ক্যাম্পাস
বুটেক্সের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়: ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রথম সমাবর্তন
.webp)
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে এক স্মরণীয় অধ্যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৭ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বহুল প্রত্যাশিত আয়োজন ঘিরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আনন্দ, আবেগ ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষা ও টেক্সটাইল খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজ থেকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে বুটেক্স। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতায় এতদিন সমাবর্তন আয়োজন সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক মো. মাসউদ আহমেদের সময়ে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হলেও চতুর্থ উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহ আলিমুজ্জামানের মেয়াদে নির্ধারিত তারিখ বাস্তবায়ন করা যায়নি। অবশেষে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে এই ঐতিহাসিক আয়োজন বাস্তব রূপ পাচ্ছে।
প্রথম সমাবর্তন উপলক্ষে বুটেক্সের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৪১তম ব্যাচের প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বর্তমানে একই বিভাগের অধ্যাপক মো. সোহাগ বাবু বলেন, বুটেক্স পরিবারের জন্য এটি এক অবর্ণনীয় আনন্দের মুহূর্ত। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর নিজস্ব ক্যাম্পাসে গাউন ও কনভোকেশন ক্যাপ পরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া তাদের কাছে বিশেষ গর্বের।
অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪১তম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. আমিরুল মোমেনিন বলেন, একজন গ্র্যাজুয়েটের জীবনে সমাবর্তন সবচেয়ে গর্বের দিনগুলোর একটি। এতদিন বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের সেই সুযোগ না থাকলেও এবার প্রথমবারের মতো সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।
টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ ফাহাদ বলেন, বুটেক্সের ইতিহাসের প্রথম সমাবর্তনের অংশ হতে পারাটা তার জন্য অত্যন্ত আবেগের। তবে তিনি প্রথম আয়োজন হওয়ায় ব্যবস্থাপনা যেন শিক্ষার্থী-বান্ধব ও সুশৃঙ্খল হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।
বর্তমান শিক্ষার্থীরাও এই আয়োজনকে বুটেক্স পরিবারের দীর্ঘদিনের আবেগ ও অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রথম সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সমাবর্তন আয়োজনের ধারাবাহিকতা শুরু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবর্তনকে ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও অংশগ্রহণকারীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বহুল প্রতীক্ষিত এই প্রথম সমাবর্তন যেন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়, বরং বুটেক্স পরিবারের জন্য একটি স্মরণীয় মিলনমেলায় পরিণত হয় এটাই শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের অভিন্ন প্রত্যাশা।
জনপ্রিয়
ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন
একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
.jpg)
ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।
.jpg)
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী
দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।


.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)