

ভারতের সিনেমা জগৎ বিদেশি পেশাদারদের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় অসংখ্য দেশীয় শিল্পী কাজ হারাচ্ছেন বলিউডে। যেসকল বিদেশি অভিনেত্রী ভারতে এসে পাকাপোক্ত জায়গা করে নিয়েছেন তাদের মধ্যে নোরা ফাতেহি অন্যতম। 'সাকি সাকি' ও 'দিলবার' খ্যাত লাস্যময়ী এই নৃত্যশিল্পী কানাডার নাগরিক।‘গেন্দা ফুল’ ও ‘পানি পানি’ খ্যাত জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজও শ্রীলংকা থেকে এসে এখন নিয়মিত বলিউডে কাজ করছেন।এছাড়াও দক্ষিন ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় মুখ এমি জ্যাকসনও জন্মসুত্রে ব্রিটিশ। এই অভিনেত্রী বেশ কয়েকটি ভারতীয় সিনেমাতে কাজ করেছেন।তবে বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে পর্দার সামনের চেয়ে পেছনে কাজ করা পেশাদারের সংখ্যা বেশি। সেখানেও দেখা যায় বিদেশীদের দাপট।মূলত কোন ছবির প্রযোজকই ঠিক করেন কাজের সঙ্গে কারা যুক্ত থাকবেন। কিন্তু বলিউডের প্রযোজকরা যেন নিজ দেশের মানুষকে দিয়ে কাজ করাতে আগ্রহী নন। অভিনয়শিল্পী ছাড়াও সিনেমাটোগ্রাফি, পরিচালনা, প্রযোজনা, স্ক্রিপ্ট-রাইটিং, হেয়ার স্টাইলিস্ট এবং অ্যাকশন ডিরেক্টরের মতো বিভিন্ন সেক্টরে বিদেশিরা অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এছাড়াও আর্ট ডিরেক্টর,রূপটান শিল্পী, কস্টিউম ডিজাইনার, স্টান্টম্যান, জুনিয়র শিল্পী এবং নৃত্যশিল্পীসহ সব ক্ষেত্রেই বিদেশ থেকে পেশাদার এনে কাজ করাচ্ছেন ভারতীয় সিনেমার প্রযোজকরা।হিন্দি ছাড়াও দক্ষিণ ভারতে বেশ কয়েকটি বড় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি আছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক শিল্পী, কলাকুশলী কাজ করেন। তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিদেশিদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। ভারতীয় ফিল্মের কলাকুশলীদের ইউনিয়নের দাবি, বিদেশি পেশাদারদের উপর প্রযোজকদের নির্ভরতার কারণে দিনকে দিন বলিউডের অনেক প্রতিভাবান কাজ হারাচ্ছেন কিংবা কাজ পাচ্ছেনই না। যাদের জন্য ভারতীয়দের এই দুরবস্থা, সেসব বিদেশীর ৯০ শতাংশ বেআইনি ভাবে কাজ করছেন বলিউডে, এমনটাই দাবি করছেন বলিউড ইউনিয়ন।তাদের মতে, অনেক বিদেশি ভারতে পর্যটক ভিসা নিয়ে কাজ করেন। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না।ভারতীয় ফিল্মের কলাকুশলীদের ইউনিয়নগোটা বিষয়টা একাধিক বার মুম্বই পুলিশের নজরে এনেছেন। কিন্তু তাদের কথায় কোন প্রকারের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তবে এ ব্যাপারে কোনো প্রকার হতাশা প্রকাশ না করে তারা জানান, ইউনিয়নে অন্তত তিন লাখ পেশাদার রয়েছে। সেসব মানুষের কথা ভেবে হলেও শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবেন ।অনেকে বলছেন, দেশীয় কলাকুশলীদের প্রতি এটা অবিচার ছাড়া আর কিছু নয়। বাইরে থেকে মানুষ তাদের দেশে এসে প্রভাব বিস্তার করছে, অথচ তারা নিজ দেশের মাটিতে থেকেও অসহায়।কেউ কেউ চাইছেন পাকিস্তানি অভিনেতাদের বিরুদ্ধে যে ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, সে ভাবেই যেন অন্য দেশের পেশাদারদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সত্যিকারার্থে ধীরে ধীরে যেন নিজের চিরচেনা রুপ হারিয়ে ফেলছে বলিউড। বিগ বাজেট সিনেমা, স্টার কাস্ট, অথবা কাহিনিনির্ভর সিনেমা কোনো কিছুতেই হলে দর্শক টানতে পারছে না এই ইন্ডাস্ট্রি । এ কারণেই হয়তো সিনেমাকে আকর্ষণিয় করে তুলতে নতুন উদ্যোগ। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, বিদেশিদের অবদানে আর্থিকভাবে উপকৃত হয় ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্প। কিন্তু এই ব্যপারটি কোনোভাবেই বুঝতে চাইছেন না চলচ্চিত্র ইউনিয়ন। তারা বলছে বিদেশিদের সুযোগ দিয়ে দেশের প্রতিভার অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।



