ক্যাম্পাস


বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে শাস্তির দাবি উপাচার্য জাহাঙ্গীর আলমের


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার

বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে শাস্তির দাবি উপাচার্য জাহাঙ্গীর আলমের
১৯৭১ সালের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

উপাচার্য বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। চারবার তালিকা প্রকাশের পরও সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাবে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা ৫৬০ জন। যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ততদিন থাকবে। চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে এ দেশের সূর্যসন্তানদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। শুধু ১৪ ডিসেম্বর নয়, পুরো মুক্তিযুদ্ধজুড়েই দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্য ও মেধাবী মানুষকে দেশীয় দোসর ও আন্তর্জাতিক সহায়তায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেই ক্ষতি আজও পূরণ হয়নি। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ আরও অনেক এগিয়ে যেত।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, তাদের আদর্শ অনুসরণ করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই আমরা শহীদদের আত্মত্যাগকে সার্থক করতে পারব।

এর আগে সকালে দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে কালো ব্যাজ ধারণ করে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী কালো পতাকা উত্তোলন করেন।

পরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ‘চির উন্নত মম শির’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপাচার্য। এরপর বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্য রাখেন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এইচ এম কামাল। এছাড়া শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি সাহা এবং দোলন-চাঁপা হলের প্রভোস্ট উম্মে ফারহানা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অগ্নি-বীণা হলের প্রভোস্ট মো. হারুনুর রশিদ।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী

দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।