বাংলাদেশ


ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪০টি ব্যক্তিগত গাড়ি


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার

ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪০টি ব্যক্তিগত গাড়ি

ঢাকায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে। প্রতিদিন যোগ হচ্ছে প্রায় ৪০টি নতুন ব্যক্তিগত গাড়ি। বাড়ছে মোটরসাইকেলের সংখ্যাও।

বর্তমানে ঢাকার রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ৬৭% বাড়লেও গণপরিবহন বেড়েছে মাত্র ২%। এ চিত্রই বলে দিচ্ছে অন্যান্য যানবাহনের তুলনায় গণপরিবহনের হার খুবই কম। 

২৫০ বর্গকিলোমিটারের এই ছোট্ট শহরের মতো এত যানবাহনের ভীর পৃথিবীর আর কোথাও নেই। 
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৮ লাখ ৯৩ হাজার ৫৩৪টি বৈধ রেজিস্ট্রেশন করা বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে প্রতিদিন। 

২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী ৩৭ লাখ ৯০ হাজার ১৪২টি মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়েছে। অপরদিকে রাজধানীতে প্রতিদিন ৯ লাখ ৭২ হাজার ৭৮০টি মোটরসাইকেল চলাচল করে। 

তবে গণপরিবহনের সখ্যাও কম নয়। গড়ে ৩৮ হাজার ৬২৬টি বাস এবং ৮৮ হাজার ৭১৬ টি মিনিবাস সহ আরও বিভিন্ন ধরণের যানবাহন চলাচল করছে। 

এছাড়া  রাজধানীতে রেজিস্ট্রেশনকৃত চলাচলকারী  বৈধ পিকআপের সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৩৮২টি। গত সাত মাসে নতুন রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ২৮৫টি পিকআপের। 

৮৮ হাজার ৭১৬টি রেজিস্ট্রেশনকৃত মাইক্রোবাসের মধ্যে জুলাই পর্যন্ত গত সাত মাসে নতুন রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়েছে ৪ হাজার ১৫৫টির।

উন্নত বিশ্ব যখন নগর পরিকল্পনায় গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনতে ব্যাস্ত, বাংলাদেশে তখন তার উল্টো দৃশ্য দেখা যায়। ঢাকায় মানুষ ও গাড়ি সমান তালে বাড়লেও বাড়ছে না সড়ক। ফলসরূপ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে যানজট।

ঢাকার আরেক নাম হয়ে ওঠছে ট্রাফিক জ্যামের শহর। এতে যেমন নষ্ট হচ্ছে কর্মঘন্টা তেমনি ভোগান্তি বাড়ছে মানুষের। তীব্র যানযটের জন্য অনিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগত গাড়ি বাড়ানোকেই দুষছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। 

প্রাণের শহর এই ঢাকা বসবাসের অযোগ্য বলে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইআইইউ সংস্থা। এর কারণ হিসেবে দূষণ ও যানজটকেই প্রধান করা হয়েছে। আর যানজটই মূলত বায়ু দূষণের মূল কারণ। পৃথিবীর কোনো মেগাসিটিতেই এতটা যানজট নেই।

এ শহরে পাখির ডাকে নয় বরং গাড়ির হর্নের শব্দে ভোরের ঘুম ভাঙে। এখন মানুষ আর একে মসজিদের শহর  নয় বরং যানজটের শহর বলেই আখ্যা দেয়। 

২০১৮ সালে ঢাকা শহর যানজটের দিক থেকে পৃথিবীতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল, এক বছর পরেই সেটি প্রথম স্থানে চলে এসেছে।

জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা না থাকার কারণেই মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ির প্রতি আকৃষ্ট হয়। অর্থনৈতিক প্রবদ্ধির কারণে বেড়েছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। ফলে ধনী হিসেবে পরিচিত মানুষদের একাধিক গাড়ি ব্যবহার করতে দেখা যায়। 

ফলস্বরূপ ফ্লাইওভার বানিয়েও লাভ হয়নি বরং ঢাকার রাস্তা ব্যক্তিগত গাড়িতে সয়লাভ হয়ে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে জনবান্ধন গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুকেই এর একমাত্র প্রতিকার বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এজন্যই মেট্রোরেল,বিআরটি , বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজ এবং মানসম্মত ফুটপাত তৈরিসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ চলমান রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে এসব কার্যক্রম শেষ হলে যানযট কমে আসবে।

পাশাপাশি পুরনো যানবাহন যথাযথ প্রক্রিয়ায় জীবনাবসানের জন্য গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো সম্পন্ন হলে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পর্যায়ক্রমে পদক্ষেপ নেয়া হবে। 

সেজন্য এখন থেকেই নগরবাসীর কাছে বার্তা দেয়া দরকার। বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস উদযাপনের মাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব।



জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

রাত পোহালেই শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে সরঞ্জাম

রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের সকল সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি।

অসহায় সামিয়ার পাশে দাঁড়ালো স্বপ্ন

লালমাই উপজেলার ২ নং বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার ১২ বছর বয়সী অসহায় মেয়ে সামিয়া আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সামিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নগদের ক্যাম্পেইনে হেলিকপ্টার ভ্রমণের স্বপ্ন সত্যি হলো ইমন ও আফজালের

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নগদ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়, যেখানে কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা হেলিকপ্টার ভ্রমণের আকর্ষণীয় পুরস্কার জিততে পারতেন। এই ক্যাম্পেইনের মূল বিজয়ী হয়েছেন ঢাকার দুই গ্রাহক কাজী ইমন ও আফজাল হোসেন।

হাওরে ডুবে যাচ্ছে বোরো ধান, গবাদিপশুর খাদ্যে পরিণত কৃষকের স্বপ্ন

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় অপরিপক্ক বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা বাধ্য হয়ে কোমর পর্যন্ত পানিতে নেমে কাঁচা ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।