ক্যাম্পাস


মাদক প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা চেয়ে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

মাদক প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা চেয়ে শেকৃবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

মাদকের বিস্তার রোধ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ রক্ষার দাবিতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় ‘সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন অনুষদ ও বর্ষের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

 

মানববন্ধন শেষে স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ক্যাম্পাসে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা, কার্যকর শাস্তির বিধান এবং নিয়মিত তদারকির অভাব রয়েছে। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র ক্যাম্পাসে মাদকের বিস্তার ঘটাচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে।

 

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে মাদকের সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান প্রণয়ন এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ছাত্রত্ব বাতিলসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর, নিয়মিত ও আকস্মিক ডোপ টেস্ট চালু, মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স গঠন এবং ক্যাম্পাসজুড়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা।

 

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও স্নাতক সনদ প্রদানের আগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানানো হয়।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে নবীন শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে মাদকের দৌরাত্ম্য বাড়ছে এবং বিকেল হলেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানান।

 

বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারাও বক্তব্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন, মাদকসেবনকারী ধরা পড়লেও অনেক ক্ষেত্রে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবীর বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীরা সঙ্গদোষে বিপথে চলে যাচ্ছে, অথচ প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি নেই।

 

জাতীয় ছাত্রশক্তির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম পাভেল বলেন, একটি গোষ্ঠী ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্যাম্পাসে মাদক সরবরাহ করছে। বারবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী ইসলাম নাঈম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাইরের মাদক সরবরাহকারীদের যোগসূত্র রয়েছে, যা সবার জানা থাকলেও বিচারিক পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

 

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে শেকৃবি ক্যাম্পাস মাদকমুক্ত ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গনে রূপ নিতে পারে।


সম্পর্কিত

ক্যাম্পাস

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী

দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।