বাংলাদেশ


ঢাকার চার খাল সংস্কার করে তৈরি হচ্ছে নান্দনিক পরিবেশ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৬ নভেম্বর ২০২২, ০৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার

ঢাকার চার খাল সংস্কার করে তৈরি হচ্ছে নান্দনিক পরিবেশ

রাজধানী ঢাকার চারটি খাল সংস্কার করে হাতির ঝিলের মতো  নান্দনিক পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারন করা হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য।

জানা গেছে দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার খাল নিয়ে ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশনের মাঝে বিবাদ চলছিল। তবে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর খাল গুলো ঢাকার হাতে দুই সিটি করপোরেশনের হাতে ন্যস্ত করে ঢাকা ওয়াসার সাথে একটা চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়। এরপর থেকেই খাল গুলোর অভিভাবক হয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৪ টি খালকে নান্দনিক সাজে গড়ে তোলার প্রকল্প হাতে নিয়েছে ডি এন সি সি। অপরিকল্পিত নগরায়ন, সচেতনতার অভাব ও সমাজের অসাধু শ্রেনির মানুষের বলি হয়ে থাকা এসব খাল হয়ে উঠবে নির্মল ও স্বাস্থ্যকর বাতাসের উৎস।

বর্তমানে ময়লা আর্বজনায় ভরাট হয়ে আছে এসব খাল যার ফলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। দিন দিন জলাবদ্ধতার সমস্যা বেড়েই চলেছে। নগরীর আয়তন বাড়লেও প্রতিনিয়ত ছোট হয়ে যাচ্ছে এসব জলাশয় ও খাল। নোংরা পানি জমে থাকায় বাড়ছে মশা এবং রোগজীবানুর বংশবিস্তার। 

এতে করে এলাকাবাসীদের মাঝে পানি বাহিত রোগ বিস্তার লাভ করছে। এরকম পরিস্থিতিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন চারটি খাল সংস্কার করে নান্দনিক পরিবেশ তৈরি করার মতো জনকল্যাণমুখী প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

প্রকল্পটির অন্তর্ভুক্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটির কালুনগর, জিরানি, মান্ডা ও শ্যামপুরের চারটি খালে ১৯ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন সহ হাতিরঝিলের মতো  প্রতিটি খালের পাশে নান্দনিক সাজে তৈরি করা হবে বিনোদন কেন্দ্র। এতে খালগুলোর সাথে এলাকাগুলোও নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে। 

এ নিয়ে গত ১১ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ৮৯৮ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প পাস হয়। সিটি করপোরেশন সুত্র জানায় প্রথম ধাপে খালের ময়লা আর্বজনা পরিষ্কার, পলি ব্যাগ অপসারণ, নিকাশ কাঠামো নির্মাণ, ল্যান্ডস্কেপিং ও সবুজায়ন করা হবে। 


দ্বিতীয় ধাপে নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে আট ফুট উচ্চতার দৃষ্টি নন্দন সুরক্ষা বেষ্টনী নির্মাণ করা হবে। সাথে প্রায় ৩৬ টি পথচারী সেতু, ১৯ টি গাড়ি চলাচল সেতু, ১০ টি পাবলিক টয়লেট, ৩২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে, ৪ টি প্লাজাসহ বাইসাইকেল লেন তৈরি করা হবে। এছাড়াও সাজসজ্জার জন্য ৭৭১ টি নান্দনিক বাতি স্থাপন করার ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।


প্রাথমিক ভাবে পাস হওয়া খালের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শুরু হবে। যা শেষ হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে। এই প্রকল্পের ৬২৯ কোটি ১১ লাখ টাকা দেবে সরকার এবং বাকি ২৬৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নিজ অর্থায়ন থেকে ব্যয় করবে। 

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরীর খাল গুলোতে অবাধ পানি প্রবাহের সৃষ্টি হবে। নান্দনিক পরিবেশ দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করবে।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিবেশ ও জলবায়ু তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের বলেন দখল ও দূষণে নগরীর খাল গুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে মশার বিস্তার বাড়ছে। সাথে বাড়ছে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। আর এসব অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিরসনে কর্পোরেশন ৪ টি খাল উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। 

তিনি আর ও জানান এ প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর মানুষ ওয়াক ওয়েতে হাঁটতে পারবে, পথচারী সেতুতে সময় কাটাতে পারবে এবং খালের উপর নির্মাণ করা উন্মুক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় আড্ডাও জমাতে পারবে।







জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

আজ দুই ঘণ্টা কিছু গ্রাহকের মোবাইল নেটওয়ার্কে সাময়িক বিঘ্ন হতে পারে, কারণ জানাল অ্যামটব

দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিছু গ্রাহকের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের কারণেই এ ধরনের সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

বসুন্ধরায় দেড় কোটি টাকায় কেনা ফ্ল্যাটে ‘লুটের’ অভিযোগ প্রবাসী তানিয়া রহমানের

দশ বছর ইংল্যান্ডে প্রবাসজীবন কাটিয়ে স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরেন তানিয়া রহমান। লক্ষ্য ছিল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে উঠবেন, নতুন করে শুরু করবেন জীবনের অধ্যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে।

৪৬ কোটির বরাদ্দ, পাঁচ বছরে ব্যয় প্রায় ১৮৮ কোটি- তবু অভিযান চললেও মরছে না মশা

রাজধানীতে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। মশা নিধন সিটি করপোরেশনের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কার্যকারিতা নিয়ে। এমন প্রেক্ষাপটে ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে নতুন সরকার?

বাংলাদেশে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছেন, “মব কালচারের দিন শেষ।” দাবি আদায়ের নামে দলবদ্ধ সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।