

রাজধানী ঢাকার চারটি খাল সংস্কার করে হাতির ঝিলের মতো নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারন করা হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য।জানা গেছে দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার খাল নিয়ে ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশনের মাঝে বিবাদ চলছিল। তবে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর খাল গুলো ঢাকার হাতে দুই সিটি করপোরেশনের হাতে ন্যস্ত করে ঢাকা ওয়াসার সাথে একটা চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। এরপর থেকেই খাল গুলোর অভিভাবক হয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৪ টি খালকে নান্দনিক সাজে গড়ে তোলার প্রকল্প হাতে নিয়েছে ডি এন সি সি। অপরিকল্পিত নগরায়ন, সচেতনতার অভাব ও সমাজের অসাধু শ্রেনির মানুষের বলি হয়ে থাকা এসব খাল হয়ে উঠবে নির্মল ও স্বাস্থ্যকর বাতাসের উৎস।বর্তমানে ময়লা আর্বজনায় ভরাট হয়ে আছে এসব খাল যার ফলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। দিন দিন জলাবদ্ধতার সমস্যা বেড়েই চলেছে। নগরীর আয়তন বাড়লেও প্রতিনিয়ত ছোট হয়ে যাচ্ছে এসব জলাশয় ও খাল। নোংরা পানি জমে থাকায় বাড়ছে মশা এবং রোগজীবানুর বংশবিস্তার। এতে করে এলাকাবাসীদের মাঝে পানি বাহিত রোগ বিস্তার লাভ করছে। এরকম পরিস্থিতিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন চারটি খাল সংস্কার করে নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করার মতো জনকল্যাণমুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছে।প্রকল্পটির অন্তর্ভুক্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটির কালুনগর, জিরানি, মান্ডা ও শ্যামপুরের চারটি খালে ১৯ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন সহ হাতিরঝিলের মতো প্রতিটি খালের পাশে নান্দনিক সাজে তৈরি করা হবে বিনোদন কেন্দ্র। এতে খালগুলোর সাথে এলাকাগুলোও নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে। এ নিয়ে গত ১১ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ৮৯৮ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প পাস হয়। সিটি করপোরেশন সুত্র জানায় প্রথম ধাপে খালের ময়লা আর্বজনা পরিষ্কার, পলি ব্যাগ অপসারণ, নিকাশ কাঠামো নির্মাণ, ল্যান্ডস্কেপিং ও সবুজায়ন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে আট ফুট উচ্চতার দৃষ্টি নন্দন সুরক্ষা বেষ্টনী নির্মাণ করা হবে। সাথে প্রায় ৩৬ টি পথচারী সেতু, ১৯ টি গাড়ি চলাচল সেতু, ১০ টি পাবলিক টয়লেট, ৩২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ৪ টি প্লাজাসহ বাইসাইকেল লেন তৈরি করা হবে। এছাড়াও সাজসজ্জার জন্য ৭৭১ টি নান্দনিক বাতি স্থাপন করার ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।প্রাথমিক ভাবে পাস হওয়া খালের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শুরু হবে। যা শেষ হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে। এই প্রকল্পের ৬২৯ কোটি ১১ লাখ টাকা দেবে সরকার এবং বাকি ২৬৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নিজ অর্থায়ন থেকে ব্যয় করবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরীর খাল গুলোতে অবাধ পানি প্রবাহের সৃষ্টি হবে। নান্দনিক পরিবেশ দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করবে।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিবেশ ও জলবায়ু তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের বলেন দখল ও দূষণে নগরীর খাল গুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে মশার বিস্তার বাড়ছে। সাথে বাড়ছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। আর এসব অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিরসনে কর্পোরেশন ৪ টি খাল উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তিনি আর ও জানান এ প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর মানুষ ওয়াক ওয়েতে হাঁটতে পারবে, পথচারী সেতুতে সময় কাটাতে পারবে এবং খালের উপর নির্মাণ করা উন্মুক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় আড্ডাও জমাতে পারবে।



