বাংলাদেশ


১০০ টাকার প্রাইজবন্ডের সর্বোচ্চ পুরষ্কার ৬ লাখ টাকা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০২ নভেম্বর ২০২২, ১২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার

১০০ টাকার প্রাইজবন্ডের সর্বোচ্চ পুরষ্কার ৬ লাখ টাকা

মাত্র ১০০ টাকা দিয়ে প্রাইজবন্ড কিনে আপনিও  পেয়ে যেতে পারেন সর্বোচ্চ পুরস্কার ৬ লাখ টাকা। গেলো সোমবার বাংলাদেশ প্রাইজবন্ডের ১০৯ তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

ছয় লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার পেয়েছে এক সৌভাগ্যবান ব্যক্তি। তার প্রাইজবন্ডের নম্বর ০০৯৮৬৬৭। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সমাজের বড় একটা অংশই ভাগ্যে বিশ্বাস করে। ভাগ্যের ওপর আস্থাশীল মানুষের জন্যই দেশে প্রাইজবন্ড আকারে একটা সঞ্চয় কর্মসূচি চালু রয়েছে ১৯৭৪ সাল থেকে। 

মূলত সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য ‘বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড’ নামে এই বন্ড চালু করে সরকার। মধ্যবিত্তদের সঞ্চয়ের অন্যতম মাধ্যম এটি। 

প্রাইজবন্ডকে পুরস্কার বন্ড এবং লটারি বন্ডও বলা হয়। যেকোনো সময় এটি কেনা যায় এবং ভাঙিয়ে টাকা ফেরত নেওয়া যায়। 

বছরে চারবার প্রাইজবন্ডের ভাগ্যপরীক্ষা বা ড্র অনুষ্ঠিত হয়। নিদিষ্ট তারিখ গুলো হল ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর। নির্ধারিত তারিখে কোনো সরকারি ছুটি থাকলে ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

ভাগ্যপরীক্ষার ফলাফল সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েব সাইট অথবা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

তাছাড়া প্রাইজবন্ডের ক্রেতারা যাতে সহজেই ড্রয়ের ফলাফল মেলাতে পারেন সেজন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ প্রাইজ বন্ড রেজাল্ট ইনকোয়ারি সফটওয়্যার তৈরি করেছে। এ সফটওয়্যাটের মাধ্যমে অতি সহজেই প্রাইজবন্ড সম্পর্কে খবরাখবর পাওয়া যায়। 

ড্র অনুষ্ঠানের দুই বছর পর্যন্ত পুরস্কারের টাকা দাবি করতে পারবেন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি। এর মধ্যে কেউ দাবি না করলে পুরস্কারের অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যায়।

প্রাইজবন্ডের ড্র করে থাকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারকে চেয়ারম্যান করে গঠিত কমিটি। কেনার দুই মাস পার হওয়ার পর ড্রয়ের আওতায় আসে। নতুন কেনা প্রাইজবন্ডের পাশাপাশি আগে কিনে রাখা বন্ডও ড্রয়ের আওতায় থাকে।

প্রাইজবন্ড বিক্রি করে সরকার সরাসরি জনগণের কাছ থেকে ঋণ নেয়। যারা প্রাইজবন্ডের পুরষ্কার পাবেন তাদের উপর আয়কর প্রযোজ্য হয়।

সরকারি নীতি মোতাবেক প্রতি পুরষ্কারের উপরই ২০ শতাংশ হারে আয়কর নির্ধারণ করা আছে। অর্থাৎ পুরষ্কারের প্রতি ১০০ টাকায় ২০ টাকা কর দিতে হয়।

প্রাইজবন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, ক্যাশ অফিস ও ডাকঘর থেকে কেনা ও ভাঙানো যায়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোথাও লেনদেন সাধারণত বেআইনি।

শুরুতে ১০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড প্রচলন ছিল। ১৯৮৫ সালে চালু হয় ৫০ টাকা মূল্যমানের বন্ড। আরও ১০ বছর পর ১৯৯৫ সালে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু হয়। এরপর ১০ টাকা ও ৫০ টাকা মূল্যমানের বন্ডগুলো সরকার তুলে নেয়। 

বিশ্বে প্রথম প্রাইজবন্ড চালু হয় ১৯৫৬ সালে আয়ারল্যান্ডে। একই বছর যুক্তরাজ্যে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রিমিয়াম বন্ড নামে ছাড়া হয়। 

দেশে সাধানরত একজন ব্যক্তি ৪৫ লাখ টাকার সমপরিমান প্রাইজবন্ড কিনতে পারেন। এত দিন ৪ কোটি ৪০ লাখ প্রাইজবন্ড থাকলেও সম্প্রতি এর পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

বিয়ে, বিবাহবার্ষিকী, জন্মদিন, সুন্নতে খতনা, র‍্যাফেল ড্র এসব অনুষ্ঠানে প্রাইজবন্ড উপহার দেওয়ার বেশ প্রচলন রয়েছে আমাদের দেশে।



জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগে ‘ঘরের বাজার’কে ৭.৮৭ লাখ টাকা জরিমানা

আয়কর সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে দেশের পরিচিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘ঘরের বাজার’-কে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫১৪ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কিছু পণ্যের মান ও বিপণন পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোক্তাদের একাংশ বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন।

বিএসটিআই পরীক্ষায় হায়ারের ২ টনের এসিতে কম কুলিং ক্ষমতার অভিযোগ

রাজধানীর গুলশানে পরিচালিত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) এক অভিযানে অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রির দায়ে হায়ার বাংলাদেশ লিমিটেডকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে জব্দ করা দুটি ২ টনের এয়ার কন্ডিশনার (এসি) পরীক্ষার পর ঘোষিত কুলিং ক্ষমতার সঙ্গে প্রকৃত সক্ষমতার অমিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

অনুমোদনহীন খাদ্যপণ্য বিক্রি, আগোরাকে এক লাখ টাকা জরিমানা

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর অনুমোদন ছাড়াই বেকিং পাউডার, আইসিং সুগার ও কাস্টার্ড পাউডার বিক্রির অভিযোগে দেশের অন্যতম রিটেইল সুপারস্টোর চেইন আগোরা লিমিটেডকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শিত মেসির স্বাক্ষরিত জার্সি, ভিড় করছেন ফুটবলপ্রেমীরা

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসির স্বাক্ষর করা আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের একটি জার্সি এখন প্রদর্শিত হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে। বিরল এই স্মারকটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। বিশেষ করে মেসি-ভক্ত ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে জার্সিটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।