সারাদেশ


সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধে অনিয়মের অভিযোগ, দুর্নীতি বন্ধে ১০ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি


জেলা প্রতিনিধি

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত:১৪ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার

সুনামগঞ্জে ফসল রক্ষা বাঁধে অনিয়মের অভিযোগ, দুর্নীতি বন্ধে ১০ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ১০ দফা দাবিতে প্রতিবাদ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ‘হাওর নদী রক্ষা আন্দোলন’ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি।

 

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার (ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন) এলাকায় সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

 

কর্মসূচিতে সংগঠনের সহসভাপতি শাহ কামাল মাঠপর্যায়ের ১১টি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। পরে সংগঠনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

 

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ফসল রক্ষা বাঁধের সার্ভে প্রাক্কলন কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ছিল না। ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রকৃত অনেক কৃষক এতে সম্পৃক্ত হতে পারেননি।

 

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১৫ ডিসেম্বর জেলার ১২টি উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও বর্ধিত সময় দেওয়ার পরও অধিকাংশ এলাকায় কাজ যথাযথভাবে শেষ হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অগ্রগতির তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতারও মিল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তারা।

 

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, অনেক স্থানে অক্ষত বাঁধ প্রকল্পেও অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়। পাশাপাশি বেশ কিছু ক্লোজার বাঁধ নির্মাণে বালু কাঁদাযুক্ত মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। কোথাও কোথাও পুরোনো বাঁধের মাটি মেশিন দিয়ে তুলে আবার ব্যবহার করে কাজ শেষ করার অভিযোগও তোলা হয়।

 

আন্দোলনের নেতারা দাবি করেন, জেলার হাওর রক্ষা বাঁধের অন্তত ১১০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজারের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া হাওরের কান্দা ফসলি জমির ওপরের মাটি কেটে নেওয়ায় আবাদি জমির পরিমাণ উর্বরতা কমছে এবং গো-চারণ ভূমিও হুমকির মুখে পড়ছে।

 

কর্মসূচি থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে যথাসময়ে সার্ভে প্রাক্কলন সম্পন্ন করা, পিআইসি গঠনে স্বচ্ছতা কার্যকর গণশুনানি নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাতিল, দুর্নীতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।

 

এছাড়া হাওরে ফসলি জমি কাটার নামে মাটি লুট বন্ধ, অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্প পুনঃতদন্ত, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সুইচ গেইট স্থাপন, খাল নদী খনন এবং হাওরে উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রকাশের দাবিও জানানো হয়।

 

কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্ত রঞ্জন তালুকদার, সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, ইকবাল কাগজী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর আলম, জেলা সহসভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল মুন্সী, অ্যাডভোকেট দীপঙ্কর বনিক, সুহেল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দিন মো. আকিক মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাছির, ইমরান হোসেন এবং বাঁধ বিষয়ক সম্পাদক মহসিন আলমসহ বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দ।

 

বক্তারা বলেন, হাওরাঞ্চলের কৃষি পরিবেশ রক্ষায় রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। হাওর রক্ষায় অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগঠনটি ভবিষ্যতেও আন্দোলন চালিয়ে যাবে।


জনপ্রিয়


সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন

চট্টগ্রামে ৫৪ রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন সম্পন্ন

লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং ডাইনামিক সিটি ও সালমা আদিল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রামে ৫৪ জন রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম লায়ন্স চ্যারিটেবল চক্ষু হাসপাতাল ও চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে দুই ধাপে এসব অস্ত্রোপচার পরিচালনা করা হয়।

নেত্রকোণায় নিজ বাসায় নারী খুন, স্বামী-ছেলেকে কুপিয়ে আহত; আটক ১

নেত্রকোণা শহরে নিজ বাসায় এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী ও ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পূর্বধলায় হামলা ও মামলার প্রতিবাদে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ভোলা হাসপাতালে শিশু বিভাগে এক চিকিৎসকের ওপর চাপ, সেবা নিয়ে রোগীদের অভিযোগ

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগে চিকিৎসক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। বহির্বিভাগ, ভর্তি রোগী এবং হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা কার্যত একজন চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সেবা নিয়ে ক্ষোভ ও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।