বাংলাদেশ


বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৩ আগস্ট ২০২২, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি থেকে আবারও কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকে পুরোদমে তিন শিফটে কয়লা উত্তোলন শুরু হয় বলে জানিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।

প্রথম দিনে প্রায় ২ হাজার ৭৩১ মেট্রিক টন কয়লা আহরণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে উত্তোলিত কয়লার পুরোটাই সরবরাহ করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বড় পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে।

তবে কর্তৃপক্ষ আশা করছে উৎপাদনের পরিমাণ আরো বাড়বে। দৈনিক তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন করে কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

খনি থেকে সীমিত পরিসরে কয়লা আহরণ করা শুরু হয়েছিল ৬ আগস্ট। সেদিন সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে প্রতিদিন মাত্র এক শিফটে কাজ করা শুরু হয়। 

কয়লা উত্তোলনের পাশাপাশি সেসময় খনিতে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয়েছিল। সংস্কার শেষে গত ২০ আগস্ট ভোর থেকে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়ায় তিন শিফটে খনিজ সম্পদ আহরণ করা শুরু হয়। 

বর্তমানে তিন শিফটে বাংলাদেশি ২৯৩ জন এবং ৩০০ জন চীনা শ্রমিক কাজ করছেন। সামনে শ্রমিক সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। 

কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা বাড়লে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন করে কয়লা উত্তোলন করা যাবে।

এর আগে ৩০ এপ্রিল দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কার্যক্রম সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়। 

উত্তোলনকৃত ১৩১০ নং ফেইজে মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় খনিতে কয়লা আহরণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সেই সাথে ফেইজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। 

এরপর পরিত্যক্ত ফেইজের ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রপাতি স্থানান্তর ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করে কতৃপক্ষ। 

সেসময় নতুন ফেইজ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন করে কয়লা উত্তোলনে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ দিন সময় লাগবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। 

সে হিসেবে আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে কয়লা উত্তোলনের সময় নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষ। তবে বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতির কারনে জুন-জুলাই মাস থেকেই দেশে শুরু হয় জ্বালানি সংকট। 

জাতীয় সংকট মোকাবেলা করার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা এবং পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় দ্রুত নতুন ফেইজের উন্নয়ন কাজ শেষ করা হয়। 

ভূগর্ভের ভেতরে যন্ত্রপাতি স্থাপন করা শেষ হওয়ার পর লম্বা বিরতি কাটিয়ে গত ২৭ জুলাই সকাল থেকেই বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উৎপাদন শুরু করা হয়।

কিন্তু খনিতে কর্মরতদের মাঝে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে চীনা ও বাংলাদেশী মিলিয়ে ১০০ এর বেশি শ্রমিকের মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। 

বাধ্য হয়ে পরে ৩০ জুলাই সকাল থেকে আবারও কয়লা উত্তোলন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে করোনা উপসর্গ নেই এমন শ্রমিক দিয়ে ৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে এক শিফটে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়।

শেষপর্যন্ত ২০ আগস্ট শনিবার থেকে পুরো মাত্রায় কয়লা উত্তোলন করা হয়৷ 

অন্যদিকে কয়লা সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পার্শ্ববর্তী বড় পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে৷ ফলে জাতীয় গ্রীডে আগের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। 

এতে সেচ সুবিধা নিশ্চিতসহ লোডশেডিং কমানোর মাধ্যমে জনগনের ভোগান্তির কিছুটা অবসান হবে।



জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

হামে শিশুমৃত্যু ৫১২, একদিনে মারা গেছে আরও ১৩ শিশু

দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ১৩২ শিশু। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পল্লবীতে শিশু হত্যা: সামাজিক মাধ্যমে কেন আলোচনায় ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’?

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি যখন তুঙ্গে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৫ সালের বহুল আলোচিত অস্ট্রেলিয়ান স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’ (The Disappearance of Willie Bingham)। মাত্র ১২ মিনিটের এই মনস্তাত্ত্বিক সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ম্যাথু রিচার্ড।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল জামায়াতে ইসলামী

ধর্ষকের প্রকাশ্য শাস্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

রাত বাড়লেই সুনামগঞ্জ শহরে চুরির আতঙ্ক, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

সুনামগঞ্জ শহরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে চুরির ঘটনা। বাসাবাড়ির পাশাপাশি সরকারি, আধাসরকারি ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানেও হানা দিচ্ছে চোরচক্র। চিহ্নিত চিচকে চোরদের দৌরাত্ম্যে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।