মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) প্রায় ২ কোটি ৬১ লাখ ৮২ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর ২০২৫) কুষ্টিয়া জেলা ও সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকেলে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশন এলাকায় অভিযান চালায় ব্যাটালিয়ন সদরের একটি বিশেষ টহল দল। নায়েব সুবেদার মো. আমিরুজ্জামান–এর নেতৃত্বে বেনাপোল থেকে ঢাকাগামী ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেন তল্লাশি করে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় এলএসডি ৫ বোতল (৫০ এমএল) এবং ১ কেজি ফরচুন বাসমতি চাল উদ্ধার করা হয়। এসব মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখ ৪৮০ টাকা।
এর আগে, গত ১৪ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে চরচিলমারী বিওপি–এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ১৩৬ বোতল চকো সিরাপ আটক করা হয়। সীমান্ত পিলার ৮৪/২-এস–এর কাছাকাছি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ডিগ্রীর চর মাঠপাড়া এলাকায় নায়েক সজল কুমার–এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধারকৃত এসব সিরাপের আনুমানিক মূল্য ৫৪ হাজার ৪০০ টাকা।
একই দিন দুপুর ২টা ১০ মিনিটে প্রাগপুর বিওপি–এর আওতাধীন সীমান্ত পিলার ১৪৮/৩-এস সংলগ্ন চুলকানী ঘাট এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় বাংলাদেশি ১১০ কেজি পিয়াজের ফুল ও একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়। হাবিলদার (সিগন্যাল) মো. আইয়ুব হোসেন–এর নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে উদ্ধারকৃত মালামালের সিজার মূল্য আনুমানিক ১৮ হাজার টাকা।
এছাড়া, সোমবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কাজিপুর বিওপি–এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ১৪৬/৩-এস সংলগ্ন কাজিপুর বর্ডারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৮ বোতল মদ আটক করা হয়। হাবিলদার মো. আসাদুজ্জামান–এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধারকৃত মদের আনুমানিক মূল্য ১২ হাজার টাকা।
একই দিনে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে চল্লিশপাড়া বিওপি–এর আওতাধীন সীমান্ত পিলার ৮৯/২-এস থেকে প্রায় ৯০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চরপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৮ কেজি গাঁজা (৫টি গাঁজার গাছ) উদ্ধার করা হয়। নায়েক জীবন কুমার–এর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক মূল্য ৯৮ হাজার টাকা।
বিজিবি জানায়, এসব অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ২ কোটি ৬১ লাখ ৮২ হাজার ৮৮০ টাকা। মালিকবিহীন অবস্থায় আটককৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংসের লক্ষ্যে ব্যাটালিয়ন সিজার স্টোরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশি পিয়াজের ফুল, বাইসাইকেল ও বাসমতি চাল সংশ্লিষ্ট কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি মাদক পাচার ও চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও সীমান্ত এলাকায় অভিযান অব্যাহত রেখে চোরাকারবারি ও মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।