দীর্ঘ ১৩ বছরেও শেষ হয়নি সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত। বহুল আলোচিত এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা আবারও পেছাল। এ নিয়ে মোট ১২৩ বার সময় বাড়ানো হলো। আদালত আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হন। ফলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
এ মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে আসামিদের একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও কেউ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন সকালে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানার একজন উপপরিদর্শক মামলার তদন্তভার পান। চার দিন পর মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হলে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার র্যাবের কাছে দেওয়া হয়।
সর্বশেষ গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলাটির তদন্তে গতি আনতে অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে র্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে।
তবুও একের পর এক সময় বাড়লেও আজও সাগর–রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি, যা বিচারপ্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।


.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)

.jpg)
.jpg)