ক্যাম্পাস


ভর্তি অনিয়ম প্রকাশের পর মাস্টার্স ভর্তি স্থগিত করল মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়


ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

প্রকাশিত:০১ মে ২০২৬, ০২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার

ভর্তি অনিয়ম প্রকাশের পর মাস্টার্স ভর্তি স্থগিত করল মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়

ভর্তি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশের পর এক শিক্ষার্থীর মাস্টার্স ভর্তি স্থগিত করার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তৌফিকুল ইসলাম আশিকের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি জালিয়াতি ও প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভর্তি থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, শৃঙ্খলাভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগের কারণে তার ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্ট অ্যান্ড শিপিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা আশিক দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনিয়ম, স্বচ্ছতার ঘাটতি ও ভর্তি প্রক্রিয়ার অসঙ্গতি নিয়ে কাজ করেছেন। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পর ভর্তি জালিয়াতি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই তিনি প্রশাসনের নজরে আসেন বলে জানা গেছে।

 

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে তার মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়টি জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, আশিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে পল্লবী থানা-তে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার ভর্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেরিন বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে আশিকের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের বিবেচনায় রয়েছে।

 

তবে আশিক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। তার ভাষায়, দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে যাতে তিনি মাস্টার্সে ভর্তি হতে না পারেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের পরিবেশ সীমিত এবং সমালোচনামূলক বক্তব্যের কারণে আগেও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।

 

ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন শিক্ষার্থীকে তার সাংবাদিকতার কারণে একাডেমিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হলে তা শিক্ষাঙ্গনে স্বাধীন মতপ্রকাশের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করবে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং একাডেমিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।


সম্পর্কিত

ক্যাম্পাসভর্তি অনিয়মমেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়

জনপ্রিয়


ক্যাম্পাস থেকে আরও পড়ুন

জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে স্টামফোর্ডে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। সংগঠনের সহ-সভাপতি আল মামুনের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির আহ্বায়ক সম্পদ, সদস্যসচিব মাহফুজ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির (জবিরিইউ) কার্যনির্বাহী কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি এবং উপদেষ্টা মণ্ডলীর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে আবু বকর সম্পদকে সংগঠনের আহ্বায়ক এবং মাহফুজুর রহমানকে সদস্যসচিব নির্বাচিত করা হয়েছে।

শিক্ষাছুটি শেষে দেশে ফেরেননি বাকৃবির ১২ শিক্ষক, বকেয়া ৪ কোটি ৭ লাখ টাকা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিভিন্ন বিভাগের ১২০ জন শিক্ষক বর্তমানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিদেশে শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নির্ধারিত ছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ১২ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষাছুটির বন্ড ভঙ্গের অভিযোগে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে তাঁদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা প্রায় ৪ কোটি ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৮০১ টাকা।

ইইউবির সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

বেসরকারি ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি)-এর সাবেক ট্রাস্টি বোর্ডের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, সম্পদ তসরুপ, সনদ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেটরস। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম, ১০ তলা একটি ভবন এবং প্রায় ৩০ কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্লোর তসরুপের বিষয়।