ক্যাম্পাস


সাংবাদিককে ‘প্রশ্নফাঁসকারী’ আখ্যা, ক্ষমা না চাইলে ব্যবস্থার হুমকি জবি উপাচার্যের


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার

সাংবাদিককে ‘প্রশ্নফাঁসকারী’ আখ্যা, ক্ষমা না চাইলে ব্যবস্থার হুমকি জবি উপাচার্যের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে এক সাংবাদিককে হেনস্তা ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে অভিযুক্ত করার ঘটনায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আনওয়ারুস সালামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে ক্ষমা না চাইলে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম।

 

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে। স্নাতক ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে গণিত বিভাগের ১১৯ নম্বর কক্ষে উপাচার্যের পরিদর্শনের সময় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অনুপম মল্লিক আদিত্যসহ কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্যে ছবি সংগ্রহ করতে উপাচার্যের সঙ্গে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করেন অনুপম মল্লিক আদিত্য ও আরও দুই সাংবাদিক। এ সময় সেখানে জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক, একজন ক্যামেরাম্যান এবং অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। ছবি তোলার একপর্যায়ে জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক ড. মুহাম্মদ আনওয়ারুস সালাম হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিক অনুপম মল্লিক আদিত্যকে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন এবং তাঁকে পরীক্ষাকক্ষ ত্যাগ করতে বলেন।

 

পরে ওই সাংবাদিককে উপাচার্যের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম তাঁকে জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালকের কাছে ক্ষমা চাইতে নির্দেশ দেন। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ বিষয়ে অনুপম মল্লিক আদিত্য বলেন, তিনি কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য ছবি তুলছিলেন। ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা জনসংযোগ দপ্তর থেকে সময়মতো ছবি ও তথ্য সরবরাহ করা হলে সাংবাদিকদের পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের প্রয়োজন হতো না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ছবি তোলার কারণে একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক কর্তৃক তাঁকে ‘প্রশ্নফাঁসকারী’ আখ্যা দেওয়া চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, প্রেসক্লাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিড় এড়াতে একাই তিনি পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করেন। তবে সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিএনসিসির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরাও পরীক্ষাকক্ষে অবস্থান করছিলেন, যদিও তাঁদের দায়িত্ব মূলত হলের বাইরে সীমাবদ্ধ থাকার কথা।

 

ভুক্তভোগী সাংবাদিক বলেন, উপাচার্য স্যারের উপস্থিতিতেই আমাকে প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এটি আমার পেশাগত মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সম্মানের ওপর সরাসরি আঘাত।

 

এ সময় জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক ড. মুহাম্মদ আনওয়ারুস সালাম সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, তুমি যদি জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী হতে, তাহলে এমন পরিস্থিতি হতো না। প্রফেশনালিজম বোঝা দরকার।

 

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, তাকে তাঁর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে আমরা আমাদের মতো করে ব্যবস্থা নেব।

 

ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে এ ধরনের আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।


সম্পর্কিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়প্রশ্নফাঁসজবিসাংবাদিক

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী

দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।