বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও উপকরণ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতু।
এরই ধারাবাহিকতায় এবার সেতুতে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক পিটিজেড কন্ট্রোল ক্যামেরা।
এ ছাড়া জাজিরা ও মাওয়া প্রান্তে আরও ৩৪টি ডোম ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
গত ৯ আগস্ট, মঙ্গলবার এসব ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
পিটিজেড ক্যামেরা সেতুর দুই প্রান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাহায্য করবে।
এই ক্যামেরায় একই সঙ্গে তিনটি ফিচার কাজ করবে। এটি যে কোনো স্থানের সম্পূর্ণ কভারেজ দিতে সক্ষম।
ক্যামেরাটি ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত চারদিকে সমানভাবে ঘুরতে পারে। এতে একই সাথে ম্যানুয়ালি প্যান, টিল্ট, জুম ইন এবং জুম আউট করা যাবে।
পদ্মা সেতু দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়ি চলাচল করে। যার কারণে সেতু এলাকায় প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়।
পিটিজেড কন্ট্রোল ক্যামেরা এ যানজট সমস্যা সমাধানে ভুমিকা রাখবে। অত্যাধুনিক এই সিসি ক্যামেরা প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজটের চিত্র দেখাতে পারবে।
এছাড়াও পদ্মা সেতু এলাকায় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটলে সহজেই ক্যামেরায় তা ধরা পড়বে। ফলে কতৃপক্ষ সে অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।
পদ্মা সেতু এলাকায় বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, সেই দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটেছে সেটিও সহজেই শনাক্ত করতে পারবে এই ক্যামেরা।
এছাড়াও দুই পাড়ের টোল প্লাজার ভিতরে নিরাপত্তার জন্য ক্যাশ বুথ ও বিভিন্ন জায়গায় আরও ৩৪টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
যান চলাচলের জন্য পদ্মা সেতু খুলে দেওয়ার পর একাধিকবার সেতুর ওপরে ও দুই পাড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টোলপ্লাজার বক্স।
আর তাই দুর্ঘটনা রোধ, সেতুর টোল আদায়, সংরক্ষণ এবং আধুনিকায়নের কাজে আরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
পিটিজেড কন্ট্রোল ক্যামেরা বসানোর মাধ্যমে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা আগের থেকে বেশি নিরাপদ হয়েছে বলে দাবী করছেন কতৃপক্ষ।
তবে এখানেই শেষ নয়, পদ্মা সেতুকে পুরোপুরিভাবে বিশ্বমানের ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
পুরো সেতুতে বসানো হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘অ্যাডভান্স ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’। এ সিস্টেমের মাধ্যমে কন্ট্রোল রুমে বসেই অপারেশন ও ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এরই মধ্যে টোল আদায় ও সেতুর সংরক্ষণ আধুনিকায়নে জরিপ শেষ হয়েছে। এখন নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ক্যামেরা লাগানোর কাজ শেষ করার আশার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।
এটি শেষ হলে সেতুতে নজরদারিসহ গাড়ির নম্বর প্লেট আইডেন্টিফিকেশন, গাড়িটি কত কিলোমিটার বেগে যাচ্ছে- সবকিছুই সংরক্ষণ করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৫ জুন দেশের দীর্ঘতম পদ্মাসেতু উদ্বোধন করেন। পরদিন থেকে এ সেতু দিয়ে পদ্মা পারাপার শুরু হয়।
তবে সেতুতে কিছু খুঁটিনাটি কাজও চলছে। তাই যানবাহনের গতিসীমা ৮০ থেকে কমিয়ে ৬০ করা হয়েছে।
দ্বিতল পদ্মা সেতুর ওপরে সড়ক পথের কাজ শেষ হওয়ায় এবার রেলপথ স্থাপনের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
আগামী বছরের জুনে কমলাপুর থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত পদ্মাসেতুর উপর দিয়ে ট্রেন চলাচল করার লক্ষ্যে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে।