

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি থেকে আবারও কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে পুরোদমে তিন শিফটে কয়লা উত্তোলন শুরু হয় বলে জানিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।প্রথম দিনে প্রায় ২ হাজার ৭৩১ মেট্রিক টন কয়লা আহরণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে উত্তোলিত কয়লার পুরোটাই সরবরাহ করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বড় পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে।তবে কর্তৃপক্ষ আশা করছে উৎপাদনের পরিমাণ আরো বাড়বে। দৈনিক তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন করে কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।খনি থেকে সীমিত পরিসরে কয়লা আহরণ করা শুরু হয়েছিল ৬ আগস্ট। সেদিন সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে প্রতিদিন মাত্র এক শিফটে কাজ করা শুরু হয়। কয়লা উত্তোলনের পাশাপাশি সেসময় খনিতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয়েছিল। সংস্কার শেষে গত ২০ আগস্ট ভোর থেকে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় তিন শিফটে খনিজ সম্পদ আহরণ করা শুরু হয়। বর্তমানে তিন শিফটে বাংলাদেশি ২৯৩ জন এবং ৩০০ জন চীনা শ্রমিক কাজ করছেন। সামনে শ্রমিক সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা বাড়লে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন করে কয়লা উত্তোলন করা যাবে।এর আগে ৩০ এপ্রিল দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কার্যক্রম সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়। উত্তোলনকৃত ১৩১০ নং ফেইজে মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় খনিতে কয়লা আহরণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সেই সাথে ফেইজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর পরিত্যক্ত ফেইজের ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রপাতি স্থানান্তর ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করে কতৃপক্ষ। সেসময় নতুন ফেইজ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন করে কয়লা উত্তোলনে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ দিন সময় লাগবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। সে হিসেবে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে কয়লা উত্তোলনের সময় নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষ। তবে বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতির কারনে জুন-জুলাই মাস থেকেই দেশে শুরু হয় জ্বালানি সংকট। জাতীয় সংকট মোকাবেলা করার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা এবং পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় দ্রুত নতুন ফেইজের উন্নয়ন কাজ শেষ করা হয়। ভূগর্ভের ভেতরে যন্ত্রপাতি স্থাপন করা শেষ হওয়ার পর লম্বা বিরতি কাটিয়ে গত ২৭ জুলাই সকাল থেকেই বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উৎপাদন শুরু করা হয়।কিন্তু খনিতে কর্মরতদের মাঝে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে চীনা ও বাংলাদেশী মিলিয়ে ১০০ এর বেশি শ্রমিকের মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বাধ্য হয়ে পরে ৩০ জুলাই সকাল থেকে আবারও কয়লা উত্তোলন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে করোনা উপসর্গ নেই এমন শ্রমিক দিয়ে ৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে এক শিফটে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়।শেষপর্যন্ত ২০ আগস্ট শনিবার থেকে পুরো মাত্রায় কয়লা উত্তোলন করা হয়৷ অন্যদিকে কয়লা সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পার্শ্ববর্তী বড় পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে৷ ফলে জাতীয় গ্রীডে আগের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সেচ সুবিধা নিশ্চিতসহ লোডশেডিং কমানোর মাধ্যমে জনগনের ভোগান্তির কিছুটা অবসান হবে।



