বাংলাদেশ


দেড় বছরে ১৮৯ সাংবাদিক চাকরিচ্যুত, ২৯ গণমাধ্যমে শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল: টিআইবি


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার

দেড় বছরে ১৮৯ সাংবাদিক চাকরিচ্যুত, ২৯ গণমাধ্যমে শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল: টিআইবি

ছবি: সংগৃহীত


গত দেড় বছরে দেশের গণমাধ্যম খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই সময়ে অন্তত ১৮৯ জন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন এবং ২৯টি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল ঘটেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ছয়জন সাংবাদিক।

 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে টিআইবির কনফারেন্স রুমে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন–পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার সরাসরি গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট উদ্যোগ না নিলেও ‘মব’ সহিংসতার মাধ্যমে বিভিন্ন গণমাধ্যম কার্যালয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।

 

টিআইবির তথ্যমতে, আগস্ট ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালে গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ৪৯৭টি হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১ হাজার ১০৪ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

প্রতিবেদনে প্রথম আলোদ্য ডেইলি স্টার–এর কার্যালয়ে নজিরবিহীনভাবে মব তৈরি করে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় ও অকার্যকর ছিল বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি।

 

এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় ২০৪ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব মামলায় অন্তত ৩০ জন সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অনেককে দীর্ঘ সময় জামিন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।

 

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে টিআইবি জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরোধী দল ও সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন এবং গণমাধ্যমের ফটোকার্ড ও লোগো ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো নীতিগত বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

 

টিআইবি উল্লেখ করে, রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ)–এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে প্রেস ফ্রিডম সূচকে বাংলাদেশ ১৬ ধাপ এগোলেও বাস্তবে গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি।

 

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায় হিসেবে ১৩টি আইনের বিভিন্ন ধারা চিহ্নিত করলেও সেগুলো সংস্কারে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে কমিশন প্রণীত সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের খসড়া কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

এ ছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে একটি কমিটি গঠন করলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি। গণমাধ্যম নিবন্ধন প্রক্রিয়াও এখনো কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের মতোই বহাল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে টিআইবি।

 
 

সম্পর্কিত

সাংবাদিকটিআইবি

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

আজ দুই ঘণ্টা কিছু গ্রাহকের মোবাইল নেটওয়ার্কে সাময়িক বিঘ্ন হতে পারে, কারণ জানাল অ্যামটব

দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিছু গ্রাহকের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের কারণেই এ ধরনের সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

বসুন্ধরায় দেড় কোটি টাকায় কেনা ফ্ল্যাটে ‘লুটের’ অভিযোগ প্রবাসী তানিয়া রহমানের

দশ বছর ইংল্যান্ডে প্রবাসজীবন কাটিয়ে স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরেন তানিয়া রহমান। লক্ষ্য ছিল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে উঠবেন, নতুন করে শুরু করবেন জীবনের অধ্যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে।

৪৬ কোটির বরাদ্দ, পাঁচ বছরে ব্যয় প্রায় ১৮৮ কোটি- তবু অভিযান চললেও মরছে না মশা

রাজধানীতে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। মশা নিধন সিটি করপোরেশনের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কার্যকারিতা নিয়ে। এমন প্রেক্ষাপটে ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে নতুন সরকার?

বাংলাদেশে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছেন, “মব কালচারের দিন শেষ।” দাবি আদায়ের নামে দলবদ্ধ সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।