
নিউজ কো-অর্ডিনেটর
.jpg&w=3840&q=75)

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে মোট আসন ৩০০টি। কোনো রাজনৈতিক দল এককভাবে ২০০ বা তার বেশি আসন পেলে তাকে দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বলা হয়। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই–তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে এমন জয় আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের পথও খুলে দেয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একাধিকবার দুই–তৃতীয়াংশ বা তার কাছাকাছি আসন পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব জয়ের পরবর্তী সময়েই দেখা গেছে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তন।
সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে শাসন কাঠামোই বদলে দিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসনে জয়লাভ করে। এটি ছিল প্রায় সম্পূর্ণ নিরঙ্কুশ জয়। এর দুই বছরের কম সময়ের মধ্যে, ১৯৭৫ সালে সংবিধান সংশোধন করে সংসদীয় পদ্ধতি থেকে রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতিতে ফিরে যায় দেশ। পরে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত ঘোষণা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) চালু করা হয়। পরবর্তী সামরিক অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতার পালাবদলের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসে।
১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৭টি আসনে জয়ী হয়। এই সরকার পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে আগের সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে বৈধতা দেয় এবং সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করা হয়।
১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি বিপুল আসন পায় (১৯৮৮ সালে ২৫১টি আসন)। এ সময় সপ্তম ও অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক শাসনের বৈধতা দেওয়া হয় এবং ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়।পরবর্তী সময়ে এর কিছু অংশ আদালতের রায়ে বাতিল হয়।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অধিকাংশ দল বয়কট করায় বিএনপি ২৭৮টি আসনে জয়ী হয়। তবে তীব্র আন্দোলনের মুখে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় এবং চার মাসের মধ্যে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ছবির ক্যাপশান,২০০১ সালের নির্বাচনে ১৯৩টি আসনে জয়ী হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসনে জয়ী হয়। জামায়াতে ইসলামিসহ চারদলীয় জোট মিলে ২১৬টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করে। ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগ নিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়, যা রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে।
ছবির ক্যাপশান,২০০৮ সালের নির্বাচনে ২৩০টি আসনে এককভাবে জয় পায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে ২৩০টি আসনে জয়ী হয়; জোটসহ মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২৬২। এই সরকার আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত আইন পাস হয়, যেমন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ইত্যাদি। সংসদে কার্যত শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকায় এসব আইন সহজেই পাস হয়।
২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৭টি আসন পায়। তবে এসব নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ছিল। ২০১৮ সালের ভোট ‘রাতের ভোট’ হিসেবে সমালোচিত হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠনের পথে। এই জয় সংবিধান সংশোধনের সাংবিধানিক সক্ষমতা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনেক সময় সংসদকে প্রাণবন্ত বিতর্কের ক্ষেত্রের বদলে একচেটিয়া আধিপত্যের জায়গায় পরিণত করেছে। ফলে সংবিধান সংশোধনসহ বড় সিদ্ধান্তগুলো সহজে পাস হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দুই–তৃতীয়াংশ আসন পেলে সরকার ‘ইচ্ছেমতো’ সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা পায়। এতে কখনও কখনও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস দেখায়, বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রায়ই সাংবিধানিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের পথ খুলেছে কখনও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তন, কখনও বিলোপ; কখনও রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা, কখনও শাসনব্যবস্থা বদল।
অতীতের অভিজ্ঞতা ইঙ্গিত দেয় দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেমন স্থিতিশীলতা আনতে পারে, তেমনি ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্টের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, নতুন সরকার অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা কীভাবে ব্যবহার করা হয় সংস্কারের জন্য, না কি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য।
তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা
‘সহজ কিস্তি’, ‘০% সুদ’ গ্রাহক আকৃষ্ট করতে এমন প্রচারণার আড়ালে স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে কেন? চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ভিভো বাংলাদেশের কিস্তি বিক্রয়ব্যবস্থা নিয়ে এমন প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। ৯ মাসের কিস্তিতে স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে নগদ মূল্যের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে গ্রাহককে। অথচ প্রচারণায় বলা হচ্ছে ‘০% সুদ’।
শুধুমাত্র বেসিক বেতন থাকে ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ চাকরির শুরুতে বেসিক বেতন হবে ১১ হাজার টাকা, এরপর সময়ের সাথে সাথে বেড়ে দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় তার রুমমেট ২৬ বছর বয়সী সাবেক ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে নিখোঁজ থাকা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি।
দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং শিল্পখাতের চাহিদার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জব ফেয়ার ২০২৬’, যার আয়োজন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউসেপ বাংলাদেশ। ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত অল্টারনেটিভ লার্নিং প্রজেক্ট (ALP) এবং জিআইজেড-এর Advantage প্রজেক্ট-এর আওতায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজন তরুণদের জন্য নতুন কর্মজীবনের সুযোগ উন্মোচনের পাশাপাশি নিয়োগদাতা ও চাকরিপ্রত্যাশীদের এক ছাদের নিচে নিয়ে আসে।
ওজনে কারচুপি, মাছে কেমিক্যাল ও রং মেশানো, চিংড়িতে জেলি দিয়ে ওজন বাড়ানো এবং ক্রেতাদের সঙ্গে অসদাচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
তাই বর্তমানে এখন অনেকেই মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ, তাদের বেতন, এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হতে কি কি যোগ্যতা লাগে, সেসব সম্পর্কে জানতে ভীষণ আগ্রহী। আর তাদের জন্যই আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
অন্যান্য বাহিনীর মতো বাংলাদেশ ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সেও বিভিন্ন পদ রয়েছে। এরমাঝে একদম মাঠ পর্যায়ের পদগুলোর নাম হচ্ছে ফায়ার ফাইটার, ডুবুরী, নার্সিং এটেন্ডেন্ট ইত্যাদি। এই তিন পদের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।