

বলিউডের বহুল আলোচিত সিনেমা শাহরুখ-দীপিকা অভিনীত ‘পাঠান’। তবে এর 'বেশরম রঙ' নামের গানটিকে ঘিরে, আলোচনার চেয়ে সমালোচনাই যেনো বেশি হয়েছে। গানের কথা এবং দিপীকার পোশাক নিয়ে উঠেছে নিন্দার ঝড়। ভারতের বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠনের তোপের মুখে পড়েছে গানটি। দিপীকার পরনে গেরুয়া রঙের বিকিনীকে ঘীরে আপত্তি উঠেছিলো। মূলত গেরুয়া তাদের কাছে পবিত্র রঙ।এ গানের সাথে 'বেশরম রঙ' নাম জুড়ে দেয়ার কারনে, ক্ষিপ্ত হয়েছে এসব সংগঠনের লোকেরা। বিতর্ককে কেন্দ্র করে ছবি মুক্তির আগেই, পাঠান সিনেমা বয়কটের ডাক দিয়েছে সংগঠন গুলো। শেষ পর্যন্ত সিনেমা ফ্লপের হাত থেকে রেহাই পেতে, মুক্তির আগে গানে কাঁটছাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিচালক। বলিউড সিনেমা ব্যবসা সফল হওয়ার ক্ষেত্রে, গানের ব্যাবহার হয়ে আসছে শুরু থেকেই। সিনেমার একটি গানের পিছনেই খরচ করা হয় লাখ থেকে কোটি রুপি। পরবর্তীতে এসব গান থেকেও সিনেমার আয়ের একটা বড় অংশ উঠে আসে। কিন্তু বেশ কয়েকবারই বলিউডের বিভিন্ন ছবির গান নিয়ে উঠেছে বিতর্ক। শুধু পাঠানের বেশরম গানের জন্যই দিপীকা সমালোচনার শিকার হননি। এর আগেও, 'দাম মারো দাম' সিনেমার আইটেম গানে অভিনয় করেছিলেন তিনি। যেখানে মূখ্য ভুমিকায় ছিলেন অভিষেক বচ্চন এবং বিপাসা বসুর মত সেলিব্রিটিরা। সিনেমার নামে নির্মিত 'দাম মারো দামে'- গানে দিপীকার বোল্ড উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। তবে সেসময় তার পোশাক এবং উপস্থিতির চেয়ে, গানের কথা নিয়ে উঠেছিলো ঘোর আপত্তি। তখনও বেশ কিছু সংগঠন আপত্তি জানিয়েছিল, এ গানে ব্যবহৃত কিছু কথা শ্লীলতাহানিতে প্ররোচনা দিতে পারে। একারণে গানটি বয়কটের কথাও বলেছিলেন তারা। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ''স্টুডেন্ট অফ দ্যা ইয়ার'' ছিলো, বর্তমান সুপারস্টার আলিয়া ভাটের প্রথম সিনেমা। এর প্রায় প্রতিটি গানই ছিলো সুপারহিট। কিন্ত 'রাধে' গান নিয়ে বাঁধ সাধেন একটি দল। তাদের মতে এ গানে এমন কিছু কথা রয়েছে, যেগুলো তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। কারন এর কথা দিয়ে রাধাকে অবমাননা করা হয়েছে। আর এজন্য মামলার জালেও পড়তে হয়েছিল কারান জোহর, এবং গৌরী খানের প্রোডাকশন হাউজকে। ২০০৭ সালে বলিউডের সেনসেশন অভিনেত্রী মাধুরি দিক্ষীত, দীর্ঘ বিরতির পর 'আজা নাচলে' সিনেমা দিয়ে কাম ব্যাক করেছিলেন। কিন্তু তার সে ছবির 'আজা নাচলে, গান নিয়েও হয়েছিলো সমালোচনা। এমনকি তার এই সিনেমা বয়কটের ডাক দেয়া হয়। গানটি প্রথম প্রকাশ করা হলে, উত্তর ও মধ্য প্রদেশে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে সিনেমার নির্মাতারা গানের কিছু কথায় পরিবর্তন আনেন, এবং অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য সকল দর্শকদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। শাহীদ কাপুর এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত কামিনী সিনেমার, ''আজা আজা দিল্লী ছোড়ে..” গানটিও পড়েছিল ব্যাপক সমালোচনার মুখে। এ গানের ক্ষেত্রেও নিষিদ্ধের ডাক দেয়া হয়। এখানে একটি বিশেষ জাতিকে হেয় করার অভিযোগ তোলা হয়েছিলো। যা পরে কিছু শব্দের পরিবর্তন এনে পুনরায় প্রকাশ করা হয়। বলিউডে শুধু বর্তমান সময়ের গানের উপরই রাজনৈতিক সংগঠনের প্রভাব পড়ছে না। অনেক আগ থেকেই এ প্রভাব চলে আসছে। ১৯৯৪ সালে কারিশমা এবং গোবিন্দ অভিনীত, "খুদ্দার" সিনেমার একটি গানকে ঘিরেও উঠেছিলো বিতর্ক।কারিশমা অভিনীত 'বেবি বেবি মুজসে লোগ বলে', গানে মাত্রাতিরিক্ত সেক্সি শব্দের ব্যবহারে, সংস্কৃতি অবমাননা করা হয়েছে বলে দাবি করে একটি সংগঠন। আর তাই এটি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করে তারা। পরে তোপের মুখে, গান থেকে এই শব্দ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নির্মাতা।



