গত দেড় বছরে দেশের গণমাধ্যম খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই সময়ে অন্তত ১৮৯ জন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন এবং ২৯টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল ঘটেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ছয়জন সাংবাদিক।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে টিআইবির কনফারেন্স রুমে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন–পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার সরাসরি গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট উদ্যোগ না নিলেও ‘মব’ সহিংসতার মাধ্যমে বিভিন্ন গণমাধ্যম কার্যালয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।
টিআইবির তথ্যমতে, আগস্ট ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ৪৯৭টি হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১ হাজার ১০৪ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এর কার্যালয়ে নজিরবিহীনভাবে মব তৈরি করে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় ও অকার্যকর ছিল বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি।
এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় ২০৪ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব মামলায় অন্তত ৩০ জন সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অনেককে দীর্ঘ সময় জামিন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে টিআইবি জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধী দল ও সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন এবং গণমাধ্যমের ফটোকার্ড ও লোগো ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো নীতিগত বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
টিআইবি উল্লেখ করে, রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ)–এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে প্রেস ফ্রিডম সূচকে বাংলাদেশ ১৬ ধাপ এগোলেও বাস্তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায় হিসেবে ১৩টি আইনের বিভিন্ন ধারা চিহ্নিত করলেও সেগুলো সংস্কারে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কমিশন প্রণীত সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের খসড়া কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে একটি কমিটি গঠন করলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি। গণমাধ্যম নিবন্ধন প্রক্রিয়াও এখনো কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের মতোই বহাল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে টিআইবি।

.jpg)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)

.jpg)
.jpg)