ক্যাম্পাস


পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে কর্মবিরতিতে যবিপ্রবি শিক্ষক ও কর্মচারী সমিতি।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৮ মে ২০২৪, ০৪:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

পেনশন সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে কর্মবিরতিতে যবিপ্রবি শিক্ষক ও কর্মচারী সমিতি।
মেহেদী হাসান, যবিপ্রবি : পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে যবিপ্রবি শিক্ষক ও কর্মচারী সমিতি।আজ সকালে যবিপ্রবির স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ভবনের সামনে শিক্ষক সমিতি এবং  প্রশাসনিক ভবনের সামনে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে যবিপ্রবি কর্মচারী সমিতি।এতে অচলাবস্থা তৈরী হওয়া দেখা দিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। 
শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন যতদিন আমাদের দাবি মেনে না নেয়া হবে ততদিন এভাবেই আমরা কর্মবিরতি চলমান রাখব। তারা আরও বলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা এর আওতার বাইরে থাকবে। যবিপ্রবি দুইশতাধিক শিক্ষক কর্মবিরতি পালন করছেন। যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, আপনারা জানেন অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারীর আগের পেনশন সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে নিজেদের টাকা দিয়েই এই সুবিধা পাওয়া যাবে যা চরম হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা হয়, দেশের মানুষের জন্য নতুন নতুন উদ্ভাবনে কাজ করে। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কেন টার্গেট করা হল? তিনি বলেন এটি বাস্তবায়ন হলে এই শিক্ষক পেশা তার নিজস্ব স্বকীয়তা হারাবে যার ফলে অযোগ্য রা এই পেশায় আসবে। এবং অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী দেশের বাইরে চলে যাবে। দেশ মেধাবী শিক্ষার্থী হারাবে। তিনি অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবি জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ শিক্ষক ফেডারেশনের সাথে এবং প্রয়োজনে যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি আলাদাভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করবে। 
যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল হাসান বলেন, পরিকল্পিতভাবেই এবং একটি কুচক্রী মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নজর দিয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার জন্য। সবকিছু ঠিক রেখে কেবলমাত্রায় স্বায়ত্তশাসনের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মেধাবীরা এই পেশায় আসতে চাইবেনা এবং অযোগ্যরা এই শিক্ষক পদ দখল করে নিবেন। আজ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করতে চায় না তারা বিসিএস বই পড়তে চাই। তাদের মাথার মধ্যে বিসিএস বিষয়টা এমন ভাবে ঢুকানো হয়েছে তারা এটা ছাড়া কিছুই বোঝেনা। অবিলম্বে তিনি এই প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানান।
যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডক্টর  কামরুল ইসলাম বলেন, আন্দোলন চলছে চলবে যতদিন দাবি আদায় না হবে ততদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা তিনি দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দাবি অবিলম্বে মেনে নিয়ে এই প্রজ্ঞাপন বাতিল করবেন। 
এদিকে সকাল ৯ টায় কাজে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন শতাধিক কর্মচারীরা। তারা কেউ তাদের  কাজে যোগ দেননি। নেতারা বলেন যতদিন তাদের দাবি মেনে না নেয়া হবে আন্দোলন চলমান থাকবে প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে যাওয়া হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দেন। উল্লেখ্য অনেকদিন ধরে বিভিন্ন দাবি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে চিঠি দিলেও তাদের দাবি পূরণ না করায় এবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছে কর্মচারী সমিতি। 
এদিকে শিক্ষক সমিতি ও কর্মচারী সমিতির কর্মবিরতিতে যবিপ্রবিতে অচলাবস্থা তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ সকলেই।

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী

দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।