

রহস্যজনক ভাবে আবারও বড় বড় অসংখ্য মৃত জেলিফিশ ভেসে আসছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। যেগুলোর একেকটির ওজন নয় থেকে সতেরো কেজি।আগষ্ট মাসের শুরুতেও অসংখ্য মৃত জেলিফিশ সৈকতে ভেসে এসেছিলো। সপ্তাহখানেক পরে আর সেরকমটা না হলেও, মাস না পেরোতেই আবারও ঘটছে একই ঘটনা।কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা জানান,গত তিন দিনে সৈকতের সুগন্ধা, লাবণী, কলাতলী, নাজিরারটেক, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানীসহ টেকনাফ পর্যন্ত একশো বিশ কিলোমিটার সৈকতে অন্তত তিনশোটি মৃত জেলিফিশ ভেসে এসেছে।এছাড়াও গত মাসে একই রকম ভাবে জেলিফিশ ভেসে আসার কারণ জানতে গবেষণা করা দরকার বলেও জানান তিনি।এদিকে মৃত জেলিফিশের সংস্পর্শে না আসার জন্য সৈকত জুড়ে গোসলে নামা পর্যটকদের সচেতন করতে প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন।কারণ এদের সংস্পর্শে এলে শরীলে চুলকানি, চামড়া ফুলে যাওয়া, শরীর জ্বারাপোড়াসহ দেখা দিতে পারে নানান রকমের রোগ।নতুন করে আবারও সৈকতে মৃত জেলিফিশ ভেসে আসা নিয়ে জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ জানান,"গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে সৈকতে জেলিফিশ ভেসে আসতে দেখা যায়। তবে শুক্রবারের জোয়ারের সময় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃত জেলিফিশ ভেসে আসে।শনিবার সকালে জোয়ারের সাথে ত্রিশ থেকে চল্লিশটি মৃত জেলিফিশ ভেসে আসে। সব মিলিয়ে তিন দিনে অন্তত তিনশো দশটি মৃত জেলিফিশ পাওয়া যায় সৈকত জুড়ে।যার মধ্যে একশো বিশটির বেশি মৃত জেলিফিশ বালুচর থেকে সরিয়ে নিয়েছেন জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীরা। বাকি জেলিফিশ গুলো বালুচাপা পড়েছে।"তিনি আরো জানান, পর্যটকদের অনেকেই জেলিফিশ স্পর্শ করে, পাশে বসে ছবি তোলে।যা ঠিক নয়, কারন জেলিফিশ প্রাণঘাতী না হলেও স্পর্শ করা ঠিক না। সংস্পর্শে গেলে শরীরে চুলকানিসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বেদারুজ্জামান জানান, সাগরে মাছ ধরার ট্রলারের জালে আটকা পড়েই বেশির ভাগ জেলিফিশের মৃত্যু হচ্ছে। এছাড়া জেলিফিশের আয়ুষ্কালও কম। মাত্র এক থেকে তিন বছর।আবার সামুদ্রিক কাছিমের প্রিয় খাবার জেলিফিশ। দিন দিন কাছিমের সংখ্যা কমে যাওয়ায় জেলিফিশের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে কিনা সেটাও চিন্তার বিষয় বলেন জানান তিনি।গত এক দশকে কক্সবাজার উপকূলে ডিম ছাড়তে আসা কচ্ছপের সংখ্যা নব্বই ভাগেরও বেশি কমে গেছে।মাত্র এক দশক আগেও সোনাদিয়া থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত কক্সবাজার উপকূলের অন্তত চুয়ান্নটি পয়েন্টে শীত মৌসুমে ডিম পাড়তে আসতো শত শত মা কচ্ছপ।কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে অন্তত তেরোটি পয়েন্টে কচ্ছপের দেখা মিলছে না। বাকি পয়েন্টগুলোতেও ডিম পাড়ছে খুব কম। ফলে কচ্ছপের প্রধান শিকার জেলিফিশের হার বেড়ে যাচ্ছে।মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বেড়ে গেলে জেলিফিশ ব্যাপকভাবে বাচ্চা দেয়। এদের বংশবৃদ্ধির হার এতই বেশি যে, এরা সমুদ্রে জেলিফিশ ব্লুম ঘটাতে পারে। ফলে মৎস্য সম্পদের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।সমুদ্রের ছোট বড় সব মাছের জন্য জেলিফিশ এক মহা আতঙ্কের নাম। অনেক সময় একে মৃত্যুর বাক্সও বলা হয়।এর হুলের আঘাত প্রাণঘাতী হতে পারে এবং মাত্র চার মিনিটেই শিকারকে মেরেও ফেলতে পারে। জেলিফিশের কিছু কিছু প্রজাতি সাপের বিষকেও হার মানিয়ে দেয়। সমুদ্রে এরা এতটাই প্রাণঘাতী যে, এদের দেহকে বায়োলজিক্যাল বুবি ট্র্যাপস বলা হয়।


