দেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে বিরাজমান চাঁদাবাজি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী চাঁদাবাজি ও অনিয়ম বন্ধ করা না গেলে সরকারের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা ও নির্বাচনী ইশতেহার বিফলে যাবে।
রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে চারটি অগ্রাধিকার বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে প্রথম ও প্রধান দাবি হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কার্যকর উন্নয়ন এবং চাঁদাবাজি নির্মূলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাসকিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে ব্যবসায়ীদের কারখানা থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। চলতি পথে ছোট নৌকা বা পরিবহন ঘিরে কারা চাঁদা আদায় করছে, তা চিহ্নিত করে কঠোরভাবে দমন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভার পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে বিনিয়োগ ও উৎপাদন ব্যাহত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চাঁদাবাজির প্রভাব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, উৎপাদক পর্যায়ে যে সবজি ২ টাকায় বিক্রি হয়, চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তা ভোক্তাদের ৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে এর চূড়ান্ত বোঝা সাধারণ মানুষের ওপরই বর্তায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজি শুধু রাস্তাঘাট বা ঘাটে সীমাবদ্ধ নয়; ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর ও ভ্যাট অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা খাতেও অনিয়ম প্রবেশ করেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রশাসনিক সংস্কার ও জবাবদিহিতা জোরদারের দাবি জানান তিনি।
ডিসিসিআই সভাপতির মতে, দেশের প্রায় ২৬ লাখ বেকার যুবককে ক্ষুদ্র শিল্প ও স্টার্টআপ খাতে যুক্ত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে চাঁদাবাজির প্রবণতা কমবে। বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা না করে কর্মসংস্থানের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া অনিচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের ব্যবসায় ফিরিয়ে আনতে চলতি মূলধন সহায়তা ও ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে রাখার আহ্বান জানান তাসকিন আহমেদ। ব্যবসার খরচ কমানোর সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

.jpg)
.jpg)



.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)

