ভোরে ফজরের নামাজের পর থেকে শুরু হবে মেট্রোরেলের কার্যক্রম। এরপর রাতের ১২টা পর্যন্ত এসব ট্রেন চলাচল করবে।
প্রথম দফায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১.৭৩ কিলোমিটার রাস্তায় চলবে ট্রেন। এ জন্য জাপান থেকে ক্রয়কৃত ১০ সেট ট্রেন প্রস্তুত করা হয়েছে। যেগুলোর প্রতি সেটে মোট ৬টি বগি রয়েছে।
প্রকল্পের প্রস্তাবনা অনুযায়ী মেট্রোরেল সিস্টেমে প্রতি সাড়ে তিন মিনিট পরপর একটি ট্রেন চলাচল করার কথা রয়েছে।
তবে কার্যক্রমের শুরুতে আপাতত ১০ মিনিট পরপর ট্রেন চালানো হবে। পরবর্তী সময়ে যাত্রী সংখ্যা বিবেচনায় এক ট্রেনের সঙ্গে অন্য ট্রেনের সময়ের পার্থক্য কমিয়ে আনা হবে।
এছাড়া দুইটি ট্রেনের মাঝে সর্বনিম্ন দূরত্ব হবে ২৫০ মিটার। স্বয়ংক্রিয় ভাবে চলাচল করার কারনে একটির গতি বাড়লে আরেকটির গতিও বাড়বে। ঠিক একই অবস্থা হবে গতি কমানোর ক্ষেত্রেও।
তাই একই লাইনে চললেও একটি ট্রেনের সঙ্গে আরেকটির সংঘর্ষ ঘটবে না। আর এই সবই নিয়ন্ত্রণ করবে অটোমেটিক প্রটেকশন পদ্ধতি।
এজন্য বসানো হয়েছে নিজস্ব নেটওয়ার্ক সিস্টেম। ইতোমধ্যে অটোমেটিক পদ্ধতিতে ট্রেন চলাচলের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে।
উত্তরা-আগারগাঁও অংশে আর তেমন কোনো কাজ বাকি নেই। এ অংশের নয়টি স্টেশন নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে।
কিছু স্টেশনে শুধুমাত্র লিফট এবং এসকেলেটর বসানো হচ্ছে। এছাড়া চারটি স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান পথের কাজ চলমান আছে।
অন্যদিকে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পরীক্ষামূলক চলাচলের ‘পারফরম্যান্স টেস্ট’ পর্ব এখন শেষ পর্যায়ে।
পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট অর্থাৎ বৈদ্যুতিক দিকগুলো পরীক্ষা করা শুরু হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সর্বোচ্চ তিন মাস সময় লাগতে পারে।
এই পর্যায়ে মেট্রোরেলের বিদ্যুৎ সংযোগ, সংকেত ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছে কি না সেটি দেখা হবে।
অক্টোবর থেকে শুরু হবে সিমুলেটরের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনা। ট্রেন অপারেটরদেরকে সিম্যুলেটরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হবে পহেলা অক্টোবর থেকে।
শেষ ধাপে তারা যাত্রীবিহীন ট্রেন চলাচল করবে। দুই সপ্তাহ যাত্রীবিহীন রেল চালনা করার পর ডিসেম্বরে যাত্রীসহ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে স্বপ্নের মেট্রোরেল।
এখন পর্যন্ত উদ্বোধনের দিন তারিখ ঠিক না হলেও ধারনা করা হচ্ছে মহান বিজয় দিবসকে সামনে রেখে ১৬ই ডিসেম্বর দেশের অন্যতম বড় এই মেগাপ্রজেক্টটি উদ্বোধন করা হতে পারে।
প্রায় এক দশক আগে মেট্রোরেল প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছিল। এরপর ২০১৬ সাল থেকে শুরু হয় কাঙ্ক্ষিত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ।
উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত পর্যন্ত নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়ে এলেও মতিঝিল পর্যন্ত নির্মাণ কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে।
গত জুলাই মাস পর্যন্ত এই অংশের অগ্রগতি ছিল ৮১ দশমিক ৭ শতাংশ। আগামী বছরের মধ্যেই মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচলের কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা করা যায়।
এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইন বর্ধিত করার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।
মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ১.১৬ কিলোমিটার ধরে মেট্রোরেলের সর্বমোট রুট দাঁড়াচ্ছে ২১.২৬ কিলোমিটার।
আপাতত সেখানে ইউটিলিটি সার্ভে চলমান রয়েছে। সেটি শেষ হলেই স্ট্রাকচারাল কাজের জন্য জনবল নিয়োগ করা হবে।