বাংলাদেশ


বাংলাদেশের সিলিকন ভ্যালি হতে যাচ্ছে ঢাকার বনানী!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৮ আগস্ট ২০২২, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার

বাংলাদেশের সিলিকন ভ্যালি হতে যাচ্ছে ঢাকার বনানী!

ভবিষতে বাংলাদেশের সিলিকন ভ্যালি হতে যাচ্ছে ঢাকার বনানী! যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে, সিলিকন চিপ উদ্ভাবন এবং বাজারজাত করার মাধ্যমে গড়ে উঠেছিলো সিলিকন ভ্যালি।

বাংলাদেশেও তেমনই হতে যাচ্ছে বনানীতে। এক সময় অভিজাতদের আবাসন ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসার জন্য বিখ্যাত জায়গাটি বর্তমানে ধীরে ধীরে টেক হাবে পরিণত হচ্ছে।

এখানকার প্রতিটি ভবনেই গড়ে উঠেছে একাধিক টেক কোম্পানি। যেগুলো দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ দিন দিন প্রযুক্তিগত ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তিখাতে নতুন নতুন উদ্ভাবন এবং নানা আইডিয়া নিয়ে শুরু হচ্ছে নিত্য নতুন স্টার্টআপ।

বর্তমানে দেশে ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া লেগেছে। জম্মসনদ, স্বস্থ্যসেবা, নাগরিক সেবা থেকে শুরু করে শিক্ষা সব খাতেই ডিজিটালাইজেশন শুরু হয়ে গিয়েছে।

এই খাতে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সম্ভাবনা, যার ফলে দেশেই গড়ে উঠছে শত শত স্টার্টআপ কোম্পানি।

যেগুলো এআই ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ও সফটওয়্যার সুবিধা থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সুবিধা প্রদান করছে।

দেশিয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তৈরি হয়েছে বৈদেশিক রপ্তানি আয়ের সম্ভাবনা ও।

বর্তমানে এইখাতে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালের মধ্যেই যা পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে চায় সরকার।

এই খাতের বিকাশের ফলে দিন দিন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা বাড়ছে। অথচ আজ থেকে মাত্র বিশ বছর আগেও বাজারে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের দাম নেই বলেও শোনা যেত।

কিন্তু বর্তমানে দেশের প্রযুক্তিখাত আইটি ইঞ্জিনিয়ারদের হাতের মুঠোয়। যাদের কেউ কেউ আবার নিজের স্টার্টআপ শুরু করেছেন। দেশিয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও সফটওয়্যার রপ্তানি করছেন তারা।

কেউ কেউ আবার বিদেশী কোম্পানি গুলোর সাথে কাজ করছেন। গুগল, মাইক্রোসফট, ফেসবুকের মত বড় বড় কোম্পানিতে নিয়োগ পাচ্ছেন অনেকে।

বর্তমানে বনানীতে তিনশোরও বেশি টেক কোম্পানি গড়ে উঠেছে। প্রযুক্তি কোম্পানি গুলোর সাথে জড়িতদের কাছে এটা যেন মিনি সিলিকন ভ্যালি।

একসময় দেশের মূল রপ্তানি পন্য পোশাক শিল্পে ব্যবহার হওয়া গার্মেন্টস এক্সেসরিজ সফটওয়্যার বিদেশ থেকে কিনে আনতে হতো। যা এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতে, এটিএম বুথ ও টাকা ট্রান্সফারের কাজ ছাড়াও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও কিউ-ক্যাশের মত প্রযুক্তি সহায়তাও দিচ্ছে দেশি আইটি প্রতিষ্ঠান গুলো।

এছাড়াও গ্রিন ব্যাংকিং, এটিএম জ্যাকেটের মতো প্রযুক্তি গুলো নিয়েও কাজ করছে তারা। যার ফলে বুথ চালাতে বিদ্যুৎ খরচ এবং জায়গা ব্যবহারের পরিমাণ কমে আসছে।

ব্যাংকিং ও শিল্পখাতে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়ার মত আইটি কোম্পানি যেমন গড়ে উঠেছে, তেমনি গড়ে উঠেছে অনেক সাধারণ সফটওয়্যার তৈরিকারক প্রতিষ্ঠানও।

যারা নিজেদের মত করে গেমস, ইজুকেশনাল ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার তৈরি করছে। যেগুলোতে শত শত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

বিশ পঁচিশ বছর আগের সমুদ্র তীরবর্তী একটি শহর যেভাবে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নেতৃত্ব দেয়া সিলিকন ভ্যালিতে পরিণত হয়েছে, তেমনি নিকট ভবিষ্যতে হয়ত আইটি খাতে মিনি সিলিকন ভ্যালি গড়ে উঠবে বাংলাদেশেও।



জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

হামে শিশুমৃত্যু ৫১২, একদিনে মারা গেছে আরও ১৩ শিশু

দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ১৩২ শিশু। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পল্লবীতে শিশু হত্যা: সামাজিক মাধ্যমে কেন আলোচনায় ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’?

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি যখন তুঙ্গে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৫ সালের বহুল আলোচিত অস্ট্রেলিয়ান স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’ (The Disappearance of Willie Bingham)। মাত্র ১২ মিনিটের এই মনস্তাত্ত্বিক সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ম্যাথু রিচার্ড।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল জামায়াতে ইসলামী

ধর্ষকের প্রকাশ্য শাস্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

রাত বাড়লেই সুনামগঞ্জ শহরে চুরির আতঙ্ক, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

সুনামগঞ্জ শহরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে চুরির ঘটনা। বাসাবাড়ির পাশাপাশি সরকারি, আধাসরকারি ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানেও হানা দিচ্ছে চোরচক্র। চিহ্নিত চিচকে চোরদের দৌরাত্ম্যে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।