

চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুর নকশা তৃতীয় দফায় পরিবর্তন করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের কারণে সেতুটি আর পদ্মা সেতুর আদলে হচ্ছে না।নকশা পরিবর্তনের পাশাপাশি বেড়েছে নির্মাণ ব্যয়ও। প্রথম নকশায় সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ১৫১ কোটি টাকা। দ্বিতীয় নকশায় ৬ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। তৃতীয় নকশায় খরচ হতে পারে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ পরিবর্তিত নকশায় সেতুটির নির্মাণ ব্যয় বাড়বে অন্তত ৭০০ কোটি টাকা। প্রথম নকশার তুলনায় এখনকার ব্যয় ছয় গুণ বেশি।দ্বিতীয় নকশা অনুযায়ী, কালুরঘাট সেতুর ওপরতলা দিয়ে গাড়ি এবং নিচতলা দিয়ে ট্রেন চলার কথা ছিলো।কিন্তু এখন পরিবর্তিত নকশায়, সড়ক ও রেলের জন্য চার লেনের সেতু হবে। দুই লেনে চলবে গাড়ি, বাকি দুই লেনে ট্রেন।তবে নতুন করে সেতুর ব্যয় বৃদ্ধি এবং নকশা পরিবর্তন হলেও আগের মতোই থাকবে স্থান, দৈর্ঘ্য, উচ্চতা।শুধু চার লেন হওয়ায় সেতুর প্রস্থ বেড়ে গেছে। স্থাপনাটি এখন প্রায় ৬৫ ফুট প্রস্থের হবে। আর এ কারণেই ব্যয় বাড়বে।গত ১৭ আগস্ট নতুন নকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠক বসে। সেখানে সেতুর নির্মাণ ব্যয়, মেয়াদসহ সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নতুন নকশায় সেতু তৈরিতে সম্মত হয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন।নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা শেষ হতে সময় লাগবে ৩ বছর।বিদ্যমান কালুরঘাট সেতু থেকে ৭০ মিটার উজানে, নতুন সেতুটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নকশায় সেতুর মোট দৈর্ঘ্য হবে ৭৩৯ মিটার। নদীর বাইরে স্থলপথ থাকবে ৫ দশমিক ৬২ কিলোমিটার।প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য হবে ১০০ মিটার। সেতুটিতে মোট পিলার থাকবে আটটি। এর উচ্চতা হবে ১২ দশমিক ২ মিটার।প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই কালুরঘাট সেতুটি পদ্মাসেতুর আদলে নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন সেতু কর্তৃপক্ষ।এমনকি সেতুটি নির্মাণের স্থান, নকশা, ব্যয় ও নির্মাণকাল নিয়ে প্রাথমিক প্রস্তাবনা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষের কাছেও তুলে ধরা হয়েছিলো।কিন্তু সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়েই নকশাটি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।এদিকে বাংলাদেশ সরকারকে সহজ শর্তে পুরো টাকা ঋণ হিসেবে দিতে সম্মত হয়েছে কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড।১৯৩১ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাট সেতু নির্মাণের পর ২০০১ সালে একে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল।সেটির ওপর ট্রেন চলে ১০ কিলোমিটার গতিতে। ট্রেনের পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও পটিয়াগামী গাড়িও চলাচল করে।কিন্তু যখন ট্রেন চলাচল করে তখন গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। একমুখী যান চলাচলের কারণে সেখানে সব সময় যানজট লেগে থাকে।আর তাই স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণ করার দাবি জানিয়ে আসছেন।বিভিন্ন সময় জটিলতার কারণে সেতু নির্মাণের বিষয়টি একনেকের সভায় উঠেও ফেরত এসেছিল। তখন নির্মাণ ব্যয়ও অনেক কম ছিল।



