বাংলাদেশ


মৃত্যুর পরও ওসমান হাদির যে বক্তব্য এখন সবচেয়ে আলোচনায়


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার

মৃত্যুর পরও ওসমান হাদির যে বক্তব্য এখন সবচেয়ে আলোচনায়

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কিছু বক্তব্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মৃত্যুর পর তার বলা কথাগুলো নতুন করে নাড়া দিচ্ছে মানুষকে অনেকের চোখে জল, অনেকের মনে ক্ষোভ আর প্রশ্ন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারতীয় আধিপত্যবাদ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ব এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব ছিলেন তিনি, যা বারবার উঠে এসেছে তার বক্তব্যে।

 

মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই এক আলোচিত বক্তব্যে হাদি বলেছিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত বুকে বা মাথায় গুলি না লাগবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেব না। তবে যদি আমাদের গুলি করে মেরে ফেলা হয়, তাহলে যেন খুনিদের ধরে বিচার করা হয়। সেটা করতে না পারলে নতুন কেউ জন্মাবে না।

 

গুলিতে নিহত হওয়ার পর এই বক্তব্যই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত। অনেকেই বলছেন, যেন নিজের পরিণতির কথাই আগেই বলে গিয়েছিলেন তিনি। আরও একটি বক্তব্য সাধারণ মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে গভীরভাবে। নিজের শিশু সন্তানকে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, আল্লাহ যদি আমাকে নিয়ে যায়, আমার বাচ্চাটার দিকে একটু খেয়াল রাখবেন।

 

শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর নির্বাচনী গণসংযোগের উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে ঢাকায় এবং পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। টানা সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

জীবদ্দশায় হাদি বারবার দেশপ্রেমের প্রশ্নে আপসহীন থাকার কথা বলেছেন। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, জীবন যাবে, তবু দেশপ্রেমের প্রশ্নে আপস করব না। পুরো দুনিয়া লিখে দিলেও দেশের সঙ্গে, জমিনের সঙ্গে গাদ্দারি করব না।

 

রাজনীতিবিদদের উদ্দেশে তার প্রশ্নও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তিনি বলেছিলেন, রাজনীতি তো বেতন দেয় না। তাহলে রাজনীতিবিদরা চলে কীভাবে এই প্রশ্ন যদি মানুষ করা শুরু করে, তাহলে বাধ্য হয়ে এমপি–মন্ত্রীদের ছোট দোকান হলেও খুলতে হবে।

 

ভোটারদের উদ্দেশেও ছিল তার স্পষ্ট বার্তা- প্রতীক দেখে নয়, প্রার্থী দেখে ভোট দেবেন। একজন ভালো মানুষকে একবার ভোট দিলে আপনি আর আপনার পরিবার পাঁচ বছর ভালো থাকবে।

 

নিজের নির্বাচনী জয় নিয়ে তিনি খুব একটা মরিয়া ছিলেন না। বরং রাজনীতির দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের কথাই বেশি বলেছেন। হাদি বলেছিলেন, নির্বাচন করলে জিতব এইটা প্রথম কথা না। আমরা রাজনীতির গতিপথ বদলাতে চাই। হয়তো আগামী ৫০ বছরে জিততেও পারি, নাও পারি। কিন্তু নতুন একটা ধারা তৈরি করতে চাই।

 

জুলাই আন্দোলনের পর রাজনীতির গতিপথ নিয়ে হতাশাও গোপন করেননি তিনি। এনসিপির সমালোচনা করে হাদি বলেছিলেন, জুলাই আন্দোলনকে কুক্ষিগত করা হয়েছে, দুর্নীতিও হয়েছে। আজ থেকে দশ মাস আগে যারা আন্দোলনে আহত ছিল, তারা কীভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হয় এই প্রশ্নের জবাব ইতিহাসকে দিতে হবে।

 

মৃত্যু নিয়ে তার ভাবনাও ছিল ব্যতিক্রমী ও সাহসী। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, যিনি রাজনীতি করেন, যিনি সংগ্রামী তার মৃত্যু ঘরে বসে হতে পারে না। আমি স্বপ্ন দেখি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক বিশাল মিছিলের সামনে দাঁড়িয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হব।

 

তিনি আরও বলেন, একজন শহীদের রক্তের বিনিময়ে যদি বাংলাদেশ গড়ে ওঠে, তাহলে হাজার বছর মানুষ তার জন্য দোয়া করবে।

 

সবশেষে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে হাদির কণ্ঠে ছিল দৃঢ় ঘোষণা আমরা হয়তো মরে যাব, শহীদ হয়ে আল্লাহর কাছে চলে যাব। কিন্তু যতক্ষণ বেঁচে থাকি, ততক্ষণ ইনসাফের বাংলাদেশের জন্য লড়াই করব।

 

মৃত্যুর পর এসব কথাই যেন নতুন করে ফিরে এসেছে মানুষের মনে। অনেকের কাছে শরিফ ওসমান হাদি এখন শুধু একটি নাম নয় তিনি হয়ে উঠেছেন প্রতিবাদ, সাহস আর ইনসাফের প্রতীক।


জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

অসহায় সামিয়ার পাশে দাঁড়ালো স্বপ্ন

লালমাই উপজেলার ২ নং বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার ১২ বছর বয়সী অসহায় মেয়ে সামিয়া আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সামিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নগদের ক্যাম্পেইনে হেলিকপ্টার ভ্রমণের স্বপ্ন সত্যি হলো ইমন ও আফজালের

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নগদ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়, যেখানে কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা হেলিকপ্টার ভ্রমণের আকর্ষণীয় পুরস্কার জিততে পারতেন। এই ক্যাম্পেইনের মূল বিজয়ী হয়েছেন ঢাকার দুই গ্রাহক কাজী ইমন ও আফজাল হোসেন।

হাওরে ডুবে যাচ্ছে বোরো ধান, গবাদিপশুর খাদ্যে পরিণত কৃষকের স্বপ্ন

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় অপরিপক্ক বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা বাধ্য হয়ে কোমর পর্যন্ত পানিতে নেমে কাঁচা ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।

শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেফতারের আগে প্রায় দেড় বছর “আত্মগোপনে”কোথায় ছিলেন?

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের দুই বছর পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটায় ধানমন্ডি এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। এরপর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।