ক্যাম্পাস


বিএনপির জনসভা ঘিরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অচলাবস্থা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা


ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত:০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

বিএনপির জনসভা ঘিরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অচলাবস্থা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ছবি: সংগৃহীত


খুলনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর জনসভাকে কেন্দ্র করে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় ধরে স্থবিরতা দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর তালাবদ্ধ ও ফাঁকা থাকায় স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে নানা কাজে এসে সেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই প্রশাসনিক ভবনের বেশ কয়েকটি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু দপ্তরে লোকজন এলেও দুপুরের আগ পর্যন্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ অফিস কার্যত অচল ছিল। ঊর্ধ্বতন শিক্ষক-কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বড় অংশ নিজ নিজ দপ্তরে অনুপস্থিত থাকায় পরীক্ষাসংক্রান্ত ও একাডেমিক জরুরি কাজ নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়।

 

এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সকাল থেকে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরছি। কিন্তু কোথাও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরীক্ষার জরুরি একটা কাজ ছিল, সেটা আজ করা সম্ভব হয়নি।”

 

জানা গেছে, নগরীর খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই ওই এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরি ও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী জনসভায় অংশ নিতে সেখানে গেছেন। তাঁদের ভাষায়, “আজ বেশির ভাগ অফিসেই কাউকে পাওয়া যাবে না।”

 

এ ছাড়া ওই এলাকার আশপাশে বসবাসরত কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সকালে দপ্তরে উপস্থিত হননি বলেও জানা গেছে।

 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯০–এর ৫১(২) ধারা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা রাজনৈতিক মতবাদ পোষণ করতে পারলেও তা প্রচার করতে পারবেন না এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। এই বিধান থাকা সত্ত্বেও কর্মদিবসে দপ্তর ফাঁকা রেখে রাজনৈতিক সমাবেশে অংশগ্রহণ কতটা আইনসম্মত এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেট শাখার পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি সমাবেশস্থলে গিয়েছিলেন ঠিকই, তবে উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের বাসায় দাওয়াতে অংশ নেওয়া। তাঁর দাবি, ট্রেজারারের বাসা সমাবেশস্থলের কাছেই হওয়ায় খাওয়া-দাওয়ার পর উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে তিনি সেখানে কিছু সময় ঘুরে দেখেন।

 

তবে এই বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নুর উন নবী বলেন, “আমার বাসায় কোনো দাওয়াতের আয়োজন ছিল না।” তিনি আরও জানান, তাঁর বাসা খালিশপুর এলাকায় এবং সমাবেশস্থলের একেবারে কাছেই হওয়ায় আলাদাভাবে সেখানে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

 

অন্যদিকে, সমাবেশ চলাকালে নিজ দপ্তরে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, তাঁর মেয়ে ওই এলাকায় পড়াশোনা করে, তাকে দেখতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

 

এ প্রসঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ক্যাম্পাসের ভেতরে রাজনৈতিক মিছিল, সভা, সমাবেশ বা রাজনৈতিক নেতাকে এনে বক্তব্য দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়াকে তিনি রাজনৈতিক প্রচারণার মধ্যে দেখেন না। তাঁর মতে, এটি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম ওমরাহ হজ পালনের জন্য আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটিতে রয়েছেন। ফলে কর্মদিবসে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রাজনৈতিক সমাবেশে অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সৃষ্ট শূন্যতা নিয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

নাগরিক হিসেবে রাজনৈতিক সমাবেশে অংশগ্রহণের অধিকার এবং কর্মদিবসে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের বাধ্যবাধকতা এই দুইয়ের ভারসাম্য কোথায় হওয়া উচিত, তা নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দপ্তরগুলো দীর্ঘ সময় অচল থাকায় শিক্ষার্থীদের যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়বদ্ধতা ও সেবার ধারাবাহিকতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।


সম্পর্কিত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়জনসভাবিএনপি

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী

দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।