ক্যাম্পাস


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী


ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত:২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত


দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।

 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর অপরাজিতা হলের নামাজ কক্ষে একটি গোপন বৈঠকের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে দেখা যায়, তিনজন বহিরাগতসহ সাতজন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হলের কেয়ারটেকার বিষয়টি প্রভোস্টকে জানালে বহিরাগতদের পুলিশে সোপর্দ করা হয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

 

সীমা আক্তার দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি ডিসিপ্লিনের সেশনাল ট্যুরে কক্সবাজারে ছিলেন, আর মাইশা ইসলাম বলেন, তিনি শুধু নামাজ আদায়ের জন্য কক্ষে গিয়েছিলেন।

 

প্রায় ১০ মাস পর, ২০১৬ সালের ৮ আগস্ট তৎকালীন ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. অনির্বাণ মোস্তফাকে সভাপতি করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ২৯ ডিসেম্বর কমিটির প্রতিবেদন জমা হয়, যেখানে পাঁচ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত উল্লেখ করে তাদের বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়।

 

সীমা আক্তার বলেন, “তদন্ত কমিটি আমাকে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেছিল এবং অভিযোগ খারিজের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সেই কাগজই পরে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। রাজনৈতিক সন্দেহের ভিত্তিতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, অথচ কোনো অপরাধ করিনি। আমরা অন্তত অনার্সের সনদ চাই।”

 

২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পরিবর্তনের পর দুই শিক্ষার্থীর আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। লাইফ সায়েন্স স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. গোলাম হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যেই তাদের বক্তব্য ও প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। ড. হোসেন বলেন, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ও প্রমাণ আমরা গ্রহণ করেছি। আশা করছি দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন হবে।”

 

দীর্ঘ দশ বছর পরও ঝুলে থাকা এই বহিষ্কারাদেশ শিক্ষাঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই দুই শিক্ষার্থীর ভাগ্যে কী সিদ্ধান্ত আসে।


সম্পর্কিত

ক্যাম্পাসখুলনা বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।

‘প্রতিবন্ধী’ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসন চালু করলো জাকসু

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি বাসে নির্দিষ্ট আসন সংখ্যা সংরক্ষণ এবং ডেডিকেটেড রিকশার সেবা চালু করেছে।