

আগামী ডিসেম্বর থেকে কোনো লোডশেডিং থাকবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান।তিনি জানান, ইদানিং কিছুটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে তা ঠিক , তবে সেটি সাময়িক। কিন্তু চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা থাকবে না।বর্তমানে ডলারের সংকট আছে, সাথে আছে জ্বালানি সংকট। খুব দ্রুত সমস্যা কেটে যাবে। শীত এলে বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসবে। আগামী ডিসেম্বর থেকে এক এক করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হবে। একই সময়ে সঞ্চালন লাইনের কাজও শেষ হবে। সব মিলিয়ে আশা করা হচ্ছে, ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী সময়ে লোডশেডিং থাকবে না।’তিনি আরও বলেন, দেশে যত বেশি শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে বিদ্যুতের চাহিদা তত বাড়তে থাকবে। আর সে বিষয় বিবেচনা করে এরই মধ্যে মাস্টার প্লান নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে, সৌর বিদ্যুৎ হতে পারে এর বড় সমাধান। সোলার দিয়ে চাহিদার বড় একটি অংশ মোকাবিলা করার চেষ্টা চলানো হচ্ছে।এ ছাড়া চাহিদার সঙ্গে উৎপাদন বাড়লেও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান মাহবুবুর রহমান।দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে জনজীবন। স্থবির হয়ে গেছে শিল্পের চাকা। রাজধানী ঢাকা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা—সব জায়গাতেই বেড়েছে লোডশেডিং।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন মার্কিন ডলারের চড়া দরের কারণে নগদ অর্থের অভাবে পড়েছে সরকার।তাছাড়া বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দামও বাড়তি। তাই অর্থ সংকটের কারণে চাইলেও আমদানি বাড়ানো যাচ্ছে না। বরং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানি কমাতে হচ্ছে।এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর সরকারি অফিসে বিদ্যুতের ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর সাথে সাথে রাজধানী ঢাকাসহ শহর এলাকাগুলোতে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং শুরু হয়। পাশাপাশি রাত আটটার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করারও সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। বিদ্যুৎ নিয়ে এমন অবস্থা তৈরি হলেও জনগণকে আতঙ্কগ্রস্ত না হতে আহ্বান জানানো হয় সরকারের পক্ষ থেকে।এরপর সেপ্টেম্বরে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।তখন পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় আবার অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং থাকবে না বলে জানিয়েছিলেন তিনি।প্রতিমন্ত্রী ধারণা করেছিলেন আগাম শীতে বিদ্যুতের চাহিদা কমবে। কিন্তু গরম না কমায় সেটিও কাজে আসেনি।অক্টোবর শেষের দিকে চলে এলেও পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হচ্ছিল, না তখন নতুন করে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নতির আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী নসরুল।২৭ অক্টোবর ব্র্যাক ইন সেন্টারে নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক সেমিনারে যোগ দেয়ার পর এ কথা বলেন তিনি।সেখানে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।’কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২৮ অক্টোবর আবারো নসরুলের কথার মোড় ঘুরালেন পিডিবি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান। এবার এক উদ্ভোদনী অনুষ্ঠানে তিনি ডিসেম্বর মাসে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে নিশ্চিত করেছেন।বৈশ্বিক অস্থিরতা, ডলার ও জ্বালানি সংকট থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন নই। যার কারণে জ্বালানি সাপ্লাই চেইনের ক্ষেত্রে কিছুটা বিঘ্ন হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি হোক, সেটাই এখন সবার চাওয়া।


