বাংলাদেশ


কক্সবাজারে আবার ভেসে আসছে মরা জেলিফিশ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার

কক্সবাজারে আবার ভেসে আসছে মরা জেলিফিশ

রহস্যজনক ভাবে আবারও বড় বড় অসংখ্য মৃত জেলিফিশ ভেসে আসছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। যেগুলোর একেকটির ওজন নয় থেকে সতেরো কেজি।

আগষ্ট মাসের শুরুতেও অসংখ্য মৃত জেলিফিশ সৈকতে ভেসে এসেছিলো। সপ্তাহখানেক পরে আর সেরকমটা না হলেও, মাস না পেরোতেই আবারও ঘটছে একই ঘটনা।

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা জানান,

গত তিন দিনে সৈকতের সুগন্ধা, লাবণী, কলাতলী, নাজিরারটেক, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানীসহ টেকনাফ পর্যন্ত একশো বিশ কিলোমিটার সৈকতে অন্তত তিনশোটি মৃত জেলিফিশ ভেসে এসেছে।

এছাড়াও গত মাসে একই রকম ভাবে জেলিফিশ ভেসে আসার কারণ জানতে গবেষণা করা দরকার বলেও জানান তিনি।

এদিকে মৃত জেলিফিশের সংস্পর্শে না আসার জন্য সৈকত জুড়ে গোসলে নামা পর্যটকদের সচেতন করতে প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন।

কারণ এদের সংস্পর্শে এলে শরীলে চুলকানি, চামড়া ফুলে যাওয়া, শরীর জ্বারাপোড়াসহ দেখা দিতে পারে নানান রকমের রোগ।

নতুন করে আবারও সৈকতে মৃত জেলিফিশ ভেসে আসা নিয়ে জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম বিল্লাহ জানান,

"গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে সৈকতে জেলিফিশ ভেসে আসতে দেখা যায়। তবে শুক্রবারের জোয়ারের সময় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃত জেলিফিশ ভেসে আসে।

শনিবার সকালে জোয়ারের সাথে ত্রিশ থেকে চল্লিশটি মৃত জেলিফিশ ভেসে আসে। সব মিলিয়ে তিন দিনে অন্তত তিনশো দশটি মৃত জেলিফিশ পাওয়া যায় সৈকত জুড়ে।

যার মধ্যে একশো বিশটির বেশি মৃত জেলিফিশ বালুচর থেকে সরিয়ে নিয়েছেন জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীরা। বাকি জেলিফিশ গুলো বালুচাপা পড়েছে।"

তিনি আরো জানান, পর্যটকদের অনেকেই জেলিফিশ স্পর্শ করে, পাশে বসে ছবি তোলে।
যা ঠিক নয়, কারন জেলিফিশ প্রাণঘাতী না হলেও স্পর্শ করা ঠিক না। সংস্পর্শে গেলে শরীরে চুলকানিসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বেদারুজ্জামান জানান, সাগরে মাছ ধরার ট্রলারের জালে আটকা পড়েই বেশির ভাগ জেলিফিশের মৃত্যু হচ্ছে। এছাড়া জেলিফিশের আয়ুষ্কালও কম। মাত্র এক থেকে তিন বছর।

আবার সামুদ্রিক কাছিমের প্রিয় খাবার জেলিফিশ। দিন দিন কাছিমের সংখ্যা কমে যাওয়ায় জেলিফিশের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে কিনা সেটাও চিন্তার বিষয় বলেন জানান তিনি।

গত এক দশকে কক্সবাজার উপকূলে ডিম ছাড়তে আসা কচ্ছপের সংখ্যা নব্বই ভাগেরও বেশি কমে গেছে।

মাত্র এক দশক আগেও সোনাদিয়া থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত কক্সবাজার উপকূলের অন্তত চুয়ান্নটি পয়েন্টে শীত মৌসুমে ডিম পাড়তে আসতো শত শত মা কচ্ছপ।

কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে অন্তত তেরোটি পয়েন্টে কচ্ছপের দেখা মিলছে না। বাকি পয়েন্টগুলোতেও ডিম পাড়ছে খুব কম। ফলে কচ্ছপের প্রধান শিকার জেলিফিশের হার বেড়ে যাচ্ছে।

মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বেড়ে গেলে জেলিফিশ ব্যাপকভাবে বাচ্চা দেয়। এদের বংশবৃদ্ধির হার এতই বেশি যে, এরা সমুদ্রে জেলিফিশ ব্লুম ঘটাতে পারে। ফলে মৎস্য সম্পদের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সমুদ্রের ছোট বড় সব মাছের জন্য জেলিফিশ এক মহা আতঙ্কের নাম। অনেক সময় একে মৃত্যুর বাক্সও বলা হয়।

এর হুলের আঘাত প্রাণঘাতী হতে পারে এবং মাত্র চার মিনিটেই শিকারকে মেরেও ফেলতে পারে। জেলিফিশের কিছু কিছু প্রজাতি সাপের বিষকেও হার মানিয়ে দেয়। সমুদ্রে এরা এতটাই প্রাণঘাতী যে, এদের দেহকে বায়োলজিক্যাল বুবি ট্র্যাপস বলা হয়।



জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

রাত পোহালেই শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে সরঞ্জাম

রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের সকল সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি।

অসহায় সামিয়ার পাশে দাঁড়ালো স্বপ্ন

লালমাই উপজেলার ২ নং বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার ১২ বছর বয়সী অসহায় মেয়ে সামিয়া আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সামিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নগদের ক্যাম্পেইনে হেলিকপ্টার ভ্রমণের স্বপ্ন সত্যি হলো ইমন ও আফজালের

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নগদ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়, যেখানে কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা হেলিকপ্টার ভ্রমণের আকর্ষণীয় পুরস্কার জিততে পারতেন। এই ক্যাম্পেইনের মূল বিজয়ী হয়েছেন ঢাকার দুই গ্রাহক কাজী ইমন ও আফজাল হোসেন।

হাওরে ডুবে যাচ্ছে বোরো ধান, গবাদিপশুর খাদ্যে পরিণত কৃষকের স্বপ্ন

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় অপরিপক্ক বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা বাধ্য হয়ে কোমর পর্যন্ত পানিতে নেমে কাঁচা ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।