

ভাগ্যের ফ্যারে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাবাকে হারান। ফলে স্বাভাবিকভাবেই জীবন তখন গন্তব্যহীন অন্ধকারের দিকে পর্যবসিত হতে শুরু করে।একা মায়ের কাছেই নানান টানাপোড়েনে ভেতর দিয়ে বেড়ে ওঠা। এরপর অভিনয়ে যাত্রা। বিবাহিত নায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা এবং সেটা কে সর্বোচ্চ উচু স্থানে প্রতিষ্ঠা করা।তিনি আর কেউ নন, বলিউড বাদশা খ্যাত শাহরুখ খান। ১৯৬৫ সালের ২রা নভেম্বর নয়া দিল্লির এক মুসলিম পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তার।ছোটবেলা থেকেই তিনি হকি ও ফুটবলে দারুণ দক্ষ ছিলেন। কিন্তু একটা ইনজুরির কারণে সেদিকে আর বেশিদুর ভাবতে পারেনি তখন।এরপর যুক্ত হন দিল্লি থিয়েটার গ্রুপে। স্কুলের বিভিন্ন আয়োজনে স্টেজে অভিনয় করে অনেকের বাহবা আর উৎসাহ থেকেই অভিনেতা হওয়ার আগ্রহ জন্মায়।সেই মনোবল বৃদ্ধিতে আরো এক ধাপ এগিয়ে দেয় ছোটবেলার বন্ধু অমৃতা সিং সিনেমার তারকা হয়ে। এরপর একটা চরিত্রের আশায় ঘুরতে থাকেন তিনি।১৯৮৮ সালে শাহরুখ খানের কাংখিত স্বপ্ন ধরা দেয়। লেখ ট্যান্ডনের টেলিভিশন ধারাবাহিক দিল দরিয়া প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ হয়। কিন্তু সেই ধারাবাহিকটি কিছু জটিলতার কারনে আটকে যায়।ঐই বছরই রাজকুমার পরিচালিত ফৌজি নামের অন্য একটি সিরিজে এক আশ্চর্য চরিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে টেলিভিশন এ অভিষেক হয় বলিউড বাদশার।আর্মি ক্যাডেটদের ট্রেনিং এর উপর নির্মিত সিরিজটিতে শাহরুখকে দেখা যায়, কাক গননাকারীর চরিত্রে।তার কাজ সারাদিন শুধুই কাক গুনে যাওয়া এবং সেটার হিসাব কর্নেল কে এসে দেয়া। তবে বেশ নাটকয়ীয় ভাবে সিরিজের মুল চরিত্র অভিমন্যু এর যায়গা পেয়ে যান তিনি।এরপর বেশ কিছু সিরিয়ালে কাজ করতে থাকেন। তবে সিনেমাতে অভিনয়ের ব্যাপারে একদমই চিন্তা করতেন না।মূলত ১৯৯১ সালে মাকে হারানো পর মনকষ্ট থেকে পলায়নের জন্য তিনি দিল্লী থেকে মুম্বাই পাড়ি জমান।সেখানে আশেপাশের বন্ধুরা এসে তার পাশে দাঁড়ান। কেউ থাকার জন্য ঘর দেন,কেউ খরচের জন্য অর্থ দেন। এভাবেই মুম্বাইতে থিতু হন তিনি।বছর না ঘুরতে মুম্বাই ফিল্ম পাড়ায় চারটি সিনেমায় কাজের সুযোগ পেয়ে যান শাহরুখ। হেমা মালিনির দিল আশনা হ্যায়’ নামের সিনেমার মধ্যে দিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।তবে ১৯৯২ সালের জুনে রাজ কানওয়ার এর দিওয়ানা ছবি মুক্তির পরপর রাতারাতি জনপ্রিয়তা পেয়ে যান। সেই সঙ্গে পেয়ে যান ফিল্ম ফেয়ারে সেরা নবাগত অভিনেতার পুরস্কার।এরপর শুধুই এগিয়ে যাওয়া আর অসামান্য সাফল্যের গল্প।রাজু বান গায়া জেন্টলম্যান, বাজিগর,ডর, কাভি হা কাভি না, করণ অর্জুন, দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, কাভি খুশি কাভি হাম সিনেমাগুলো তাকে বলিউডের সবচেয়ে বড় তারকায় পরিণত করে।শত ভাঙন-গড়নের ভেতর দিয়ে গেলেও নিজের লক্ষ্যে ছিল সবসময় অটুট আর সৎ। তাই হয়ত সৌভাগ্য তাকে ছেড়ে পালাতে পারেনি।বিশাল শূন্য থেকে সীমাহীন হওয়ার বিস্ময়কর উদাহরণ কিং খান। তাই শুধু সিনে জগতে নয়, যেকোনও মানুষের জন্যই তার জীবন আপাদমস্তক অনুপ্রেরণার তীর্থভূমি।কাক গণনার চরিত্র থেকে বলিউড বাদশায় পরিণত হওয়া এই তারকার নাম বিশ্বজুড়ে রয়ে যাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। তার সাফল্য গাথা উচ্চারিত হবে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে।



