বাংলাদেশ
সেন্ট মার্টিন রক্ষায় পর্যটন এলাকা সীমিত হচ্ছে চার কিলোমিটারে
.webp)
অতিরিক্ত পর্যটকের চাপে বিপর্যস্ত দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়ন্ত্রিত পর্যটন চালুর পথে হাঁটছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রণীত খসড়া মহাপরিকল্পনায় দ্বীপটির মাত্র চার কিলোমিটারের মধ্যে পর্যটকদের চলাচল সীমিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মহাপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনে প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজার ১৯৩ জন পর্যটক রাত যাপন করতেন, যা দ্বীপটির ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে প্রবাল সংগ্রহ, নৌযান থেকে দূষণ এবং সৈকতে আবর্জনার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে প্রবাল অস্তিত্বের মুখে পড়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞান ও ভূতত্ত্ব বিভাগের গবেষকদের ২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৮০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সেন্ট মার্টিনে প্রবাল প্রজাতি ১৪১টি থেকে কমে মাত্র ৪০টিতে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক ওশান সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০৪৫ সালের মধ্যেই দ্বীপটি পুরোপুরি প্রবালশূন্য হয়ে পড়তে পারে।
খসড়া মহাপরিকল্পনায় আট বর্গকিলোমিটার আয়তনের সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে চারটি জোনে ভাগ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জোন–১ (সাধারণ ব্যবহার এলাকা) এই জোনেই সব হোটেল ও রিসোর্ট স্থানান্তর করা হবে। পর্যটকেরা কেবল এখানেই রাত যাপন করতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৯০০ পর্যটক থাকার অনুমতি থাকবে। সৈকতে যানবাহন চলাচল, রাতে অতিরিক্ত আলো জ্বালানো, প্রবাল সংগ্রহ ও দূষণ নিষিদ্ধ থাকবে।
জোন–২ (নিয়ন্ত্রিত সম্পদ এলাকা) দক্ষিণ অংশের সংবেদনশীল এলাকার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় এটি বাফার জোন হিসেবে কাজ করবে। এখানে পর্যটন অবকাঠামো, ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার, সৈকতে আগুন জ্বালানো ও রান্না নিষিদ্ধ থাকবে।
জোন–৩ (টেকসই ব্যবস্থাপনা অঞ্চল) জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে এই এলাকা। এখানে বসতি, অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিবেশ ক্ষতিকর সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে। ম্যানগ্রোভ বন, ল্যাগুন ও কচ্ছপের প্রজনন ক্ষেত্র বিশেষ সুরক্ষার আওতায় আসবে।
জোন–৪ (ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ এলাকা) এই এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত থাকবে। এক কিলোমিটারের মধ্যে মাছ ধরা, দূষণ ও বন্য প্রাণী বিরক্ত করা নিষিদ্ধের সুপারিশ করা হয়েছে। পর্যটকেরা ৫০০ থেকে ১ হাজার মিটার দূর থেকে দ্বীপটি দেখতে পারবেন, তবে সেখানে অবতরণ করতে পারবেন না।
মহাপরিকল্পনায় বলা হয়েছে, প্রতি পাঁচ বছর পর পরিবেশগত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এই ১০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনার প্রথম পাঁচ বছরে বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। পরবর্তী পাঁচ বছর বাস্তবায়িত পদক্ষেপগুলোর তদারকি ও ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হবে।
মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে যুক্ত সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইস)-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ এম নুরুল ইসলাম জানান, অন্য তিন জোনে থাকা হোটেল ও রিসোর্টগুলো জোন–১–এ স্থানান্তর করা হবে। প্রয়োজনে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেবে।
মহাপরিকল্পনার তথ্যমতে, সেন্ট মার্টিনে বসবাসকারী ১ হাজার ৪৪৫টি পরিবারের মোট জনসংখ্যা ৯ হাজার ৮৮৫। তাদের আয়ের প্রধান উৎস মাছ ধরা ও পর্যটন। নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের ফলে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় বিকল্প কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সেন্ট মার্টিনকে বাঁচাতে নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কোনো বিকল্প নেই। পর্যটন হতে হবে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক। বিকল্প কর্মসংস্থানে মৎস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় প্রকল্প নেবে, যার একটি ইতোমধ্যে জলবায়ু তহবিল থেকে শুরু হয়েছে।
মহাপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ বছরে হোটেল ও রিসোর্ট বৃদ্ধির কারণে দ্বীপের সবুজ আচ্ছাদন কমেছে প্রায় ২৪ শতাংশ, কৃষিজমি কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ এবং ম্যানগ্রোভ বন কমেছে ৩ শতাংশ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
অসহায় সামিয়ার পাশে দাঁড়ালো স্বপ্ন
লালমাই উপজেলার ২ নং বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার ১২ বছর বয়সী অসহায় মেয়ে সামিয়া আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সামিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নগদের ক্যাম্পেইনে হেলিকপ্টার ভ্রমণের স্বপ্ন সত্যি হলো ইমন ও আফজালের
পবিত্র রমজান উপলক্ষে নগদ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়, যেখানে কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা হেলিকপ্টার ভ্রমণের আকর্ষণীয় পুরস্কার জিততে পারতেন। এই ক্যাম্পেইনের মূল বিজয়ী হয়েছেন ঢাকার দুই গ্রাহক কাজী ইমন ও আফজাল হোসেন।

হাওরে ডুবে যাচ্ছে বোরো ধান, গবাদিপশুর খাদ্যে পরিণত কৃষকের স্বপ্ন
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় অপরিপক্ক বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা বাধ্য হয়ে কোমর পর্যন্ত পানিতে নেমে কাঁচা ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।

শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেফতারের আগে প্রায় দেড় বছর “আত্মগোপনে”কোথায় ছিলেন?
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের দুই বছর পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটায় ধানমন্ডি এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। এরপর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।


.jpg)




