে বাংলাদেশকে তেল দিতে চায় রুসনেফট। এছাড়া রুশ কোম্পানিটি প্রিমিয়াম ও পরিবহন খরচসহ এই দামেই পেট্রোলিয়াম চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে দিবে।
এমন সুবিধাজনক প্রস্তাব পাওয়ার পরেই রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির সম্ভাব্যতা নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ কোম্পানিটির প্রস্তাব সম্পর্কে কিছু জানায়নি।
রাশিয়ার তেল আমদানির বিষয়টি অন্য যেকোনো দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
চলমান পরিস্থিতিতে কোনো দেশ সরাসরি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করলে তার উপরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতে পারে।
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে পোশাক খাত থেকে। আর এই পোশাকের সবচেয়ে বড় ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় কয়েকটি দেশ।
তাই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেমে আসবে মহাদুর্যোগ।
এই কারণেই তেল আমদানির বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে বাংলাদেশ। কেননা এই ধরনের আমদানির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা অসন্তোষ প্রকাশ করতে পারে।
তাই সরাসরি রাশিয়া থেকে তেল না কিনে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ক্রয়ের ব্যাপারটি নিয়েও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
গত ১৬ আগস্ট রাশিয়ার সাথে আমদানির সম্পর্ক গড়ে তুলতে ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ইতোমধ্যে রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
এছাড়া বিপিসি এই ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করেছে। তারা রাশিয়া থেকে তেল কেনা, লেনদেনে মুদ্রার বিনিময় পদ্ধতি কেমন হবে সেসব নিয়ে কাজ করছে।
বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারনে বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন কমে গিয়েছে। ফলে দেশে দেখা দিয়েছে লোড শেডিং। তাছাড়া শিল্পখাতেও জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব পড়েছে।
তাই যদি কম দামে রাশিয়া থেকে জ্বালানির আমদানির ব্যবস্থা করা যায় তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে; সেই সাথে শিল্পখাতের মন্দার শঙ্কাও অনেকটা দূর করা যাবে।