ক্যাম্পাস


জবি ছাত্রী হলে উচ্চ দামে নিম্নমানের খাবার, প্রশাসন নির্বিকার


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৭ মে ২০২২, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

জবি ছাত্রী হলে উচ্চ দামে নিম্নমানের খাবার, প্রশাসন নির্বিকার

মোশতাক তাহসিন, জবি:


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দাম অনেক বেশি, কিন্তু মান খুবই খারাপ। নোংরা পরিবেশে করা হয় খাবার পরিবেশন। পঁচা-বাসি খাবারও মাঝে মধ্যে দেয়া হয়। 


সরেজমিনে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের এ সকল অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। দেখা যায়, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ক্যান্টিনের ভেতর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে খাবার। টেবিলের নিচে ফ্লোরে ঢাকনা ছাড়া রয়েছে রান্না করা তরকারি। এর ওপর ভনভন করছে মাছি। এছাড়া রান্নাঘরে রাখা কাটা কাঁচা মাছ হাতে নেয়ার পর একরকম ভ্যাপসা দুর্গন্ধ এবং নরম দেখা যায়। সেখানে রাখা কাঁচা সবজিও অনেক আগের। এছাড়া ভাতের ঝুঁড়ির পাশেই ধোয়া হচ্ছে ময়লা থালা। এ সময় থালা ধোয়ার ময়লা পানি ছিটকে ভাতের ঝুঁড়িতে পড়তে দেখা যায়। এ সকল দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার সময় দ্রুত ঢাকনা দিয়ে এসব ঢাকতে থাকেন এক ক্যান্টিন কর্মচারী।


এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে হল ক্যান্টিনে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, হলে মাছের তরকারি খেলে মনে হয় শুটকি মাছ। কারণ দুর্গন্ধ বের হয়। এই খাবার কোন স্বাদের না। মুরগির মাংস ধরলে হাতের মধ্যে খুলে যায়। মনে হয় যেন বাসি মুরগি। মিনিকেট চাল বলা হলেও ভাত অনেক মোটা। এটা মিনিকেট চাল হয় কিভাবে। অথচ এই খাবার খেতেই প্রতি মাসে আমাদের বিল আসে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। হল ব্যবস্থাপনা খুবই দুর্বল। অভিযোগ করলেও কোন সমাধান মিলে না বলেন শিক্ষার্থীরা।


এ বিষয়ে হলের ক্যান্টিন পরিচালক নূর মোহাম্মদ মামুনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, হলের খাবারের মান ঠিক আছে, দামও ঠিক আছে। আপনারা অন্য জায়গায় খোঁজ নিয়ে দেখেন। আর আমাদের জায়গা কম বলে প্লেট ধোয়ার জায়গার পাশে ভাতের ঝুঁড়ি রাখা হয়েছিল।


এদিকে সার্বিক বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম বলেন, হলের শিক্ষার্থীদের খাবার মান নিয়ে আমাদের কাছে তেমন কোনো অভিযোগ আসেনি। আর যেসব অভিযোগ আসে সেগুলো আমরা আমলে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করি। তবে আমাদের হলের মেয়েরা খুবই নোংরা অবস্থায় থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা অনেক পরিচ্ছিন্ন থাকলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের শিক্ষার্থীরা অপরিচ্ছন্নভাবে থাকে। এজন্য তারা পিছিয়ে আছে। 


এ সময় হলের ক্যান্টিনে অপরিচ্ছন্নতার কথা জানালে তিনি বলেন, খাবার যেন পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পরিবেশন করা হয়, এ বিষয়ে আমি বারবার বলেছি। মাঝে মধ্যে তদারকিও করি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু করার নেই। হলের প্রভোস্ট আমার কাছে কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী

দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।