.jpg&w=3840&q=75)

বাংলাদেশের রুগ্ন অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত আঠারো মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিক্ষিপ্ত মব সহিংসতা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির ফলে ব্যবসায়িক আস্থা, বিনিয়োগ প্রবাহ ও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ফলাফল ছিল স্পষ্ট ও জোরালো। গভীর অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলার প্রেক্ষাপটে ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। এই ফলাফল স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
ফলাফল প্রকাশ শুরু হওয়ার পর ব্যবসায়ী মহলসহ দেশের বড় একটি অংশ স্বস্তি প্রকাশ করে। তাদের প্রত্যাশা, নতুন সরকার দ্রুত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন করবে।
এই দ্ব্যর্থহীন রায় আবারও একটি আলোচিত ধারণাকে সামনে এনেছে বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন সিদ্ধান্ত নেন। অনেকের মতে, এই ফলাফল দীর্ঘদিন সংকুচিত থাকা রাজনৈতিক পছন্দ ও ভোটাধিকারের পুনরুদ্ধারের প্রতীক। ২০১৪ সাল থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত টানা তিনটি নির্বাচনে প্রতিযোগিতার ঘাটতি নিয়ে সমালোচনা ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভোটাররা দীর্ঘ সময় পর প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের সুযোগ পান এবং দৃঢ়ভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করেন।
ইতিহাসও সাক্ষ্য দেয় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯১, ১৯৯৬ (জুন), ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে। প্রয়োজনে রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা ভোটারদের রয়েছে এবারের ফলাফলও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
নির্বাচনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে ছিল তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ও শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী। ভোটাররা সূক্ষ্ম কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। বাংলাদেশ ধর্মপ্রাণ সমাজ হলেও কট্টর ধর্মভিত্তিক শাসনের প্রতি ব্যাপক সমর্থন নেই এটি ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে।
বিএনপি নিজেকে তুলনামূলক মধ্যপন্থী ও বহুত্ববাদী শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফল করলেও ক্ষমতায় যেতে পারেনি। ঐতিহাসিক বিতর্ক ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে রক্ষণশীল অবস্থান সাধারণ ভোটারের একাংশকে দূরে রেখেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
তবে জামায়াতের উত্থানও উপেক্ষণীয় নয়। তারা এখন সংসদে শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে, যা সংসদের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
মোট ভোটারের অর্ধেকের বেশি নারী। নির্বাচনের ফলাফলেও তাদের প্রভাব স্পষ্ট। নারীর নেতৃত্ব ও জনজীবনে অংশগ্রহণ নিয়ে নেতিবাচক প্রচার বুমেরাং হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নারী ও পুরুষ উভয় ভোটারই সেকেলে বয়ান প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিএনপি প্রচারণায় নারী অংশগ্রহণকে সামনে এনেছে। ভবিষ্যৎমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে দলটি সচেষ্ট ছিল। তারুণ্যনির্ভর আধুনিক প্রচারকৌশল, স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলার বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
নির্বাচনটি ছিল ব্যক্তিকেন্দ্রিক তারেক রহমান বনাম শফিকুর রহমান। দুজনেই প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করছেন। একজন সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, অন্যজন বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে থাকবেন।
লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা তারেক রহমান দলের তৃণমূলকে উজ্জীবিত করেছে। নিরঙ্কুশ বিজয় তার নেতৃত্বকে সুসংহত করেছে। তবে সামনে বড় প্রশ্ন—তিনি কি রাজনৈতিক বিজয়ী থেকে রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হতে পারবেন?
জুলাইয়ের আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি। তৃতীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টি কার্যত প্রান্তিক হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ থাকার প্রভাব তাদের গ্রহণযোগ্যতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেমন সংস্কারের সুযোগ তৈরি করে, তেমনি ঝুঁকিও বহন করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে দেখা গেছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কখনও কখনও ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ ও বিরোধী মত দমনের দিকে নিয়ে গেছে।
শক্তিশালী জনসমর্থন সংস্কার সহজ করতে পারে, তবে সংযমহীন প্রয়োগে প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সংসদীয় কার্যপ্রণালি, ভিন্নমত ও শাসন সংস্কারে নতুন সরকারের ভূমিকা তাই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষিত হবে।
উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে এ নিয়েও আলোচনা চলছে।
বহু বছরের সীমিত প্রতিযোগিতার পর এবারের নির্বাচনকে অনেকে গণতান্ত্রিক পুনরারম্ভ হিসেবে দেখছেন। প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতি নতুন গতি পেয়েছে এবং একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে শক্তিশালী বিরোধী পক্ষও গড়ে উঠেছে।
এখন প্রশ্ন এই মুহূর্ত কি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্ত ভিত্তি দেবে, নাকি সংখ্যাগুরু আধিপত্যের নতুন অধ্যায় শুরু করবে? ভোটাররা তাদের রায় দিয়েছেন। এখন দায়িত্ব তাদের, যাদের হাতে সেই আস্থার ভার ন্যস্ত হয়েছে।
তথ্য সূত্র: টিবিএস
‘সহজ কিস্তি’, ‘০% সুদ’ গ্রাহক আকৃষ্ট করতে এমন প্রচারণার আড়ালে স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে কেন? চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ভিভো বাংলাদেশের কিস্তি বিক্রয়ব্যবস্থা নিয়ে এমন প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। ৯ মাসের কিস্তিতে স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে নগদ মূল্যের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে গ্রাহককে। অথচ প্রচারণায় বলা হচ্ছে ‘০% সুদ’।
শুধুমাত্র বেসিক বেতন থাকে ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ চাকরির শুরুতে বেসিক বেতন হবে ১১ হাজার টাকা, এরপর সময়ের সাথে সাথে বেড়ে দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় তার রুমমেট ২৬ বছর বয়সী সাবেক ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে নিখোঁজ থাকা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি।
দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং শিল্পখাতের চাহিদার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জব ফেয়ার ২০২৬’, যার আয়োজন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউসেপ বাংলাদেশ। ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত অল্টারনেটিভ লার্নিং প্রজেক্ট (ALP) এবং জিআইজেড-এর Advantage প্রজেক্ট-এর আওতায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজন তরুণদের জন্য নতুন কর্মজীবনের সুযোগ উন্মোচনের পাশাপাশি নিয়োগদাতা ও চাকরিপ্রত্যাশীদের এক ছাদের নিচে নিয়ে আসে।
ওজনে কারচুপি, মাছে কেমিক্যাল ও রং মেশানো, চিংড়িতে জেলি দিয়ে ওজন বাড়ানো এবং ক্রেতাদের সঙ্গে অসদাচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
তাই বর্তমানে এখন অনেকেই মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ, তাদের বেতন, এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হতে কি কি যোগ্যতা লাগে, সেসব সম্পর্কে জানতে ভীষণ আগ্রহী। আর তাদের জন্যই আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
অন্যান্য বাহিনীর মতো বাংলাদেশ ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সেও বিভিন্ন পদ রয়েছে। এরমাঝে একদম মাঠ পর্যায়ের পদগুলোর নাম হচ্ছে ফায়ার ফাইটার, ডুবুরী, নার্সিং এটেন্ডেন্ট ইত্যাদি। এই তিন পদের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।