বাংলাদেশ
মব সন্ত্রাসের ভয়াবহ উত্থান, পাঁচ বছরে নিহত বেড়েছে সাত গুণ; চলতি বছরেই প্রাণ গেল ১৯৬ জনের
.webp)
মব সন্ত্রাস বা গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা দেশে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) জরিপ এবং গণমাধ্যম অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশে মব ভায়োলেন্সে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৯৬ জন। বিশ্লেষকদের মতে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিক থেকে চলতি বছরটি মব সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে আতঙ্কজনক সময়গুলোর একটি।
আসকের জরিপে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ১৮৪ জন গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। ডিসেম্বর মাসের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ না হলেও, বিভিন্ন অনুসন্ধানে আরও অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে চলতি বছরে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৬ জনে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে মব সন্ত্রাসে নিহতের সংখ্যা প্রায় সাত গুণ বেড়েছে। ২০২১ সালে নিহত ছিলেন ২৮ জন, ২০২২ সালে ৩৬ জন, ২০২৩ সালে ৫১ জন, ২০২৪ সালে ১২৮ জন এবং চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসেই নিহত হয়েছেন ১৮৪ জন। এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি বিশেষজ্ঞদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মব ভায়োলেন্সের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। পাঁচ বছরে এই বিভাগে মোট ১৯০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসেই নিহত হয়েছেন ৭৮ জন। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে একই সময়ে নিহত হয়েছেন ৮০ জন। তুলনামূলকভাবে সিলেট বিভাগে ঘটনা কম হলেও সেখানেও পাঁচ বছরে ১৫ জনের প্রাণ গেছে।
চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা, ছিনতাই, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি, কটূক্তি, প্রতারণা কিংবা অপহরণের অভিযোগ তুলে এসব গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই উত্তেজিত জনতা কাউকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
অপরাধ বিশ্লেষক ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আইনের শাসনের ওপর মানুষের আস্থার ঘাটতি, অপরাধের বিচার না হওয়ার ধারণা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের দ্রুত বিস্তার সব মিলিয়ে মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে উদ্বুদ্ধ করছে। একটি গুজব বা ভিডিও মুহূর্তেই জনতাকে উত্তেজিত করে তুলছে, যা সহিংসতার রূপ নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ব্যক্তিগত শত্রুতা ও দলগত মানসিকতা মব সন্ত্রাসের প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে চুরি সন্দেহে এবং শহরে জনবহুল এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব ঘটনাকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের মতে, বিচার প্রক্রিয়া রাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত, কোনোভাবেই জনতার হাতে নয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মব ভায়োলেন্স নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। তবে পুলিশের একার পক্ষে এই সহিংসতা দমন করা কঠিন; এ ক্ষেত্রে সমাজের সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকদের মতে, মব সন্ত্রাস রোধে দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার, আইনের কঠোর প্রয়োগ, গুজব প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। তা না হলে এই ভয়াবহ প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও গুরুতর রূপ নিতে পারে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আজ দুই ঘণ্টা কিছু গ্রাহকের মোবাইল নেটওয়ার্কে সাময়িক বিঘ্ন হতে পারে, কারণ জানাল অ্যামটব
দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিছু গ্রাহকের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের কারণেই এ ধরনের সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।
.jpg)
বসুন্ধরায় দেড় কোটি টাকায় কেনা ফ্ল্যাটে ‘লুটের’ অভিযোগ প্রবাসী তানিয়া রহমানের
দশ বছর ইংল্যান্ডে প্রবাসজীবন কাটিয়ে স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরেন তানিয়া রহমান। লক্ষ্য ছিল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে উঠবেন, নতুন করে শুরু করবেন জীবনের অধ্যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে।

৪৬ কোটির বরাদ্দ, পাঁচ বছরে ব্যয় প্রায় ১৮৮ কোটি- তবু অভিযান চললেও মরছে না মশা
রাজধানীতে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। মশা নিধন সিটি করপোরেশনের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কার্যকারিতা নিয়ে। এমন প্রেক্ষাপটে ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
.jpg)
‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে নতুন সরকার?
বাংলাদেশে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছেন, “মব কালচারের দিন শেষ।” দাবি আদায়ের নামে দলবদ্ধ সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
.jpg)

.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)