মোবাইল ফোন আমদানি সহজীকরণ ও কর যৌক্তিকীকরণের দাবি বাস্তবায়ন না করেই ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। এদিন বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে মোবাইল ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠক চলছিল। বৈঠকের একপর্যায়ে এনইআইআর বাস্তবায়ন নিয়ে তীব্র বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তা সংঘাতে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, উত্তেজনার একপর্যায়ে ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি ভবনে হামলা চালান। বাইরে থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হলে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের দরজা ও জানালার কাচ ভেঙে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এবং কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায়।
বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা বলেন, ঘটনার পরও মোবাইল ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি ভবনের আশপাশে অবস্থান করছেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনী অনেককে আটক করেছে, তবে ঠিক কতজন আটক হয়েছেন তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
এদিকে, বিটিআরসি এই ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির উপ-পরিচালক (মিডিয়া) জাকির হোসেন খান বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়া বিবেচনায় নিয়েই এনইআইআর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবারের কেবিনেট সভায় মোবাইল ফোনে আরোপিত কর কমানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে বিটিআরসির এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে শামীম মোল্লা অভিযোগ করেন, সরকার মোবাইল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাঁর দাবি, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী আন-অফিশিয়াল ফোন বন্ধের ক্ষেত্রে তিন মাস সময় দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ওই সময়ের মধ্যে আমদানিকৃত কোনো ফোন রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হবে না বলেও জানানো হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সেই আশ্বাস উপেক্ষা করেই হঠাৎ করে এনইআইআর ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া আমদানি কর ৪৩ শতাংশে নামানোর সরকারি সিদ্ধান্তকেও অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে শামীম মোল্লা বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মোবাইল ফোনের করহার ৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করা উচিত।

.webp)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)

.jpg)
.jpg)