বাংলাদেশ


এনইআইআর বাস্তবায়ন ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈধ ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফেরাবে: এমআইওবি


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

এনইআইআর বাস্তবায়ন ভোক্তা সুরক্ষা ও বৈধ ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফেরাবে: এমআইওবি

দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, ভোক্তা সুরক্ষা জোরদার এবং একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়ন একটি সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি)।

 

মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ অবস্থান জানায়। সংবাদ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল এনইআইআর-এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ।

 

সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবি জানায়, ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর কার্যকর হওয়ায় অবৈধ, নকল ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এতে ফোন ক্লোনিং, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তারা মনে করছে। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আয় ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

 

এমআইওবি আরও জানায়, সরকার স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এসব নীতিগত উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম কমে আসবে এবং একটি সুশৃঙ্খল মোবাইল ফোন বাজার গড়ে উঠবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। এই শিল্পে সরাসরি প্রায় ৫০ হাজার দক্ষ শ্রমিক কর্মরত, পাশাপাশি ডিলার, ডিএসআর, সার্ভিস ও খুচরা বিক্রয়সহ আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কর্মরতদের একটি বড় অংশ নারী শ্রমিক, যা এই খাতের সামাজিক গুরুত্বও তুলে ধরে।

 

তবে এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অবৈধ ব্যবসায়ীর সহিংস ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এমআইওবি। সংগঠনটির দাবি, সীমিতসংখ্যক অবৈধ ব্যবসায়ী বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুর, দোকান বন্ধে বাধ্য করা, কর্মীদের হুমকি দেওয়াসহ নানা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এসব ঘটনায় বৈধ ব্যবসায়ীরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

 

এমআইওবি মনে করে, এ ধরনের সহিংসতা শুধু জনশৃঙ্খলাই বিঘ্নিত করছে না, বরং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগনির্ভর স্মার্টফোন শিল্পে অস্থিরতা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোবাইল ফোন শিল্পে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরবে এবং ভোক্তারা নিরাপদ সেবা পাবেন। তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুরসহ সব ধরনের সহিংস ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

 

তিনি আরও বলেন, নীতিগত ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকলে দেশের স্মার্টফোন শিল্প ভবিষ্যতে জাতীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবির নেতারা অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এনইআইআর বাস্তবায়নে সব পক্ষকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

 
 

সম্পর্কিত

এনইআইআরএমআইওবিমোবাইল

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

হামে শিশুমৃত্যু ৫১২, একদিনে মারা গেছে আরও ১৩ শিশু

দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ১৩২ শিশু। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পল্লবীতে শিশু হত্যা: সামাজিক মাধ্যমে কেন আলোচনায় ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’?

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সি শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই নৃশংসতার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি যখন তুঙ্গে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৫ সালের বহুল আলোচিত অস্ট্রেলিয়ান স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিসাপেয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’ (The Disappearance of Willie Bingham)। মাত্র ১২ মিনিটের এই মনস্তাত্ত্বিক সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ম্যাথু রিচার্ড।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাল জামায়াতে ইসলামী

ধর্ষকের প্রকাশ্য শাস্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

রাত বাড়লেই সুনামগঞ্জ শহরে চুরির আতঙ্ক, অতিষ্ঠ বাসিন্দারা

সুনামগঞ্জ শহরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে চুরির ঘটনা। বাসাবাড়ির পাশাপাশি সরকারি, আধাসরকারি ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানেও হানা দিচ্ছে চোরচক্র। চিহ্নিত চিচকে চোরদের দৌরাত্ম্যে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।