ক্যাম্পাস


বিশ্বজিৎ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জবি শিবির–সমর্থিত প্যানেলের মানববন্ধন


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

বিশ্বজিৎ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জবি শিবির–সমর্থিত প্যানেলের মানববন্ধন
শিবির সন্দেহে পথচারী বিশ্বজিৎ কুমার দাসকে প্রকাশ্যে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরসহ ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গেটসংলগ্ন শাঁখারীবাজার মোড়ে নবঘোষিত ‘বিশ্বজিৎ চত্বর’-এ এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্যানেলের প্রার্থীদের পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী এবং নিহত বিশ্বজিৎ দাসের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর দিনের আলোয় অসংখ্য মানুষের সামনে ট্যাগিংয়ের অজুহাতে যেভাবে বিশ্বজিৎকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। দীর্ঘ তেরো বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পরিবার পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার পায়নি।

জকসু নির্বাচনে এজিএস পদপ্রার্থী মাসুদ রানা বলেন, যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মিথ্যা ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে একজন নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়, সেই সন্ত্রাসী রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে। রাজনীতির নামে এই অপসংস্কৃতিকে আর কোনোভাবেই জায়গা দেওয়া যাবে না।

শাখা সেক্রেটারি ও জিএস পদপ্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, মামলার রায় ঘোষণার পরও সাজাপ্রাপ্ত অনেক আসামি বিভিন্ন আইনি ফাঁকফোকরের সুযোগে খালাস পাচ্ছে, যা বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। যারা সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে।

ভিপি পদপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আসন্ন মানবাধিকার দিবসকে সামনে রেখে আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—এই হত্যাকাণ্ড শুধু একজন নিরীহ মানুষের মৃত্যু নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ। নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও চলাফেরার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে অবশ্যই নিতে হবে।

মানববন্ধনে উপস্থিত নিহত বিশ্বজিৎ দাসের বড় ভাই উত্তম কুমার দাস বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আমরা বিচারের অপেক্ষায় আছি। দেরি হলেও আমরা সম্পূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত বিচার চাই। তবেই হয়তো পরিবার কিছুটা শান্তি পাবে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে অবরোধ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার পর পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী বিশ্বজিৎ কুমার দাসকে প্রকাশ্যে থামিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রথমিকভাবে আদালত আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে আপিলের রায়ে কয়েকজন আসামি খালাস পান এবং কয়েকজনের সাজা হ্রাস করা হয়। এই রায়ের প্রেক্ষিতেই পুনর্বিচার ও দ্রুত শাস্তি কার্যকরের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে।

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী

দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।