বাংলাদেশ


সরকারি সেবায় ঘুষের প্রবণতায় শীর্ষে নোয়াখালী ও কুমিল্লা


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার

সরকারি সেবায় ঘুষের প্রবণতায় শীর্ষে নোয়াখালী ও কুমিল্লা

বাংলাদেশে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ঘুষ দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে নোয়াখালী ও কুমিল্লা জেলার মানুষের মধ্যে। একই সঙ্গে আয়ের ভিত্তিতে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে ধনী শ্রেণির মানুষেরাই বেশি ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) ২০২৫–এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

 

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে জরিপের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিএস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী।

 

জরিপে দেখা যায়, গত ১২ মাসে যারা সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তাদের মধ্যে জাতীয়ভাবে গড়ে ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশ ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে জেলা পর্যায়ে এই হার আরও বেশি। নোয়াখালীতে সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগকারী নাগরিকদের মধ্যে ৫৭ দশমিক ১৭ শতাংশ ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কুমিল্লা, যেখানে এই হার ৫৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এরপর ফরিদপুরে ৫১ দশমিক ৭০ শতাংশ, ভোলায় ৪৯ দশমিক ০১ শতাংশ এবং সিরাজগঞ্জে ৪৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ মানুষ ঘুষ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এসব জেলায় ঘুষ প্রদানের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

 

Related posts here

 

অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে কম ঘুষ দেওয়ার হার দেখা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এখানে হার ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এরপর মাগুরা (১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ), লালমনিরহাট (১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ), গাজীপুর (১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ) ও সিলেট (১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ) জেলার অবস্থান। এসব জেলায় ঘুষ প্রদানের হার জাতীয় গড়ের অনেক নিচে।

 

আয়ভিত্তিক বিশ্লেষণে আরও ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, সবচেয়ে ধনী শ্রেণির ৩৫ দশমিক ১৬ শতাংশ মানুষ ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। বিপরীতে সবচেয়ে দরিদ্র শ্রেণিতে এই হার ২৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। মধ্যম আয়ের ক্ষেত্রে ঘুষ দেওয়ার হার ৩২ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং উচ্চ-মধ্যম আয়ের ক্ষেত্রে ৩৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ, আয়ের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুষ দেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্য প্রচলিত ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সাধারণভাবে মনে করা হয়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীই বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়। কিন্তু বিবিএসের জরিপে দেখা যাচ্ছে, উচ্চ আয়ের মানুষ সরকারি কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে বা বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করতে তুলনামূলকভাবে বেশি ঘুষ দিচ্ছেন অথবা তাঁদের কাছ থেকেই বেশি ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। এতে স্পষ্ট হয়, দুর্নীতি কেবল দারিদ্র্যজনিত সমস্যা নয়; এটি একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ও আচরণগত সংকট।

 

বিবিএস জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশের ৬৪ জেলার ৪৫ হাজার ৮৮৮টি খানায় ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী ৮৪ হাজার ৮০৭ জন নারী ও পুরুষ এই জরিপে অংশ নেন। নাগরিকদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে নিরাপত্তা, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার ও বৈষম্য জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১৬–এর ছয়টি সূচকের অগ্রগতি মূল্যায়নে এই জরিপ পরিচালিত হয়।


সম্পর্কিত

সরকারি সেবানোয়াখালীকুমিল্লাঘুষ

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

অসহায় সামিয়ার পাশে দাঁড়ালো স্বপ্ন

লালমাই উপজেলার ২ নং বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার ১২ বছর বয়সী অসহায় মেয়ে সামিয়া আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সামিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নগদের ক্যাম্পেইনে হেলিকপ্টার ভ্রমণের স্বপ্ন সত্যি হলো ইমন ও আফজালের

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নগদ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়, যেখানে কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা হেলিকপ্টার ভ্রমণের আকর্ষণীয় পুরস্কার জিততে পারতেন। এই ক্যাম্পেইনের মূল বিজয়ী হয়েছেন ঢাকার দুই গ্রাহক কাজী ইমন ও আফজাল হোসেন।

হাওরে ডুবে যাচ্ছে বোরো ধান, গবাদিপশুর খাদ্যে পরিণত কৃষকের স্বপ্ন

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় অপরিপক্ক বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা বাধ্য হয়ে কোমর পর্যন্ত পানিতে নেমে কাঁচা ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।

শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেফতারের আগে প্রায় দেড় বছর “আত্মগোপনে”কোথায় ছিলেন?

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের দুই বছর পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটায় ধানমন্ডি এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। এরপর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।