সারাদেশ
আশুলিয়ায় পরিত্যক্ত বাড়িতে ঘোড়া জবাই করে রেস্তোরাঁয় সরবরাহের অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন

ঢাকার আশুলিয়ার তৈয়বপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে রাতের আঁধারে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরু ও খাসির মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিরিয়ানির দোকানে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে উপজেলা প্রশাসন প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, তৈয়বপুর এলাকার একটি ড্রেন ও ময়লার ভাগাড়সংলগ্ন নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িকে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করে আসছিল। বাড়িটি পরিত্যক্ত হওয়ায় দিন ও রাতের বেশির ভাগ সময় জনমানবশূন্য থাকত। এই সুযোগে গভীর রাতে সেখানে ঘোড়া জবাই, চামড়া ছাড়ানো এবং মাংস প্রক্রিয়াজাত করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সীমিত আলো এবং কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হতো। পরে ওই মাংস গরু ও খাসির মাংস হিসেবে বাজারজাত করা হতো।
সম্প্রতি সংবাদকর্মী ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ফলে জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে ঘোড়া জবাইয়ের বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
অনুসন্ধানে স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘোড়া এনে পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতরে নেওয়া হতো। এরপর সারারাত জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের কাজ চলত। ভোর হওয়ার আগেই প্যাকেটজাত করে সেই মাংস সাভার, আশুলিয়া, উত্তরা ও কাশিমপুরের বিভিন্ন হোটেল, সাধারণ খাবারের দোকান এবং বিরিয়ানির ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র হাতে কয়েকজনকে ওই বাড়িতে যাতায়াত করতে দেখা যেত। নির্জন পরিবেশ এবং অস্ত্রধারীদের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি। বাড়িটির সামনে ও পেছনে পৃথক দুটি প্রবেশপথ থাকায় অভিযুক্তরা সহজেই যাতায়াত ও পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেত বলে জানান তারা।
ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য আছমা বেগম বলেন, পরিত্যক্ত বাড়িটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গুঞ্জন ছিল। রাতের আঁধারে সেখানে কী হয়, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ ছিল। এখন যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
সারাদেশ থেকে আরও পড়ুন
সঞ্চালন লাইন উন্নয়নকাজে কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন, চলবে পর্যায়ক্রমিক লোডশেডিং
সঞ্চালন লাইন উন্নয়নকাজের কারণে আগামী ২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং হবে। এ সময় নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) এবং পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের মুখে পড়তে পারেন। তবে পুরো সময় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

২৮ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি কারমাইকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের
রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রম আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে দৃশ্যমান না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কক্সবাজারে পর্যটনের মহাপরিকল্পনা, শিথিল হতে পারে উপকূলীয় উন্নয়নের পরিবেশগত বিধিনিষেধ
কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকা ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের পরিবেশগত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প শেষে ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত, স্বচ্ছতার নজির গড়ল আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন
সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।








