বাংলাদেশ
তরুণদের চোখে নির্বাচন: বাংলাদেশ কোন পথে যাবে

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা । ছবি: দূরবিন নিউজ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা এখন সর্বত্র। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্ম কী ভাবছে তা এই মুহূর্তে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের কর্মশক্তি, নীতিনির্ধারক ও নাগরিক সমাজের প্রধান চালিকাশক্তি।
চারজন ভিন্ন প্রেক্ষাপটের শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে এমন এক বাংলাদেশ ভাবনার প্রতিচ্ছবি, যেখানে উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ নয় মানবসম্পদ, সংস্কৃতি, সুশাসন ও বৈশ্বিক অবস্থানের সমন্বয়েই নির্ধারিত হবে দেশের ভবিষ্যৎ পথ।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাহার মনে করেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থাকলেও খাতভিত্তিক ভারসাম্যের ঘাটতি স্পষ্ট। তাঁর ভাষায়, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এই তিনটি মৌলিক খাতে বরাদ্দ ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে এখনো বড় ফাঁক রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো একটি কৃষিনির্ভর দেশ। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৃষি খাতে কাগুজে প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি ব্যবহার, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থায় বাস্তব বিনিয়োগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
জান্নাতুন নাহারের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; এটি প্রায় ১৮ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের মুহূর্ত। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাত দেশের বড় শক্তি হলেও ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আইটি খাত, ফ্রিল্যান্সিং ও কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি শিক্ষায় যুক্ত করার ওপর তিনি জোর দেন।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল হাসান চাঁদের দৃষ্টিতে নির্বাচন মানে ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের রূপরেখা। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরির বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া ইতিবাচক ইঙ্গিত।
তার মতে, উন্নয়ন শুধু সেতু বা মহাসড়ক নয়; টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো দক্ষ মানবসম্পদ। নবম শ্রেণি থেকেই কারিগরি প্রশিক্ষণ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব তরুণদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ফল। কৃষক ও ভোক্তার দামের ব্যবধান কমাতে সরাসরি সরকারি ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপনের মতো উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে বলে তাঁর অভিমত।
সংস্কৃতি
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সিয়াম উন্নয়ন আলোচনায় সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, একজন সচেতন ভোটার হিসেবে তিনি এমন সরকার চান, যারা দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সৃজনশীল স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেবে।
তিনি বলেন, নাটক, সিনেমা, গান ও লোকসংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয় এসবই জাতির ইতিহাস ও পরিচয়ের ধারক। কিন্তু অনেক সময় সংস্কৃতিকে বিলাসিতা হিসেবে দেখা হয়, যার ফলে সৃজনশীল মানুষ বাধাগ্রস্ত হন।
তরুণ নির্মাতা, ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তিনি দেশের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যতের বাহক হিসেবে দেখেন। রাজধানীকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক চর্চার বাইরে জেলা পর্যায়ে থিয়েটার, ফিল্ম স্কুল ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সুশাসন, আস্থা ও ব্রেইন ড্রেইন
সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী এম. মিজানুর রহমান মনে করেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নাগরিক আস্থা পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত।
তার ভাষায়, সুশাসন ও দুর্নীতি দমন ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। সড়ক-সেতুর পাশাপাশি ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও আইনের সমান প্রয়োগই প্রকৃত উন্নয়নের মাপকাঠি।
তিনি বলেন, দুর্নীতি ও বৈষম্য স্বাভাবিক হয়ে গেলে মেধা ও পরিশ্রমের মূল্য কমে যায়, যার ফল হিসেবে বাড়ে ব্রেইন ড্রেইন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত হলেই তরুণরা দেশেই ভবিষ্যৎ গড়তে আগ্রহী হবে।
তরুণদের অভিন্ন বার্তা
চারজন শিক্ষার্থীর ভাবনায় বিষয় আলাদা কৃষি ও প্রযুক্তি, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি কিংবা সুশাসন। তবে তাদের বক্তব্যে একটি অভিন্ন সুর স্পষ্ট: নির্বাচন তাদের কাছে কেবল সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়, বরং বাংলাদেশের উন্নয়নের ধরন নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
তারা এমন এক রাষ্ট্র চায়, যেখানে উন্নয়ন মানে শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো নয়; মানবসম্পদ, সৃজনশীলতা, ন্যায়বিচার ও আস্থার সমন্বিত অগ্রযাত্রা। যে বাংলাদেশ প্রযুক্তিতে এগোবে, সংস্কৃতিকে আগলে রাখবে, সুশাসন নিশ্চিত করবে এবং তরুণদের স্বপ্ন দেখার ও তা বাস্তবায়নের সুযোগ দেবে সেই বাংলাদেশের দিকেই তাদের প্রত্যাশা।
- প্রতিবেদন: মো. হৃদয়, ডিআইইউ প্রতিনিধি
জনপ্রিয়
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
আজ দুই ঘণ্টা কিছু গ্রাহকের মোবাইল নেটওয়ার্কে সাময়িক বিঘ্ন হতে পারে, কারণ জানাল অ্যামটব
দেশের বিভিন্ন এলাকায় আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিছু গ্রাহকের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের কারণেই এ ধরনের সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।
.jpg)
বসুন্ধরায় দেড় কোটি টাকায় কেনা ফ্ল্যাটে ‘লুটের’ অভিযোগ প্রবাসী তানিয়া রহমানের
দশ বছর ইংল্যান্ডে প্রবাসজীবন কাটিয়ে স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফেরেন তানিয়া রহমান। লক্ষ্য ছিল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে উঠবেন, নতুন করে শুরু করবেন জীবনের অধ্যায়। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হয়েছে দুঃস্বপ্নে।

৪৬ কোটির বরাদ্দ, পাঁচ বছরে ব্যয় প্রায় ১৮৮ কোটি- তবু অভিযান চললেও মরছে না মশা
রাজধানীতে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। মশা নিধন সিটি করপোরেশনের প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কার্যকারিতা নিয়ে। এমন প্রেক্ষাপটে ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
.jpg)
‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে নতুন সরকার?
বাংলাদেশে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছেন, “মব কালচারের দিন শেষ।” দাবি আদায়ের নামে দলবদ্ধ সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
.jpg)

.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)