ক্যাম্পাস
জাবিতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক নবযাত্রার সূচনা

ছবি: দূরবিন নিউজ
দীর্ঘ ১৭বছরের শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার পাদদেশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিটির আয়োজন ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
আয়োজনে অংশগ্রহণ করে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক শামীমা সুলতানা বলেন, দল-মত নির্বিশেষে, সবারই অংশগ্রহণে আমি চেয়েছি যে, আজকে যে আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রাটা শুরু হয়েছে রাষ্ট্রের, সেই রাষ্ট্রের যেন আমরা সবাই অংশীজন হতে পারি এবং আমরা যেন একটি সুন্দর নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পারি। একটি সুন্দর নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশাতেই আমার এই ডাক দেওয়া যে, সবাইকে একত্রিত করা।
এখানে দল-মত নির্বিশেষে এবং বর্ণ নির্বিশেষে সবাই উপস্থিত হয়েছেন, সেজন্য আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আজকে যিনি রাষ্ট্রনায়ক হতে চাচ্ছেন, তার প্রতি যে আমাদের অনুরোধটা থাকবে, এই দেশটা যেন আমাদের সবার হয়ে ওঠে। আমরা যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছিলাম, এই দেশটাতে সকল ধরনের নারী-পুরুষ, সকল ধরনের বৈষম্য দূর হোক, সেজন্যই আসলে আমরা এই প্রথমেই, আমরা এরকম করে দল-মত নির্বিশেষে, হিন্দু-মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সবাই মিলে একত্রিত হয়ে আমরা এই জাতীয় সংগীত দিয়েছি। আমার দেশটা ভালো থাকুক, সেটাই আমাদের একমাত্র ইচ্ছা।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সবসময় বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দুঃসময়ে অথবা অন্য কোনো সংকট তৈরি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সবার আগে প্রতিবাদে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এটা সবাই জানে। আজকে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করছে। নতুন সূর্য উঠেছে। আমি শুরুতেই মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭১-এ যারা রক্ত দিয়ে যুদ্ধ করে আমাদেরকে এই দেশ উপহার দিয়েছেন, তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং ২০২৪-এ যারা এই অসুস্থ স্বাধীন বাংলাদেশকে আবার সুস্থতার পথে ধাবিত করার জন্য প্রাণ দিয়েছে, এখনো পঙ্গু হয়ে হাসপাতালে জীবনের সাথে যুদ্ধ করছে, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।
নতুন বাংলাদেশ তৈরি করার জন্য, আমরা যে প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলাম, আমাদের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলাম, আমরা আজকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবার জাতীয় সংগীতের আয়োজন করে, আমাদের অঙ্গীকার রক্ষা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমরা জানি, আমাদের জেনজি যে রক্ত দিয়ে পরিবর্তনের এই সুযোগটি এনে দিয়েছে, আমাদের অভিভাবকেরা সেই সুযোগটি কাজে লাগাবে। আর সেই অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করার জন্যই জাতীয় সংগীতের আজকের আয়োজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।
আয়োজনটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক শামসুল আলম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান, গণিত বিভাগের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, প্রক্টর একেএম রাশিদুল আলম, আইন ও বিচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তামান্না আজিজ তুলিসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, সদস্য-সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিকসহ অন্যান্য ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
- ইফফাত রাইসা নূহা
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন
একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের রক্ত থেকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য শুধুই একটি তারিখ নয়, এটি ছিল মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গের দিন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষার মর্যাদা, ভাষার সঠিক ব্যবহার ও শহিদ মিনারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
.jpg)
ফুলের শ্রদ্ধা নাকি জ্ঞানের ভাষা? খুবিতে বাংলার অবস্থান
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারির সকাল শুরু হয় নীরব শ্রদ্ধায়। শহীদ মিনারের পাদদেশ পুষ্পস্তবকে ভরে ওঠে, শিক্ষার্থীদের সাদা-কালো পোশাক আর কালো ব্যাজে ফুটে ওঠে শোকের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মরণে ধ্বনিত হয় প্রতিজ্ঞা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দলের কর্মীর নাক ফাটিয়ে পালানোর অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল-এ ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ দলের কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হন।
.jpg)
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কারের দশ বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় দুই শিক্ষার্থী
দীর্ঘ এক দশক পর ছাত্রত্ব ফিরে পেতে এবং অনার্স সনদ সংগ্রহের সুযোগ পেতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইসলামী ছাত্র সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে বহিষ্কৃত সীমা আক্তার (১২০৬৪৬) ও মাইশা ইসলাম (১৩১১০৫) গত বছরের ১ জানুয়ারি রেজিস্ট্রারের কাছে বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার, বিএসসি সনদপত্র উত্তোলনের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন।


.jpg)


.webp)

.jpg)

.jpg)