বাংলাদেশ
কে ধরবে হাদির হাতে গড়া ফ্যাসিবাদবিরোধী ইনকিলাব মঞ্চের হাল

ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠসর শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে এক গভীর শূন্যতা। জুলাই আন্দোলনের লড়াকু এই সংগঠক শুধু একজন প্রতিবাদী নেতা নন, বরং নতুন প্রজন্মের রাজনীতিতে একটি আলাদা ভাষা ও ধারার প্রতিনিধিত্ব করতেন।
১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতার গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর টানা এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত চিরবিদায় নেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর যে কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম নতুন প্রজন্মের রাজনীতিতে জোরালো উপস্থিতি তৈরি করে, ইনকিলাব মঞ্চ ছিল তাদের অন্যতম। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অভিজ্ঞতা, সাংস্কৃতিক ভাষা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক বক্তব্য সব মিলিয়ে হাদির নেতৃত্বে ইনকিলাব মঞ্চ দ্রুতই পরিচিত হয়ে ওঠে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির এক প্রতীক হিসেবে।
রাজপথের স্লোগান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীক্ষ্ণ ভাষ্য এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার নানা অসংগতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান এই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন হাদি নিজেই। সংগঠনের কর্মসূচির ধরন, বক্তব্যের ভাষা ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তাঁর ভূমিকা ছিল সরাসরি ও প্রভাবশালী।
হাদির মৃত্যুর পর ইনকিলাব মঞ্চ কার্যত নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় পড়েছে এমনটাই বলছেন সংগঠনটির একাধিক কর্মী। এখনো পর্যন্ত সংগঠনটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে কর্মসূচি, বা ভবিষ্যৎ কৌশল সবকিছুই রয়েছে অনিশ্চয়তার মধ্যে।
এরই মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের একটি সমাবেশে উপস্থিত হয়ে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ঘোষণা দেন, এখন থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সার্বিক দায়িত্ব তিনি নেবেন। তাঁর এই বক্তব্য সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
তবে এ বিষয়ে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।
হাদির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান ছিল স্পষ্ট। তিনি আওয়ামী লীগ, সেনাবাহিনী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর সক্রিয় প্রচারণা ইনকিলাব মঞ্চকে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির আলোচনায় নিয়ে আসে।
ইনকিলাব মঞ্চ এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছিল আন্দোলন থেকে ক্ষমতার রাজনীতির দিকে। আর এই রূপান্তরই সংগঠনটির ওপর রাজনৈতিক চাপ ও ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
হাদির মৃত্যুতে ইনকিলাব মঞ্চ এখন একটি কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে একজন লড়াকু নেতার অনুপস্থিতি, অন্যদিকে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির উত্তরাধিকার এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, হাদির রেখে যাওয়া আন্দোলনকে কে এবং কীভাবে এগিয়ে নেবে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
অসহায় সামিয়ার পাশে দাঁড়ালো স্বপ্ন
লালমাই উপজেলার ২ নং বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার ১২ বছর বয়সী অসহায় মেয়ে সামিয়া আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সামিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নগদের ক্যাম্পেইনে হেলিকপ্টার ভ্রমণের স্বপ্ন সত্যি হলো ইমন ও আফজালের
পবিত্র রমজান উপলক্ষে নগদ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়, যেখানে কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা হেলিকপ্টার ভ্রমণের আকর্ষণীয় পুরস্কার জিততে পারতেন। এই ক্যাম্পেইনের মূল বিজয়ী হয়েছেন ঢাকার দুই গ্রাহক কাজী ইমন ও আফজাল হোসেন।

হাওরে ডুবে যাচ্ছে বোরো ধান, গবাদিপশুর খাদ্যে পরিণত কৃষকের স্বপ্ন
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় অপরিপক্ক বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা বাধ্য হয়ে কোমর পর্যন্ত পানিতে নেমে কাঁচা ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।

শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেফতারের আগে প্রায় দেড় বছর “আত্মগোপনে”কোথায় ছিলেন?
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের দুই বছর পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটায় ধানমন্ডি এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। এরপর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।


.jpg)




