প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি নেননি ১৫ প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা

দূরবীন ডেস্ক


সরকারি ব্যয় কমানো ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের উদ্যোগ হিসেবে সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি, চালক ও নিজ খরচে কেনা জ্বালানি ব্যবহার করছেন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসেই নিজের টয়োটা গাড়িতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শেরেবাংলা নগরে যান প্রধানমন্ত্রী। পরে একই গাড়িতে সচিবালয়ে যান তিনি। এরপর থেকে সরকারি পরিবহন পুলের গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের একটি সূত্র বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে পাঁচ প্রতিমন্ত্রী, আট উপদেষ্টা ও দুই বিশেষ সহকারীও সরকারি গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছেন।
সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না এমন পাঁচ প্রতিমন্ত্রী হলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
আট উপদেষ্টার মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, মো. রুহুল কবির রিজভী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তারা পরিবহন পুল থেকে কোনো গাড়ি নেননি এবং নিজস্ব গাড়িতে চলাচল করছেন।
এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন।
পরিবহন পুলের সূত্রের হিসাবে, পাঁচ প্রতিমন্ত্রী, আট উপদেষ্টা ও দুই বিশেষ সহকারীসহ মোট ১৫ জন সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করায় এসব গাড়ির পেছনে বছরে প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহারে এমন সংযম রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ভিআইপি চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে যে ভোগান্তি তৈরি হয়, তা কমাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।





